ভালোবাসার গভীরতা বাড়ায় যেসব বদঅভ্যাস

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:০৭ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

ব্যক্তি বিশেষে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা মানুষ। কাজেই তাদের ভালোবাসার সম্পর্কও আলাদা। ভালোবাসার সম্পর্ক মজবুত করতে কী কী করা উচিত, এ নিয়ে অবশ্য অনেকেরই নানা মত রয়েছে। যেমন, হাত ধরাধরি করা, দুজনে মিলে যথেষ্ট সময় কাটানো ইত্যাদি। কিন্তু আসলেই কী এগুলো সবার জন্য খাটে? আপনি যদি প্রেমিক/প্রেমিকাকে সত্যিই খুব ভালোবেসে থাকেন, তাহলে তার হাত ধরুন আর না ধরুন, ভালোবাসায় কোনো কমতি হবে না। আবার এটাও সত্যি যে, ঝগড়া করার মতো অভ্যাসগুলো অদ্ভুতভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে আপনাদের ভালোবাসার গভীরতা। এমন কিছু বদঅভ্যাস আছে যা আসলে ভালোবাসা কমানোর বদলে অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক অটুট রাখতেও এগুলো কাজ করে।

ভালোবাসার গভীরতা বাড়ায় যেসব বদঅভ্যাস-

কিছু বিরোধ না মেটানো

সব সমস্যার সমাধান আপনাদের দুজনের হাতে থাকবে এমন ভাবাটা ভুল। আবার সব বিষয়ে আপনাদের মত একই হবে এমনটা বাবাও ঠিক নয়। আপনি ভাবতেই পারেন, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে খোলা মনে আলোচনা করলেই সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। আসলে কিন্তু তা নয়। এমন অনেক সমস্যা থাকতে পারে যা কখনও মিটবে না। বরং ছোট্ট একটা সমস্যা মেটাতে গিয়েই সম্পর্কে বড় ফাটল ধরতে পারে। কাজেই এ রকম ছোটখাটো সমস্যা যেখানে আছে, সেখানেই থাকতে দেওয়া খারাপ কিছু নয়।

একে ওপরের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া

অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গীর অনুভূতিতে আঘাত করাটা জরুরী হয়ে পড়ে। কারণ মিথ্যে বলে তার মন ভালো করে দেওয়ার চেয়ে সত্যি কথা বলে তার মন খারাপ করে দেওয়াটা ভালো। ভেবে দেখুন, বাইরে যাওয়ার আগে আপনার সঙ্গী ঘন্টা ধরে সাজগোজ করে এলেন। কিন্তু এতো বেশি সেজে ফেলেছেন যে তাকে মোটেও ভালো দেখাচ্ছে না। এমন সময়ে কী করবেন? সত্যি বলবেন নাকি মিথ্যে করে বলবেন, তাকে খুব মিষ্টি দেখাচ্ছে? এখানে সত্যি বললে তার অনুভূতিতে আঘাত করা হবে ঠিকই, কিন্তু সত্যি বলাটা জরুরী। যে মানুষটিকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন, তার সামনে সত্যি কথাটা বলবেন না তো কার সামনে বলবেন?

সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার মনোভাব

অনেকেই আছেন যারা সম্পর্ক বাঁচাতে অনেক সময়েই নিজেকে ছোট করে ফেলেন। তারা ভাবেন, প্রেম করলেই সেটা সারাজীবনের জন্য টিকে যাবে। এজন্য নিজের চেয়ে তারা সঙ্গীর ইচ্ছের মূল্য বেশি দেন। কিন্তু এটা কোন সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। মনে রাখবেন, অনেক সময়ে নিজের এবং সঙ্গীর ভালোর জন্যই সম্পর্কটাকে শেষ করে দেওয়ার দরকার হয়। এতে ভাবার দরকার নেই যে আপনাদের সম্পর্কটা ব্যর্থ। বরং এভাবে চিন্তা করুন, সারা জীবন অতৃপ্ত একটি সম্পর্কে থাকার চাইতে দুজন সুখী হবেন এমন ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।

সঙ্গী ছাড়াও অন্যদের প্রতি আকর্ষণ

সাধারণত নিজের প্রেমিক/প্রেমিকা ছাড়া অন্য কারও দিকে তাকানোই যাবে না- সম্পর্কের একটি অবিসংবাদিত নিয়ম এটা। শুধু তাই নয়, আমরাও ভাবতে ভালোবাসি যে সঙ্গীটি ছাড়া আর কারও দিকে আমাদের দৃষ্টি যাবে না। কিন্তু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই অন্যদের প্রতি আমাদের আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এতে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। বরং আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন প্রেমিক/প্রেমিকার প্রতি আপনাদের আকর্ষণটাই টিকে থাকছে, অন্য মানুষগুলোর প্রতি আকর্ষণ বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না।

আলাদা সময় কাটানো

সারাক্ষণ আঠার মতো একজন আরেকজনের সঙ্গে লেগে থেকে সময় কাটানো মানেই ভালো সম্পর্ক নয়। এটা ঠিক যে প্রেমে পরার পর ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সব সময় থাকতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আসলেই সবটা সময় তার সঙ্গে কাটাতে হবে। তার থেকে দূরে কিছুটা সময় থাকাও জরুরী। বিশেষ করে পরিবার, বন্ধু এবং সর্বোপরি নিজের জন্য সময় আলাদা রাখার মাঝে দোষের কিছুই নেই।

কিছু ভুল-ত্রুটি মেনে নেওয়া

ভালোবাসার মানুষটিও মানুষ। তারও কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, ভুল হতে পারে। তার মানে এই নয় যে তার ভালোবাসায় খাদ আছে। তার ত্রুটিগুলোকে ঠিক করার ইচ্ছে থাকতেই পারে। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকবেই, সেগুলো মেনে নিয়ে তাকে ভালোবাসাটাই আসল। যেমন- তিনি হয়তো চুল আঁচড়াতে প্রায়ই ভুলে যান। এতে বিরক্ত না হয় বরং এলো চুলের মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়ার মাঝেই সম্পর্কের সফলতা রয়েছে।

     

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে