সিরিয়ায় আরও হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন জোট সিরিয়ার তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমন্বয়ে গঠিত জোট গত শনিবার এ হামলা চালায়। দৌমায় রুশ সমর্থিত সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক হামলার জবাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষাবিষয়ক কার্যালয় পেন্টাগন থেকে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ হামলার মাধ্যমে সিরিয়া নিয়ে গত কয়েক দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি-ধমকি বাস্তবে রূপ নিল।

এদিকে সিরিয়ায় আরও রাসায়নিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে রাসায়নিক হামলা না হলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক কার্যালয় পেন্টাগনও হামলার খবর নিশ্চিত করে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তা জেন জোসেফ ডানফোল্ড জানান, কমপক্ষে তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। হামলায় আসাদ সরকারের অন্যতম মিত্র রাশিয়ার সেনাদের ক্ষতির পরিমাণ যেন কম হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে রাশিয়াকে কোনো আগাম তথ্য দেওয়া হয়নি।

ডানফোল্ড আরও জানান, চারটি ‘টর্নেডো’ যুদ্ধবিমান দামেস্কের হোমস শহরের কাছে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। ওই ঘাঁটিতে রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ ছিল। সব মিলিয়ে ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে জানানো হয়, দেশটির সরকারি বাহিনী বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছে।

মার্কিন জোটের হামলার ব্যাপারে রাশিয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেন রুশ কর্মকর্তারা। এ নিয়ে গত শনিবার রাশিয়ার নিন্দা প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে বাতিল হয়ে যায়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে শুধু চীন অবস্থান নিয়েছিল রাশিয়ার পক্ষে। এদিকে রুশ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল জেনারেল সের্গেই রুদস্কি মস্কোয় সাংবাদিকদের বলেন, সিরীয় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটি, শিল্প ও গবেষণা স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা নিশ্চিত হয়েছেন তারা। এর মধ্যে সিরিয়ার প্রতিরক্ষ ব্যবস্থা ৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র পথভ্রষ্ট বা আকাশেই আটকে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ হামলাকে ‘সফল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি পঙ্গু হয়েছে। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে সেগুলো হলো দামেস্কের বারজে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, হোমসের পশ্চিমে হিম শিনশর রাসায়নিক অস্ত্র মজুদাগার ও হিম শিনশর রাসায়নিক অস্ত্র বাঙ্কার। তবে হামলায় ঠিক কেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পরিষ্কার জানা যায়নি। এ নিয়ে গতকাল আলজাজিরার খবরে বলা হয়, এটি এখন পর্যন্ত অস্বচ্ছই রয়ে গেল যে, মার্কিন জোটের হামলায় কেমন প্রভাব পড়েছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাকে কার্যকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি, বাশার আল আসাদকে টার্গেট করে আর হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এর আগে তিনি এটিও বলেছেন, রাসায়নিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র হামলায় প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ঘৌতার দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়। মার্কিন জোট এর জন্য রাশিয়া ও আসাদ সরকারকে দায়ী করে। ওই হামলায় ৭০ জন নিহত হলেও রাশিয়া শুরু থেকে দাবি করে আসছিল, দৌমায় রাসায়নিক হামলার কোনো প্রমাণ নেই।

এ হামলা ‘যথার্থ ও বৈধ’ : তেরেসা মে : সিরিয়ায় চালানো হামলাকে ‘যথার্থ ও বৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এই তিন দেশের সমন্বিত হামলা সফল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মে বলেন, ‘এ যৌথ হামলার মাধ্যমে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো সহ্য করবে না।’

ব্রিটেনের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন করবিন : সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাজ্যের যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা লেবার পার্টির জেরেমি করবিন। গতকাল বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় বিমান হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেবল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যদি হামলায় সমর্থন দেয় সেটাই তিনি সমর্থন করবেন। করবিন বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছি, প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছি এর আইনি ভিত্তিটা কোথায়?’ তিনি বলেন, ‘আইনি ভিত্তি হতে পারে... আত্মরক্ষা অথবা জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে মানবিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে