মাছটির দাম ২৬ কোটি টাকা!

  অনলাইন ডেস্ক

০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০২ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

২৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (৩১ লাখ ডলার) খরচ করে একটি বিশালাকার টুনা মাছ কিনেছেন জাপানের এক ব্যবসায়ী। জাপানের উত্তর উপকূলে কিছু দিন আগেই বিপন্ন প্রজাতির এই মাছটি ধরা পড়ে। তোয়োসু নামক টোকিওর একটি মাছের বাজারে নতুন বছরেই নিলামে উঠেছিল ২৭৮ কেজি ওজনের এই মাছটি।

জাপানের ওই ব্যবসায়ীর নাম কিয়োশি কিমুরা। এর আগেও ২০১৩ সালে এরকমই একটি ‘কিং টুনা’ কিনে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কিয়োশি। ওই সময়ে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকা দিয়ে মাছটি কিনেছিলেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টোকিওর সুকিজিতেই একটি রেস্তরাঁ চালান ব্যবসায়ী কিয়োশি কিমুরা। ২৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় মাছটি কেনার পর তিনি বলেন, ‘এটাই সেরা টুনা। তবে আমি যে দামটা ভেবেছিলাম, তার থেকে এর দাম অনেক বেশি। যাই হোক, আমাদের রেস্তরাঁর কাস্টমাররা খুব ভালো একটা টুনা মাছ খেতে পারবেন।’

সুকিজি বিশ্বের নামকরা মাছের বাজারগুলির একটি। ব্যস্ত এই মাছের বাজারকে ঘিরে রয়েছে একাধিক রেস্তরাঁ। এলাকায় ঢুঁ মারলেই কানে আসবে মাছের দর কষাকষির আওয়াজ। সুকিজি এখন পর্যটকদেরও ঘুরতে যাওয়ার জায়গা হয়ে গিয়েছে।

১৯৩৫ সাল থেকেই এই সুকিজিতে মাছের বাজারে টুনা মাছ নিলামে ওঠে। এক্কেবারে নামি সুশি রেস্তরাঁর শেফ থেকে একদম ছাপোষা মৎস্য ব্যবসায়ী সকলেই মাছ বিকিকিনি করেন এখানে। বিশেষ করে বছরের শুরুতে নিলাম হয় দেখার মতো। দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ জড়ো হন টুনা মাছ কিনতে।

ভোর হওয়ার আগেই রবারের বুট পরে বরফ ঢাকা টুনা মাছ দেখতে আসেন ব্যবসায়ীরা। ঘড়ির কাঁটায় ভোর ৫টা ১০ হলেই নিলাম শুরু হওয়ার ঘণ্টা বাজতে শুরু করে।

এই ব্লু ফিন টুনা মাছের ব্যবসা করে একটা বিরাট অংশের দিন গুজরান হয় জাপানে। জাপান, বিশেষত সুকিজির বাসিন্দারা টুনা মাছকে বলেন ‘কুরো মাগুরো’। তবে আজকাল জাপানেও এই টুনা মাছের অভাব। আর সেই কারণেই রেস্তরাঁগুলোতে টুনা মাছকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’।

টুনা মাছের বিখ্যাত একটি পদ ‘ওটোরো’। মাছের পেটের অংশ দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু এই পদ। বিপুল দামে টোকিওর রেস্তরাঁগুলিতে বিক্রি হয় ‘ওটোরো’।

সুকিজির পাশাপাশি তোয়োসু বাজারেও শুরু হয়ে গিয়েছে নিলাম। সে বাজারের মালিক ইয়োশিহিকো ওটাকি বলেন, ‘নতুন বছরে টুনা মাছের নিলাম শুরু হয় এই তোয়োসু মার্কেট থেকেই। সুকিজির মতো এখানেও টুনা মাছের রমরমা বাজার।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে