• অারও

আদর্শ মা-বাবাও করেন কিছু ভুল

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:২৪ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

আদর্শ মা-বাবা তারাই যাদের কাছে সন্তানের সাফল্য এবং খুশীই মূখ্য বিষয়। অন্যদিকে যারা প্যারেন্টিং পদ্ধতির প্রতি তেমন একটা আগ্রহ দেখান না তারাই ‘ব্যাড প্যারেন্ট’। এ ধরণের মা-বাবা আত্মবিশ্বাস এবং আত্ম-সমালোচনাতেও আগ্রহ দেখান না। ফলে তাদের সন্তানরা জীবনে তেমন সাফল্য লাভ করতে পারেন না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম দেখা যায়। আদর্শ বাবা সবসময় খারাপ আচরণ এড়িয়ে চলেন। একইসঙ্গে তারা ভুলভ্রান্তিগুলো নিখুঁতভাবে সন্তানের সামনে তুলে ধরেন যাতে ভবিষ্যতে সন্তানরা এ থেকে শিক্ষা নেয়। ভালোবাসা এবং সচেতন থাকা সত্ত্বেও আদর্শ মা-বাবাও কিছু ভুল করে থাকেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলোই তাদের সন্তানদের সাফল্যের পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।    

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিছু সাধারণ ভূল আছে যেগুলো আদর্শ মা-বাবা সন্তানের ভালোর জন্য করলেও অজান্তেই তারা তাদের ক্ষতি করেন। এ তালিকায় সেরা শিক্ষাবিদসহ দেশের বড় চিকিৎসকরাও রয়েছেন। তাই সন্তানের মঙ্গল কামনায় ভুলগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।    

‘বিজনেস ইনসাইডার’ অবলম্বনে জেনে নিন আদর্শ মা-বাবাও কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন-

সন্তানকে সবখানে যাওয়ার অনুমতি

শেখার বিষয়টি সবসময়ই অনেক কঠিন। আপনি আপনার সন্তানকে সেখানে-সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন ভালো কথা। কারণ সে যত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করবে তত শিখতে পারবে। তার মানে এই নয় যে, তার সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা একেবারেই ছেড়ে দিবেন।  এতে সন্তানের বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মা-বাবা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো শিশুদের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা দেওয়া। তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করা। যে কোন বিপদে সবসময় তার পাশে থেকে তাকে সমর্থন দেওয়া।  

প্রতিভা নয়, কাজের প্রশংসা করুন

তোমাকে অনেক স্মার্ট লাগছে- এমন হাজারো মন্তব্য করে আপনি সন্তানের প্রশংসা করছেন। এটা ভালো কথা। এমন প্রশংসা তাদের মনে ভালো একটা ধারণা তৈরি করতে পারে। এতে করে পরবর্তী সময়ে সন্তানরা বিপথেও যেতে পারে।  কারণ সন্তানরা ভাবে, তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে সবগুলোতেই তাদের প্রতিভার ছাপ রয়েছে। এক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ করতে গিয়ে তারা পথে পথে হোঁচট খায়। নিজের সন্তানের স্মার্টের এই খ্যাতি অক্ষুন্ন রাখতে অনেক মা-বাবা আবার তাদের ব্যর্থতাগুলো এড়িয়ে যান। এ থেকেও সন্তানরা কিছু শিখতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্তানেদের সবসময় স্মার্ট বললে তাদের মনোভাবও সেভাবে গড়ে ওঠে। তারা শেখে, যদি আমি এ না পাই তবে আমি আমি স্মার্ট নই। যদি আমি হোমমওয়ার্ক না করি তবে আমি অ্যাথলেটিক নই। যদি আমার ছবিটি সুন্দর না হয় তবে আমি শৈল্পিক নই। এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে আপনার সন্তানের ক্ষতি করে। কারণ এসব বাচ্চারা ব্যর্থতার ভয়ে সবসময় ভীত থাকে।       

এর পরিবর্তে বরং সন্তানের কঠোর পরিশ্রম এবং বাধাগুলির মুখোমুখি দাঁড়ানোর জন্য প্রশংসা করুন। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন। সন্তানরা তখনই সফল হবে যখন তারা ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবে। আপনার স্মার্ট সন্তান যদি সমস্যার মধ্য দিয়ে কাজ করে যেতে না পারে তাহলে সে কোনমতেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। কাজেই সাবধান।   

সন্তানের চলার পথ মসৃণ করা

প্রত্যেক মা-বাবা যে কোন বিপদ-আপদ থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে চান। আপনার এই কাজটাও কিন্তু অজান্তেই তাদের বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়। কারণ সমস্যার সম্মুখীন হওয়া ছাড়া সন্তান কখনই স্বাধীনভাবে কোন সমস্যার মোকাবেলা করতে পারবে না। এতে ভবিষ্যতে আপনি পাশে না থাকলে তাকে অনেক বিপদের মধ্যে পরতে হবে। আপনি সন্তানকে অনেক ভালোবাসেন, কিন্তু এমন কিছু সমস্যা আছে যা আপনি কখনই সমাধান করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনার সন্তানকে একাই এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তাই আগে থেকেই সন্তানদের সংগ্রামী হতে সাহায্য করুন।      

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে