রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা’ ছড়িয়েছে ফেসবুক : জাতিসংঘ কর্মকর্তা

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০১৮, ১২:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে ফেসবুকের ভূমিকা ছিল জানিয়ে এর সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থা। ফেসবুক এখন ‘দানবে’ পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াংহি লি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ইয়াংহি লি বলেন, সংখ্যালঘু রাখাইনদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নিধনযজ্ঞে ফেসবুকের তৎপরতা ছিলো ব্যাপক। মিয়ানমারের জাতিগত বৌদ্ধদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। তাদের সরকার ফেসবুকের মাধ্যমেই জনগণের কাছে সব খবর ছড়িয়ে থাকে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মিয়ানমার ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সহিংসতা তদন্তের অন্তর্বর্তীকালীন তথ্য প্রকাশ করে। এতে মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান জানান, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে খুব তিক্ততার সঙ্গেই ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়িয়েছে ফেসবুক।

তবে ফেসবুকের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ‘ফেসবুকে ‘ঘৃণাত্মক’ বক্তব্য দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। জাতিসংঘের অভিযোগের বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’ তিনি বলেন, মিয়ানামারে বেশ কয়েকবছর ধরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। তারা সেখানকার সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিয়মিত প্রশিক্ষণও দিয়ে যাচ্ছে।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ফেসবুক সেখানে সব সময় অনেক কাজ করে থাকে। নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে তারা দেশটির স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর সহিংসতা শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই দমন-পীড়নকে ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান বলে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

তবে চলতি বছরে ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারের নেপিদো শহরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সম্পাদিত চুক্তিতে ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বলা হলেও এখনো তা শুরু হয়নি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে