পূজায় পোশাকের সঙ্গে চাই মানানসই গয়না

  অনলাইন ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:২৪ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উত্সব হলো দুর্গাপূজা। আর উত্সব মানেই আনন্দ, সাজসজ্জা, নতুন পোশাক পরা আর ঘুরে বেড়ানো। তবে এই পূজার আয়োজন চলতে থাকে কয়েকদিন ধরেই। এর প্রতিদিনের উত্সবের সাজেই থাকা চাই ভিন্নতা। এবারের দুর্গাপূজার সময়ে যেহেতু একটু গরম আবহাওয়াই বিরাজ করবে তাই পূজামণ্ডপে সারাদিন উপস্থিতির ক্ষেত্রে সুতি পোশাকটাই স্বস্তিদায়ক হবে। আর মেকআপ, হেয়ারস্টাইল ও অন্যান্য সাজের অনুষঙ্গ অনেকটাই নির্ভর করবে পোশাক, আবহাওয়া, পরিবেশ, অনুষ্ঠানের ধরন—এ সবকিছুর উপর। তাই শুরু থেকেই যদি একটি প্ল্যান করে নেওয়া যায় কোন দিন কী ধরনের পোশাক পরবেন আর কীভাবেই বা সাজিয়ে তুলবেন নিজেকে। তাহলে পূজার উত্সবের দিনগুলোতে খুব সহজেই সাজের ভিন্নতা রাখতে পারবেন। এজন্য লুকে ভিন্নতা আনতে আগে থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

পোশাক

হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাঙালির সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হলো শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজার পোশাক মানেই সাদা-লালপেড়ে শাড়ি। সাদা হলো পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক। আর এই দুয়ের মিলে ফুটে ওঠে পূজার চিরন্তন রূপ। শুধু শাড়ি নয়, অনেকেই পূজোর পোশাক হিসাবে বেছে নেন সালোয়ার- কামিজ, লেডিস টপস, সিঙ্গেল কামিজ। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, ধুতি-পাঞ্জাবি। উত্সবের রঙে সিল্ক বা সুতি এসব পোশাকে থাকছে ব্লকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারির প্রাধান্য। পূজার প্রতীমাকে ডিজাইন মোটিফের অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শাড়ির আঁচল, কামিজ বা কুর্তার নেক লাইন ও পাঞ্জাবির ক্যানভাসেও থাকছে স্বতন্ত্রতা। এতে উত্সবের ফ্যাশনে শুধু নতুনত্বই নয়, ঐতিহ্যের ছোঁয়াও থাকে সবখানে।

সাধারণত অন্য সময়ের সাজের চেয়ে পূজার সাজ একটু যেন ভিন্ন হয়। এ সময় সাজে পূজার আমেজ ধরা পড়ে। পূজার সাজ হতে পারে দুই রকম। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সাজা হয় নিজের পছন্দমতো। অন্য সময়ে যেমন পোশাকে, যেভাবে সাজা হয় সে রকমই চলে এ কয়েক দিন। কিন্তু দশমীর দিনটার কথা আলাদা। এদিন সবাই চায় পূজার আমেজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে।

দশমীর দিন যে শাড়িটা পরা হয় তার পাড়টা হতে পারে বাহারি। জমিন সাদা বা লাল রঙের হতে পারে। শাড়িতে এবার পাড়ে লেইস, আলগা পাড়, ব্লক, চুমকি দিয়ে কাজ করা হয়। পূজার শাড়িতে চুমকির কাজটা বেশ ভালো লাগে। লাল-সাদা ঢাকাই জামদানি পূজার দিনে পরলে চমত্কার দেখায়। এছাড়া লালপেড়ে গরদের আবেদনও চিরন্তন। মসলিন বা সিল্কের শাড়িও পরা যেতে পারে। শাড়িতে কম কাজ থাকলেও ব্লাউজটা হতে পারে বাহারি। লম্বা হাতার, কুঁচি দেওয়া ব্লাউজ পরলে ভালো দেখাবে। ঘটিহাতাও চমত্কার লাগবে।

গয়না

শুধু পোশাক নির্বাচন করলেই হবে না, এর সঙ্গে চাই মানানসই গয়নাও। কেউ কেউ পূজোয় অ্যান্টিক ধাঁচের গয়না পরতে ভালোবাসেন। এর সঙ্গে দুই হাত ভরে থাকে কাচের চুড়ি। অনেকেই আবার শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে স্বর্ণের গয়না পরে থাকেন। পূজোর সময় হিন্দু নারীরা অবশ্য স্বর্ণের গয়নাকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কেননা তারা বিশ্বাস করেন, স্বর্ণ পরিধান করলে এটি পূজায় তাদের জন্য শান্তি এবং ভালো ভাগ্য নিয়ে আসবে।

দুর্গাপূজায় নারীরা যেসব গয়না পরতে পারেন-

কানপাশা

আধুনিক নারীরা দুর্গাপূজার সাজে কানপাশা পরতে পারেন। এটি কানের আকৃতির মতো হলে বেশি ভালো হয়। কানপাশা পরলে যে কোন একজন নারীর রাজকীয় চেহারা ফুটে উঠে। সাধারণত দুর্গা পূজা, বিয়ে কিংবা যে কোন উত্সবে এটি পরা হয়।

টিকলি
 
হিন্দু নারীদের কাছে টিকলির আলাদা একটি বিশেষত্ব আছে। অনেকেই আছেন যারা অন্য কোন গয়না না পরলেও টিকলি পরতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে আসলে এর জুরি মেলা ভার।  

নথ

নথকে কখনও কখনও নাকচাবিও বলা হয়। দুর্গাপূজায় শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নারীরা নথও পরতে ভালোবাসেন। এক্ষেত্রে হিন্দু নারীরা সাধারণত বিভিন্ন নকশার নথ পরে থাকেন। নথের সঙ্গে একটা টানা চেইন থাকে যেটি কানের ওপরে ক্লিপ দিয়ে আটকানো থাকে- বেশিরবাগ ক্ষেত্রে নারীরা এমন নথই পছন্দ করেন।  

ঝুমকো

হিন্দু রমণীদের মধ্যে ঝুমকো বেশ জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে তারা নানা ডিজাইনের ঝুমকো পরে থাকে। তবে দুর্গাপূজায় নারীরা ভারী ঝুমকো প্রাধান্য না দিয়ে বরং হালকা পাতলা গড়নের ঝুমকো পরতে ভালোবাসে।

চিক

শাড়ির সঙ্গে স্বর্ণের চিক পরলে যে কোন নারীকে দেখতে আরও অনেক সুন্দর লাগে। কাজেই পূজার দিন এই গয়নাও পরতে পারেন।

সীতা হার

চাইলে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে লম্বা সীতা হারও পরতে পারেন। আগে নারীরা শাড়ির সঙ্গে সীতাহার নিয়মিত পরলেও এখন সময় বদলেছে। এখন আর এসব লম্বা গয়না পরার সময় ওঠে না। সেক্ষেত্রে এ জাতীয় গয়না পরার উপযুক্ত সময় হতে পারে এই দুর্গাপূজা।

বালা

দুর্গাপূজায় চুরি কিংবা বালাও পরতে পারেন। এতেও আপনাকে ভালো দেখাবে।

মানতাশা

দুর্গাপূজা কিংবা যে কোন অনুষ্ঠানে মানতাশা পরলে নারীদের অনেক সুন্দর লাগে। সেক্ষেত্রে অবশ্য হাতে আর কোন গয়না পরার দরকার পরে না। এটি সাধারণত এক হাতে পরলে ভালো লাগে। সেক্ষেত্রে অবশ্য অন্য হাতে কোন কিছু না পরলেও চলে। চাইলে ছোট কোন বালাও পরতে পারেন।

আংটি

হাতে আংটি পরলেই যেন সাজে পূর্ণতা আসে। কাজেই দুর্গাপূজায় বিভিন্ন ডিজানের আংটিও পরতে পারেন। এতে শুধু হাতের সৌন্দর্য বাড়বে না, একইসঙ্গে আপনাকেও চমৎকার দেখাবে।  

অন্যান্য

পোশাক নির্বাচন এবং গয়না পছন্দের পাশাপাশি পূজার সাজের সঙ্গে চুলে তাজা ফুল থাকা চাই-ই। সাজে পূর্ণতা আনতে খোলা চুলে কানের পাশে গুঁজে দিতে পারেন যে কোনো তাজা ফুল। খোঁপায়ও তাজা ফুলের মালা জড়িয়ে নিতে পারেন। এতেও আপনাকে সুন্দর লাগবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে