সাড়ে ৩ ঘণ্টার ঐতিহাসিক বৈঠক করলেন ট্রাম্প-কিম

  অনলাইন ডেস্ক

১২ জুন ২০১৮, ০৮:৪৬ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৮, ১২:০০ | অনলাইন সংস্করণ

সব বিভেদ আর বিদ্বেষ ভুলে বৈঠক করলেন বর্তমান বিশ্বের আলোচিত দুই শীর্ষ নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে বহু আকাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক বৈঠক সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে চলে। এর আগে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ সেন্তাসা দ্বীপের হোটেল দ্য ক্যাপেলোতে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক শুরু হয়।

সমগ্র বিশ্বের দৃষ্টিও এখন সেদিকেই। বৈঠক শেষেই বোঝা যাবে দুই দেশের মধ্যে চলমান দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক কি টিকে থাকবে, নাকি সমঝোতার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবেন এই দুই নেতা।

আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ বৈঠকে বসেছেন ট্রাম্প ও কিম। দুই দেশের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে এটাই প্রথম বৈঠক। তারা যে একটি বৈঠকে বসছেন, এটাই একটা অগ্রগতি।

কিছুদিন আগেও এই বৈঠকের কথা ভাবা যেত না। কেননা এর আগে ট্রাম্পকে কিম ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত বুড়োভাম’ বলে গালি দিয়েছেন কিম। বিপরীতে ট্রাম্প কিমকে বলেছেন, ‘বেঁটে ও মোটকু পাগলা’। নিজেদের ভাষায় দুই পাগলের দেখা হচ্ছে, যারা এর আগে পরস্পরকে এই হুমকি দিয়ে রেখেছেন তাদের টেবিলে পারমাণবিক বোতাম রয়েছে।

হোয়াইট হাউস থেকে সোমবার জানানো হয়, বৈঠকটি হবে ‘এক-এক’। অর্থাৎ প্রধান আলোচনায় শুধু কিম ও ট্রাম্প থাকবেন। এ সময় বাড়তি মানুষ বলতে দোভাষীরা থাকবেন। মূল পর্বের পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, চিফ অব স্টাফ জন কেলি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। এর পর দুপুরের খাবার সারবেন নেতারা। আজই বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় সিঙ্গাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা ট্রাম্পের।

গতকাল সোমবার পম্পেও জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র কাম্য। কিম যদি এমন শর্তে রাজি হন, তাহলে আঞ্চলিক শান্তির জন্য এটা হবে ইতিহাস। এমনকি এর বিনিময়ে কিমকে ট্রাম্প বিশাল বড় উপহার দেবেন। এটা হলো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালে যে নিরাপত্তার কথা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, সমঝোতা হলে এবার পিয়ংইয়ংকে আরও বেশি আরও দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা দিতে রাজি আছে ওয়াশিংটন। তবে পম্পেও এটা বলেননি, ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা উপহার ট্রাম্প দিতে চান। ২০০৫ সালের ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর কোনো পারমাণবিক হামলা চালাবে না।

এদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ভেস্তে গেলে, কিংবা ট্রাম্পের ভাষায় বৈঠক ব্যর্থ হলে, উত্তর কোরিয়ার ওপর চরম সর্বনাশের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে পুনরায় অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ। পম্পেও আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, যতদিন না উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হচ্ছে, ততদিন অবরোধ চলবে।

বৈঠকের ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্পও। তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেন, তিনি বাতাসে উত্তেজনা অনুভব করছেন। তিনি আশা করেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের ব্যাপারে কিম জং উনকে বোঝানো সম্ভব হবে।

১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়া শত্রু রাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার জের ধরে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হতে থাকে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে