সংস্কার চীনের দ্বিতীয় বিপ্লব : শি চিন পিং

  অনলাইন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৫৭ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী, চলতি বছরের বোয়াও এশিয়া ফোরাম-এর বার্ষিক সম্মেলন গতকাল মঙ্গলবার চীনের হাইনান প্রদেশের বোয়াওতে শুরু হয়েছে। 

এবারের বোয়াও এশিয়া ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘উন্মুক্ত ও নতুনত্বের এশিয়া, সমৃদ্ধ ও উন্নত বিশ্ব।’ 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের দুই সহস্রাধিক অতিথি এ ফোরামে অংশ নিচ্ছে। চীনের শীর্ষ নেতারা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভান দের বেলেন, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতের্তে, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উখনাগিন খুরেলসুখ, নেদারল্যান্ডের  প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহেদ খাকান আব্বাসি, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়ান লোং, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরহিস, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দেসহ অনেকেই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

চলতি বছর হচ্ছে চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের ৪০তম বার্ষিকী। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শি চিন পিং তাঁর মূল ভাষণে বলেন, চীন বিশ্বের জন্য নিজেকে আরও উন্মুক্ত করবে এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম গভীরতর করবে। 

শি চিন এশিয়া ও মানবাজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠন এবং এশিয়া ও বিশ্বের সুন্দর ভবিষ্যত সৃষ্টির প্রচেষ্টায় চীনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

মূল বক্তব্যে শি চিন পিং চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতি কার্যকরের ফলে অর্জিত কৃতিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার সারসংকলন করেন। তিনি সংস্কার ও উন্মুক্তকরণকে চীনের ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটা চীনকে গভীরভাবে পরিবর্তন করার পাশাপাশি বিশ্বের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। 

শি চিন ঘোষণা করেন, চীন বাণিজ্য-শুল্ক কমাবে। আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ-পরিবেশ সৃষ্টি করবে। মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের কাজ জোরদার করবে, আমদানি বাড়াবে। চীনের উন্মুক্তকরণ নীতির সম্প্রসারণ এক সম্পূর্ণ নতুন ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।  

শি চিন পিং বলেন, বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন, সংস্কার ও বিন্যাসের মহান প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, মানবজাতির সামনে অস্থিতিশীলতার উপাদান অনেক বেশি। নতুন দফা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পের বিপ্লব মানবজাতির সামাজিক উন্নয়নে নতুন সুযোগ বয়ে আনার পাশাপাশি, অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। কিছু দেশ ও অঞ্চলের জনগণ এখনো যুদ্ধ ও সংঘর্ষের ছায়ায় জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী ও শিশু এখনো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের শিকার। জলবায়ু পরিবর্তন, মারাত্মক মহামারী এখনো মানবজাতির জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় আমাদের বেছে নিতে হবে উন্মুক্তকরণ বা রুদ্ধদ্বার, এগিয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে যাওয়া।

জটিল ও পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানবজাতি কোন দিকে যাবে? এশিয়ার ভবিষ্যত কোথায়? সি চিন পিং তার ভাষণে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের মূল স্রোত হচ্ছে শান্তি, সহযোগিতা, উন্মুক্তকরণ, মধ্যস্থতা, সংস্কার ও নব্যতাপ্রবর্তন। 

শি চিন বলেন, ‘ঐতিহাসিক স্রোতের ধারা অনুসরণ করে মানবজাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যে আমি মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বহুবার এ নিয়ে মত বিনিময়ও করেছি। আমি আনন্দের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, এ-প্রস্তাব বহু দেশ ও সেসব দেশের মানুষের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দলিলেও তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আমি আশা করি, বিভিন্ন দেশের জনগণ এক মন নিয়ে ও হাতে হাত রেখে মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠন করবে; যৌথভাবে শান্তি, সমৃদ্ধ, উন্মুক্ত ও সুন্দর এশিয়া ও বিশ্ব গঠন করবে।’ 

শি চিন পিং আরও বলেন, চীন বীমা শিল্পকে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে। বিদেশি পুঁজিতে আর্থিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার সীমাবদ্ধতা কমিয়ে আনবে এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার আওতা সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেবে। দেশি-বিদেশি আর্থিক বাজার সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করবে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রের নেতিবাচক তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ করবে। চলতি বছর চীন জাতীয় মেধাস্বত্ব ব্যুরো ঢেলে সাজাবে। আইন ও বিচারশক্তি জোরদার করার মাধ্যমে চীনে বিনিয়োগকারী বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ মেধাস্বত্ব রক্ষায় আরও জোরালো ভূমিকা রাখা হবে। আমদানিকৃত গাড়ির শুল্কের হার হ্রাস করা হবে এবং অন্য পণ্যদ্রব্যের আমদানিশুল্কও কমানো হবে। জনগণের দৈনন্দিন জীবনের  প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের আমদানি বাড়ানো হবে। 

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ প্রস্তাব করেছে। কিন্তু এর সুবিধা ও সাফল্য গোটা বিশ্বের। যদি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ‘একসঙ্গে আলোচনা, একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা, ও একসঙ্গে উপভোগ’-এর মূলনীতি অনুসরণ করে, তাহলে অবশ্যই ‘এক অঞ্চল, এক পথ’কে অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের ধারায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিশাল প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, যা বিভিন্ন দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে