২ বছর পর তুরস্কে জরুরি অবস্থার অবসান

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

তুরস্কে টানা দুই বছর জরুরি অবস্থার পর অবশেষে তা প্রত্যাহার করল দেশটির সরকার। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।  

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, জরুরি অবস্থা চলাকালীন সময় দেশটির প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার বা চাকরিচ্যুত করা হয়।

তুরস্কের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরেই সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযানের সময় বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা বলেছিলেন যে তারা বিজয়ী হলেই প্রথম জরুবি অবস্থার অবসান ঘটবে।

সরকারি পরিসংখ্যান এবং এনজিওর তথ্য অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এক লাখ সাত  হাজারের বেশি লোককে সরকারি খাত থেকে সরানো হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটির বিরোধী দল আর পশ্চিমাদের সমালোচনার মুখেও এর মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এর মাধ্যমে যারা সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার।

গত ২৪ জুন তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিয়ে এরদোয়ান দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়েই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে এবং প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার সরকারের ডিক্রি জারি করা হয়।

এর মাধ্যমে ১৯২৪ সালে আধুনিক তুরস্কের জনক খ্যাত কামাল আতাতুর্কের সময় থেকে বলবৎ থাকা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যত বিলুপ্তি ঘটে। নতুন পদ্ধতিতে দেশটির নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন এরদোয়ান।

এদিকে ডিক্রি অনুযায়ী এই পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতা তুরস্কের পার্লামেন্টের ক্ষমতা কমে গেছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী এবং মন্ত্রনালয় থাকবে প্রেসিডেন্টের অধীনে। প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং তিনিই সভাপতিত্ব করবেন।

পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই মন্ত্রীদের নির্বাচন করা কিংবা ক্ষমতাচ্যুত করা, সরকারি চাকরিতে বেসামরিক নাগরিকদের বাদ দেয়ার ক্ষমতাও পাবেন প্রেসিডেন্ট।

অবস্থানগত কারণে বৈশ্বিক গুরুত্ব রয়েছে তুরস্কের। কারণ দেশটির একদিকে ইউরোপ, অন্যদিকে ইরাক আর সিরিয়ার সীমান্ত। এরমধ্যে বৃহৎ মুসলিম বিশ্বের এক নেতৃস্থানীয় দেশ তুরস্ক পশ্চিমা বিশ্বেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ন্যাটো জোটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য। তুরস্কের সেনাবাহিনী ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাহিনী। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, কুর্দি সমস্যা, ইরাক-সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই, অভিবাসী সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে