‘আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না’

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:১০ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে ভীত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি। দেশটির নেপিদোতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষায় অঙ্গিকারবদ্ধ। শান্তি না আসা পর্যন্ত সেনা অভিযান চলবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চি বলেন, আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না।

রাখাইনে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যে আজ মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর সু চি।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সু চি বলেন, বেশ কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে- এ ধরনের খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে চাই।

এনএলডি নেত্রী জানান, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেও আগ্রহী তিনি।

ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি দেখার জন্য রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানান সু চি। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

সু চি দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অভিযান চালানো হয়নি। সঙ্কট নিরসনে কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়।  

তিনি বলেন, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। রাখাইনের সবার দুর্দশার বেদনা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি।

মিয়ানমার সরকার রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী সু চি।

নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত বলেও জানান সু চি।   

তিনি বলেছেন, যে শরণার্থীরা মিয়ানমারে ফিরতে চায়, ওই চুক্তির আওতায় আমরা যে কোনো সময় তাদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। আর যে শরণার্থীরা মিয়ানমার থেকে গেছে বলে চিহ্নিত হবে, কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার পূর্ণ নিশ্চিয়তা দিয়ে আমরা তাদের গ্রহণ করব। 

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলার পর সামরিক অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ি। তারপর থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চার লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে