sara

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯

  অনলাইন ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪৯ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ শহরে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৭০ জন।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের কাছে একটি পার্ক থেকে সেনাপোশাক পরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা এ হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা মঞ্চে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় পাল্টা জবাব দেয় ইরানি বাহিনীর সদস্যরা। গোলাগুলির এই ঘটনা চলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে।

খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, হামলাকারীদের দুজন পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। বাকিরা পালিয়ে যায়।

ইরাক যুদ্ধের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে সরকারবিরোধী ও সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট আহভাজ গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেটও (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

তবে ইরানের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিদেশি শক্তিদের মদদে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, ‘আঞ্চলিক সন্ত্রাসের মদদদাতারা ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের গুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি অতিসত্বর হামলাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

ইরান হামলার পরই আঞ্চলিক বিরোধী শক্তি সৌদি আরবের দিকে আঙুল তুলেছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এতে জড়িত রয়েছে বলেও ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা আইএসের সদস্য নয়, বরং তারা (হামলাকারী) দুটি আরব দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তাদের মদদেই হামলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই দুটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ইরানের ফার্স নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় হামলা শুরু হয়ে ১০ মিনিট স্থায়ী ছিল। হামলায় চার বন্দুকধারী জড়িত ছিল বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি। বন্দুকধারীরা অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষকে এবং মঞ্চের সেনা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। এতে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিকও রয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, নিহত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, যারা প্যারেড অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। স্থানীয় গভর্নর জানান, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে দুই বন্দুকধারী নিহত হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে