জিম্বাবুয়ে নির্বাচন : সংযত হওয়ার আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের

  অনলাইন ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০১ | অনলাইন সংস্করণ

জিম্বাবুয়েতে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করা বিরোধীদের ওপর সরকারি দমন অভিযান ও একে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে ফলে সহিংসতার পর সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ও সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি যুক্তরাজ্যও জিম্বাবুয়েতে দেশটির নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সোমবারের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হন।

জিম্বাবুয়ে ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দীর্ঘ ৩৮ বছর ক্ষমতায় থাকা রবার্ট মুগাবেকে পরাজিত করেতে সক্ষম হয়েছেন ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টি। এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জানু-পিএফ বেশিরভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই বিরোধীরা অভিযোগ করেন,নির্বাচনে জিততে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে জানু-পিএফ।

পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সোমবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট ও স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা নির্ধারণেও ভোট হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের দুইদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন (জেডইসি) প্রেসিডেন্ট পদে কে বিজয়ী হয়েছে তা জানাতে না পারলেও বিরোধী মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেইঞ্জ (এমডিসি) জোট বলছে, তাদের প্রার্থী নেলসন চামিসাই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নানগাওয়াকে পরাজিত করেছে।

জেডইসির ঘোষিত ফলে নিম্নকক্ষের ২১০ আসনের মধ্যে জানু-পিএফ বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছে জানানোর পরই রাজধানী হারারেতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। এ সময় সেনাবাহিনীদের গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয় বলে জিম্বাবুয়ে পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জিম্বাবুয়ের রাজনীতিবিদদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হ্যারিয়েট বল্ডউইন হারারের মার্কিন দূতাবাস টুইটারে দেশটির সেনাবাহিনীকে ‘সংযত আচরণের’ অনুরোধ জানিয়েছে।

জেডইসি এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফলে জানু-পিএফ ১৪০টি এবং এমডিসি ৫৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জেডবিসি।
মুগাবেবিহীন এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ৫০ লাখেরও বেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছিলেন,ভোট পড়ার হার ছিল ৭০ শতাংশের বেশি।

বুধবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল জানানোর কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন কেবল নিম্নকক্ষের আংশিক ফলই ঘোষণা করে। প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা ভোটের ফল যাচাই করতে না পারায় প্রেসিডেন্ট পদের ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হবে; কোনো প্রার্থী এই সংখ্যক ভোট না পেলে ৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। সেখানেই নির্ধারিত হবে, কে হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে