কোনো ঈশ্বর নেই : স্টিফেন হকিং

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

কোথাও কোনো ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত তার সর্বশেষ বই ‘ব্রিফ অ্যানসারস টু দ্য বিগ কোয়েশ্চেন' থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, স্টিফেন হকিংয়ের মৃত্যুর পর তার লেখা বইটি শেষ করেন তারই পরিবার। বইটিতে বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীর পৃথিবীতে থাকার সময়ের সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তরগুলো বর্ণিত আছে।

অন্যান্য ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা অবশ্য পরজীবনের বিষয়টি তাদের পাঠকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে দিকভ্রষ্ট করতে পারে এবং সময়ের যাত্রাকে নিয়মে বাধা যায় না। 

তবে ‘ব্রিফ অ্যানসারস টু দ্য বিগ কোয়েশ্চেন'বইয়ে হকিং লিখেছেন, ‘কোনো ঈশ্বর নেই। কেউই মহাবিশ্বকে পরিচালনা করেন না।'

তিনি আরও বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে এটা বিশ্বাস করা হয় যে আমার মতো অক্ষম লোকেরা ঈশ্বরের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে আছে।'

এই বিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘আমি ভাবতে পছন্দ করি যে, প্রকৃতির আইন অনুসারে সবকিছু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।'

যদিও হকিং তার জীবনে ঈশ্বরের বিশ্বাসের অভাবের কথা বলেছিলেন।  তবে তার অন্যান্য অনেক উত্তর আরও বিস্ময়কর। তিনি লিখেছেন, ‌'সেখানে বুদ্ধিমান জীবন ফর্ম আছে। কিছুটা উন্নত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের উত্তর দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।'

হকিং আরও বলেছেন, 'আমাদের বর্তমান বোঝার ধরন অনুযায়ী সময় ফিরিয়ে আনা যাবে না।' তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ‘আগামী শত বছরের মধ্যে আমরা সৌরজগতের যেকোনো জায়গায় ভ্রমণ করতে সক্ষম হব।'

২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচক ছিলেন হকিং। সেসময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

নিজের মেয়ের প্রসঙ্গে এই বিজ্ঞানী বলেছিলেন, 'আমরা কতটা বিভক্ত হয়ে গেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা বাহ্যিকভাবে তাকানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি বলে মনে করি এবং আমরা ক্রমবর্ধমানভাবে নিজেদের দিকে তাকাচ্ছি।'

পাঠকদের পাঠানো হকিং এর শেষ বার্তা হলো- ‘যদিও, একটি আশা আছে।’

জীবদ্দশায় শারীরিকভাবে অচল ছিলেন স্টিফেন হকিং। তিনি এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ নামক এক প্রকার মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অথর্বতার দিকে ধাবিত হন। তার পরও বহু বছরতিনি তার গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যান।

বাকশক্তি হারিয়ে ফেলার পরও তিনি এক ধরনের শব্দ-উৎপাদনকারী যন্ত্রের সাহায্যে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

হকিংকে তার প্রজন্মের সবচেয়ে মেধাবী বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই বিজ্ঞানী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে