অ্যাকজিমায় প্রদাহ মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে

  ডা. দিদারুল আহসান

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

অ্যাকজিমা ত্বকের এমন এক প্রদাহ, যাতে ত্বক লালচে হয় এবং ফুলে ওঠে। একই সঙ্গে থাকে প্রচ- চুলকানি। রোগীভেদে উপসর্গ মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, যা বছরজুড়ে থাকতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গ : প্রদাহযুক্ত ও ফেটে যাওয়া ত্বক, শুষ্ক, খসখসে, ত্বকে চুলকানি, হাত-পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি, ত্বক সংক্রমিত হলে ভেজা হয় এবং পুঁজ বের হতে পারে। ত্বকের যেসব জায়গা বারবার চুলকানি হয়, সেগুলো পুরু হওয়া।

পারিবারিক ইতিহাস : অ্যাকজিমা রোগীর পূর্বপুরুষের মধ্যে অ্যাজমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা অ্যাকজিমার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়।

হওয়ার কারণ : রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পু থেকে অ্যালার্জি হয় এমন বস্তু থেকে, যেমনÑ পরাগরেণু, ঘরবাড়ির ধুলা, পশুপাখির পশম, উল ইত্যাদি থেকে হরমোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মাসিকের সময় এবং গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠা-া ও স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়া।

অ্যাকজিমার ধরন : অ্যাকজিমা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমনÑ এটোপিক অ্যাকজিমায় হাঁটুর পেছনে, কনুইয়ের সামনে, বুক, মুখ এবং ঘাড় আক্রান্ত হয়।

অ্যালার্জিক কনট্যাক্ট অ্যাকজিমা হলে শরীরের যে অংশে অ্যালার্জি হয়, সেখানে লালচে দানা দেখা দেয়। তবে শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট অ্যাকজিমা অ্যালার্জিক অ্যাকজিমার মতোই। সাধারণত ডিটারজেন্ট বা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত দ্রব্যের ঘন ঘন ব্যবহারে দেখা দেয়। সেবোরিক অ্যাকজিমা হলে মাথার ত্বকে হালকা খুশকির মতো তৈলাক্ত ফুসকুড়ি দেখা যায়। এ কারণে শরীরের অন্য অংশ লালচে এবং যন্ত্রণা হয়। এটি সাধারণত এক বছরের নিচের শিশুর দেখা যায়। ম্যালাসেজিয়া ইস্টের মাধ্যমে এ অ্যাকজিমা সংক্রমিত হয়। ডিসকয়েড একজিমা হয় প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে যে কোনো বয়সী মানুষের। সাধারণত বয়স্কদের বেশি হয়। শুষ্ক ত্বক সংক্রমণের মাধ্যমে এটি হয়ে থাকে। এতে শরীরের যে কোনো অংশ, বিশেষ করে পায়ের নিচের অংশে গোলাকৃতি লাল, শুষ্ক এবং চুলকানির মতো হয়ে থাকে।

চিকিৎসা : ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন, স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার, হরমোন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। অ্যাকজিমা জটিল আকার ধারণ করলে সুস্থ হতে সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে।

লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৭১৫৬১৬২০০, ০১৮১৯২১৮৩৭৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে