ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত

‘তারা পুড়ছিল, আর্তনাদ করছিল, কেউ কেউ ঝাঁপিয়ে পড়লো’

প্রকাশ | ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৪:১০ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৬:৫১

অনলাইন ডেস্ক

‘বন্ধুদের সঙ্গে কাঠমাণ্ডু ও পোখারা শহরে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। দুপুরে বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে বাম দিকে বেঁকে গেলো। তখন বিমানের ভেতরে থাকা সবাই চিৎকার করতে শুরু করলো। হঠাৎ চমকে পেছনে ফিরে দেখি, বিমানের আগুন ধরে গেছে। এসময় পেছনে থাকা এক বন্ধু আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে বলে। তবে আমরা যতক্ষণে সামনে দৌঁড় দিলাম ততক্ষণে তার গায়ে আগুন লেগে যায়। সে সঙ্গে সঙ্গে নিচে পরে যায়। ‘

নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমসকে এভাবেই ঘটনা বীভৎসতার বর্ণনা করছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক শাহরিন আহমেদ(২৯)। বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ১২ জন যাত্রীর মধ্যে শাহরিন একজন। 

কাঠামাণ্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহরীন আরও জানান, ‘আশেপাশের লোকজনকে দেখছি গায়ে আগুন নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। তারা পুড়ছিল, বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিলো অনেকে। এরইমধ্যে তিন যাত্রী জলন্ত বিমান থেকেই নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটা খুবই ভয়ানক ছিলো। সৌভাগ্যবশত, কেউ একজন আমাকে এই অবস্থা থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসেন।’

পেশায় শিক্ষক শাহরিনের শরীরের ১৮ শতাংশ পুড়ে গেছে।  এছাড়া প্রচণ্ড আঘাতে ডান পায়ের পাতার হাড় সরে গেছে। পায়ের ফোলা কমে গেলেই তার সার্জারি করা হবে বলে জানান হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার নজির খান।

আহত আরেকজন বাংলাদেশি নাগরিক মেহদী হাসান। প্রথমবারের মতো মেয়ে, স্ত্রী ও ভাইসহ বিমানে চড়ে নেপালে যাচ্ছিলেন।  

তিনি বলেন, ‘আমার সিটটি বিমানের একেবারে পেছনের দিকে ছিলো।  যখন দেখতে পেলাম বিমানে আগুন লেগেছে, প্রথমেই আমার পরিবারের দিকে তাকাই। আমরা বিমানের জানলা ভাঙ্গার চেষ্টা করলাম, তবে পারলাম না। স্ত্রীকে বাঁচাতে পারলেও মেয়ে আর ভাইকে হারালাম।’

গতকাল সোমবার কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় ৭১ আরোহীর মধ্যে প্রাণে বেঁচে গেলেন ১২ জন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানান ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।