এক কক্ষে হবু বর-বধূ, দেখেই মামার গুলি

  অনলাইন ডেস্ক

০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:১২ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

কদিন বাদেই বিয়ে। তাই বিয়ের আগে বরের সঙ্গে কথা বলতে দ্বিধা করেন না কোন মেয়েই। কিন্তু হবু বরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রাণ খোয়ানোর খবর জানেন ক’জন? সম্প্রতি এমন এক ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে।

দুই পরিবারের সম্মতিতে এক সপ্তাহ পরে বিয়ে হবে নাজিরান ও শহিদের। এরই মাঝে শহিদ যান নাজিরানের বাড়ি বেড়াতে। হবু শ্বশুর-শাশুড়ীর সঙ্গে কথা বলার পর হবু স্ত্রীর কক্ষে গিয়েছিলেন তিনি। নাজিরানও তার হবু বরকে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তাদের দুজনের গল্পের মাঝে সেই কক্ষে ঢুকেন নাজিরানের মামা। হবু বর-বধুকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে রাগের মাথায় কোমরে থাকা পিস্তল দিয়ে গুলি করে দেন দুজনকেই। ব্যাস! মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শহিদ ও নাজিরান। শেষ হয়ে যায় দুটি জীবনের গল্প।

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হর-হামেশাই এমন ‘অনার কিলিংয়ের’ ঘটনা ঘটে। এক্সপ্রেস নিউজের খবরে পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ঘটনার শিকার দুজন আত্মীয়। এটি অনার কিলিংয়ের ঘটনা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা দুজনই নাজিরানের আত্মীয়।

পাকিস্তানে অনার কিলিংয়ের ঘটনার বেশির ভাগ শিকার নারী। পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করার কারণে জীবন খোয়াতে হয় অনেক মেয়েকেই। আবার অনেকে নিহত হন সমাজ বহির্ভুত কর্মের কারণে। গত মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের এক যুবক তার বোন ও বোনের স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেন। পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করায় তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়। অনার কিলিংয়ের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দেশটির মডেল কান্দিল বালুচের। নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের কারণে নিজের ভাই গুলি করে হত্যা করে তাকে।  

গত কয়েক বছরে দেশটিতে অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে ৬৫০টি। ধারণা করা হচ্ছে  এই সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, সব ঘটনা গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছায় না বলে জানিয়েছে দ্য হিউম্যান রাইটস কমিশন ফর পাকিস্তান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে