খাশোগি হত্যাকাণ্ড

যুবরাজের ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই

  অনলাইন ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিক জামাক খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বিদায়ী মার্কিন দূত নিকি হ্যালি।  গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) দেশটির সরকারপ্রধান হিসেবে আখ্যায়িত করে হ্যালি বলেন, খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি সরকার এবং দেশটির সরকারপ্রধান এমবিএস সবাই দায়ী।  তারা ছাড় পেতে পারে না; না কোনও ব্যক্তি, না সরকার। তাদের ছাড় পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

নিকি হ্যালি সাক্ষাৎকারে নিকি হ্যালি বলেন, ‘আমার মনে হয় সৌদিদের সঙ্গে তাদের কঠিনভাবে কথা বলা দরকার, যাতে তাদের জানাতে পারি আমরা এ ঘটনা (খাশোগি হত্যাকাণ্ড) উপেক্ষা করবো না।  এ বিষয়ে আমরা তোমাদের কোনও ছাড় দেবো না। এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি করবেন না।’

এর আগে মার্কিন পত্রিকা দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিকি হ্যালি বলেন, ‘খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেওয়া উচিত নয়। এভাবে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়।’

সাক্ষাৎকারে নিকি হ্যালি বলেন, খাশোগি হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সমর্থন দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্পের এই কর্মকর্তা। সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তারা কনস্যুলেটের ভেতরে এ কাজ করেছে। আমরা তাদেরকে ছাড় দিতে পারি না, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়।’

হ্যালি আরও বলেন, ‘আমরা এ হত্যাকাণ্ডকে উপেক্ষা করতে পারি না, আমরা কখনও বলতে পারি না যে এটা ঠিক আছে, আমরা কখনও হিংস্র আচরণকে সমর্থন করতে পারি না এবং এগুলো আমাদের বলতে হবে।’

গত অক্টোবর মাসে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূতের দায়িত্ব থেকে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন নিকি হ্যালি।  এ বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি। জানুয়ারিতে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ট্রাম্প মনোনীত হেদার নোয়ার্ট।

এদিকে শুরু থেকেই তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যা করতে সৌদি যুবরাজ তার দেহরক্ষীসহ ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াডকে তুরস্কে পাঠানো হয়। খাশোগি সেখানে প্রবেশের পরই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে তা নিশ্চিহ্ন করতে এসিডের মাধ্যমে গলিয়ে ফেলে। আর এর জন্য মাত্র সাত মিনিট সময় নেন তারা। পুরো ঘটনাটির একটি অডিও তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তারাদের কাছে আছে বলে দাবি করেছেন তারা।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার ১৭ দিন পর নানা টালবাহানার পর সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হন খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে