x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

আপনার ফেস ক্রিমে স্টেরয়েড নেই তো?

  অনলাইন ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

এত বছরের চেষ্টার পর অবশেষে এল যুদ্ধ জয়ের দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিল ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান ছাড়া কোনও ধরনের স্টেরয়েড মিশ্রিত ক্রিম কেনা যাবে না এবং এই নির্দেশ যাতে ঠিক মতো বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়টা নজর রাখবে সেদেশের কেন্দ্রীয় সরকার।

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজির সদস্যরা দিল্লি হাই কোর্টে এই বিষয়ে একটি মামাল করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল বিভিন্ন ক্রিমে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নানা ধরনের স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যদি এখনই বন্ধ করা না যায়, তাহলে মারাত্মক কিছু বিপদ হয়ে যেতে পারে। কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড যদি আমাদের ত্বকের অন্দরে যেতে থাকে, তাহলে নানা ধরনের স্কিন প্রবলেম হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শরীরের অন্দরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হয়, যার প্রভাবে একাধিক রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

কেসটি শুরু হওয়ার পর এই নিয়ে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত শুরু হয়, তাতে যে তথ্য উঠে আসে, তা বেজায় ভয়ঙ্কর। নানা দিক বিশ্লেষণ করে জানা যায় ক্রমাগত স্টেরয়েড ত্বকের ভিতরে যেতে থাকলে একাধিক সমস্যা হতে পারে। যেমন...

১. চামড়া পাতলা হয়ে যেতে পারে
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অতি মাত্রায় স্ট্রেরয়েডের কারণে ত্বকের অন্দরে থাকা কোষেদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, সেই সঙ্গে কোলাজেনের উৎপাদনেও কমতে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন চামড়া পাতলা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তেমনি ত্বকের স্বাভাবিক টোন খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। সেই কারণেই তো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ধরনের ক্রিম ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

২.শিরা-উপশিরা দেখতে পাওয়া যায়
সাধারণত সারা শরীরে রক্ত সরবরাহকারী শিরা-উপশিরাদের ত্বকের উপর থেকে দেখা যায় না। কিন্তু অতিমাত্রায় স্টেরয়েড ব্যবহার করলে চামড়া এত মাত্রায় পাতলা হতে শুরু করে যে ধীরে ধীরে ত্বকের উপর থেকেই শিরা-উপশিরাগুলি স্বষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। স্কিনের এমন অবস্থাকে চিকিৎসা পরিভাষায় টেলেনজিকটেসিয়া বলা হয়ে থাকে।

৩. অ্যালার্জির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়
বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ত্বক যদি বেশি মাত্রায় স্টেরয়েডের সংস্পর্শে আসে, তাহলে স্কিনের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যালার্জির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় ত্বকের অন্দরে এমন অ্যালার্জি হয় যে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পরে। প্রসঙ্গত, এমন পরিস্থিতিতে স্কিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

৪. সাদা ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়
স্টেরয়েডের প্রভাবে কোলেজেনের উৎপাদন কম হতে থাকে। এই সময় স্কিনের উপর সূর্যালোকের এমন খারাপ প্রভাবে পরে য়ে সারা গায়ে সাদা সাদা দাগ হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে লাল লাল চাকা চাকা ছোপ দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই এবার থেকে বাজার চলতি কোনও ক্রিম ব্যবহারের আগে একবার দয়া করে দেখে নেবেন তাতে স্টেরয়েড আছে কিনা।

৫. অ্যাকনে
দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড রয়েছে এমন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের ভিতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে থাকে যে তার প্রভাবে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়। যার ফল স্বরূপ অ্যাকনে এবং ব্রণর মতো ত্বকের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও প্রয়োজন পরে।

৬. পেরিওরাল ডার্মাটাইটিসের আশঙ্কা বাড়ে
এ কেমন রোগ মশাই? কখনও নাম শুনিনি তো! অনেক দিন ধরে স্টেরডের মার সহ্য করতে করতে ঠোঁট এবং গালের চারিপাশে ব্রেণর মতো ফুসকুরি হলে, তাকে চিকিৎসা পরিভাষায় পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস বলা হয়ে থাকে। এমন ধরনের ত্বকের রোগ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার প্রয়োজন পরে, না হলে কিন্তু সহজে এই রোগ সারতে চায় না।

৭.বারে বারে রোগ ফিরতে থাকে
স্টেরয়েড রয়েছে এমন ক্রিম ব্যবহার করতে তাকলে ত্বকের কোনও ধরনের রোগ নিমেষে সেরে গেলেও যে মুহূর্তে স্টেরয়েডের প্রভাব কমতে শুরু করলেই রোগ আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই কোনও ত্বকের রোগকে যদি একেবারে সমূলে নিকেশ করতে চান, তাহলে ভুলেও স্টেরয়েড ব্যবহার করবেন না যেন!

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে