হুমকির মুখে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মৌসুমকে সামনে রেখে হুমকির মুখে রয়েছে সাত লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু। এর মধ্যে আনুমানিক পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার শিশুর বাস বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে। এক লাখ ৮৫ হাজারের আবাস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে বিপাকে পড়বে এই শিশুরা। কেননা এ সময়ে বন্যায় জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো প্লাবিত হতে পারে। এতে সেখানে পানিবাহিত রোগের উপদ্রব বাড়বে। বন্যার কারণে ক্লিনিক, শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশুদের জন্য চালু করা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বন্যার বাইরে বাড়তি হুমকিতে পড়বে রাখাইনে এখনো যেসব রোহিঙ্গারা মাটি কামড়ে পড়ে আছেন তাদের পরিবারের শিশুরা। কেননা রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুনিয়ার সবচেয়ে নিপীড়িত এ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইউনিসেফের জরুরি কর্মসূচির পরিচালক ম্যানুয়েল ফন্টেইন বলেন, ‘প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু মূলত আটকে পড়েছে। তারা হয় সহিংসতার মধ্যেই মিয়ানমারের বাসস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে কিংবা দেশে ফিরতে না পারার ফলে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অসহায়ের মতো ঘুরছে। অথচ এ সংকটের কোনো দ্রুত সমাধান নেই। সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতির উত্তরণে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

ম্যানুয়েল ফন্টেইন বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্ব, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সুযোগসহ সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাড়ি ফিরবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিসেফ। সহিসংতা বন্ধ করা এবং রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রাখাইনের অনেক স্থানে ইউনিসেফসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার না থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এসব শিশুর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে সরকারের নেতৃত্ব ও নজরদারিতে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে স্থানীয়রা ৭৯ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। বিপন্ন এ জনগোষ্ঠীর মানুষদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছে ইউনিসেফ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে