মালদ্বীপে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

  অনলাইন ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

মালদ্বীপে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এ নির্বাচনে কড়া নজরদারি করছে ভারত ও চীন।

নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপস এর নেতা আব্দুল্লা ইয়ামিন চীনপন্থী এবং মালদ্বিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ইব্রাহিম মোহামেদ সোলিহ ভারত ও পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত।

এ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রও। মালদ্বীপের গণতান্ত্রিক অবস্থার উন্নতি না হলে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে তারা।

এদিকে নির্বাচনের আগে বিরোধীদলের সদরদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। দেশটিতে প্রণীত নতুন নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকদের আলাদা করে ভোটারদের ব্যালট পেপার দেখার সুযোগ থাকছে না। এর ফলে ভোটের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদেশি সাংবাদিকদের ভোটের সংবাদ সংগ্রহের ব্যাপারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের সহযোগী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া গোসম্যান অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে আবার ক্ষমতায় আনতে মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ সমালোচকদের আটকে রাখছে, সংবাদমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিরোধী প্রার্থীদের ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপ বলেছে, ‘এই ইস্যুগুলোর সমাধান না করলে সম্ভবত এ ধরনের নির্বাচনের ফল জনগণ মেনে নেবে না।’

ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা ও বিরোধী নিপীড়নের অভিযোগের মধ্যেই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ভোট-ফলাফল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, তা নিয়ে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়।

২০০৮ সালের পর থেকে এই নিয়ে মালদ্বীপে তৃতীয়বার নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে নাশিদকে পরাজিত করে ইয়ামিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

তবে নাশিদের সমর্থকরা দাবি করেন, ওই নির্বাচন ছিল জালিয়াতির। প্রথম দফায় বিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেই ইয়ামিন বিরোধীদের ওপর খড়্গহস্ত হন। সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের অধিকাংশ নেতাকে জেলে পাঠায় তার সরকার।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে