বদলে গেছেন মালালা!

  অনলাইন ডেস্ক

২১ জুন ২০১৮, ১০:৩২ | আপডেট : ২১ জুন ২০১৮, ১৭:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

আর পাঁচটা সাধারণ পড়ুয়ার মতোই তার জীবন। পোলো খেলা থেকে শুরু করে রাতভর পার্টিতে হইচই। কখনও মাঝরাতে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে রেস্তরাঁ থেকে খাবার প্যাক করে নেওয়া। কখনও আবার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের গানের সঙ্গে কোমর দোলানো! অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটা মাস বদলে দিয়েছে তার জীবন। সেই সঙ্গে বদলে গেছেন তিনিও। বলছিলাম সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা।

সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডে ফলাও করে মালালার নতুন জীবনের নানা দিক প্রকাশ করেছে। আর এসব খবরই এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালালা বদলাচ্ছেন। শুধু একটা জিনিসই বদলায়নি। এখনও ২৪ ঘণ্টা তার সঙ্গে থাকেন সশস্ত্র দুই দেহরক্ষী। যে ঘরে তিনি থাকেন, তার ঠিক পাশের ঘরে থাকেন আরও এক দেহরক্ষী।

২০১২ সালে ১৫ বছরের কিশোরী মালালার মাথায় গুলি করেছিল তালিবান জঙ্গিরা। পরে পাকিস্তান থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে ব্রিটেনে আনা হয় তাকে। সুস্থ হওয়ার পরে পরিবারের সঙ্গে বার্মিংহামেই থাকা শুরু মালালার। যে তালিবান নেতার নির্দেশে তার উপরে হামলা হয়েছিল, মার্কিন ড্রোন হানায় গত সপ্তাহে নিহত হয়েছে সেই ‘রেডিয়ো মোল্লা’ তথা ফজলুল্লা। তার পরও মালালার ঝুঁকি এখনও যায়নি। তালিবান জঙ্গিরা মাঝেমধ্যেই তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

গত বছরের শেষে অক্সফোর্ডে ভর্তি হন মালালা। পড়েন লেডি মার্গারেট হল-এ। আর পাঁচজন পড়ুয়ার মতোই ব্যস্ত তার জীবন। অংশ নিচ্ছেন হোলি, দীপাবলির মতো ভারতীয় অনুষ্ঠানেও। বিভিন্ন পার্টিরও পরিচিত মুখ তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে পাব-এ যান। মেনুতে থাকে ফিশ অ্যান্ড চিপস।

ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডটি মালারার অজস্র ছবি ছেপেছে। কখনও বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে মধ্যমণি তিনি। কখনও বা কালো ফ্রেমের চশমা চোখে এঁটে ক্লাসে বসে আছেন। তবে জিনস-টপ পরা মালালার মাথায় দোপাট্টা সবসময়। এমন ‘সেলিব্রিটি’ সহপাঠী পেয়ে অক্সফোর্ডের বাকি পড়ুয়ারাও খুশি। তারা জানালেন, বিশ্বের তাবড় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচিত মালালাকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত।

সম্প্রতি কলেজের পার্টির আয়োজক হিসেবে মনোনীত হয়েছে মালালার নাম। প্রচার পুস্তিকায় বেরোচ্ছে তার ছবিও। এক ছাত্র জানালেন, পার্টিতে গেলেও মদ খান না মালালা। তবে বাকিরা খেলে তাতে আপত্তি করেন না।

সম্প্রতি অক্সফোর্ডেরই একদল মত্ত ছাত্র কলেজ চত্বরে হাঙ্গামা বাধানোয় প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়। মদ খেয়ে কেউ যাতে ভবিষ্যতে এমন গোল না বাধায়, সে দিকে এখন থেকেই খেয়াল রাখছেন নোবেলজয়ী। তবে পড়াশোনাকেও সমান গুরুত্ব দেন মালালা। তার বন্ধুরাই জানিয়েছেন সে কথা। এক বান্ধবী বললেন, ‘ও দারুণ রসবোধ আর ভীষণ মিশুকে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে