প্রস্টেট সমস্যা নিরাময়ে লেজার চিকিৎসা নিরাপদ পদ্ধতি

  দুলাল হোসেন

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। এটির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে মূত্রথলি, মূত্রনালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো। এসব অঙ্গ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এসব রোগব্যাধির মধ্যে কিডনিতে পাথর, মূত্রথলি ও মূত্রনালির টিউমার, কিডনি ও মূত্রথলির ক্যানসার এবং পুরুষেরা প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের সমস্যায় ভোগেন। পুরুষের প্রস্টেট গ্রন্থির রোগব্যাধি, রোগনির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার দুলাল হোসেন

দুলাল হোসেন : প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যায় কারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন?

অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান : মূত্রতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন, এমন রোগীর সংখ্যা আমাদের দেশে অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই বয়স্ক মানুষের মূত্রতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে। বয়স্ক পুরুষের প্রস্রাব আটকে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। নারীরাও বিভিন্ন ধরনের মূত্র সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যা। পুরুষের প্রস্টেট গ্ল্যান্ড একটি ইউরোলজিক্যাল রোগ। পুরুষের প্রস্টেট সমস্যা হচ্ছে বয়সকালীন সমস্যা। বিশেষ করে ৫৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের এ সমস্যা হয়ে থাকে বেশি। প্রস্টেট গ্রন্থি পুরুষের ইন্টারনাল অঙ্গের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রস্টেট গ্রন্থি পুরুষের মূত্রথলির সামান্য নিচে অবস্থিত এক টুকরো মাংশপি-। এর মধ্যে দিয়ে মূত্রনালি প্রবাহিত। এ গ্রন্থিটি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। এ বৃদ্ধি কারো কারো ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে না বা করলেও অতিসামান্য। গুরুত্বপূর্ণ এ অঙ্গটি

বভিন্ন ধরনের সমস্যা ও রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এ জন্য চল্লিশোর্ধ্ব প্রত্যেক পুরুষের উচিত বছরে অন্তত একবার অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি প্রস্টেট গ্রন্থির পরীক্ষা করানো। কারণ প্রস্টেট গ্রন্থি বেড়ে গিয়ে ক্যানসার হতে পারে। প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যা মোটেও ছোট করে দেখা উচিত নয়।

দুলাল হোসেন : প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যার লক্ষণগুলো কী কী?

অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান: পুরুষের প্রস্টেট গ্রন্থি সমস্যা হলে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমনÑ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতের বেলায়, চিকন নালিতে প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে কষ্ট হওয়া, প্রস্রাবের শেষে কিছু প্রস্রাব থলিতে রয়ে গেছে অনুভূত হওয়া, প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ঝরা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা আটকানোর মতো হওয়া, হঠাৎ করে প্রস্রাব আটকে গেলে তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। কারণ প্রোস্টেট গ্রন্থি বেড়ে গিয়ে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। আবার দীর্ঘদিন প্রোস্টেট গ্রন্থির রোগে ভুগলে মূত্রথলির ভেতর পরিবর্তন আসে। মূত্রত্যাগের পর বেশি পরিমাণ প্রস্রাব থলিতে জমা থাকলে মূত্রথলির সংকোচন ক্ষমতা কমতে থাকে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ৫০ বছরের বেশি হলে মানুষের দেহের হরমোনেও কিছু কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে। হরমোনের এ পরিবর্তনই প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ফলে মূত্রনালির চারদিকে প্রস্টেটের কোষ সংখ্যা বেড়ে মূত্রনালি চেপে ধরে। প্রস্টেট গ্রন্থির মধ্যভাগ বৃদ্ধি পেয়ে মূত্রনালির বাইরের পথ আটকে দেয়। ফলে মূত্রথলি থেকে সহজে প্রস্রাব বের হতে পারে না। তাই ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের বছরে অন্তত একবার অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি প্রস্টেট পরীক্ষা করানো উচিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্টেট গ্রন্থি বাড়তে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রস্টেট না বেড়ে ছোট হয়ে গিয়েও সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। এ রোগের নাম ফাইব্রাস প্রস্টেট। প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যার ক্ষেত্রে দুধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

দুলাল হোসেন : প্রস্টেট গ্রন্থির চিকিৎসা কী?

অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান : মানুষের মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ বা ইউরোলজিস্ট। অর্থাৎ প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা, মূত্রথলি বা কিডনি পাথরের সমস্যা এবং এসব অঙ্গের বিভিন্ন সমস্যায় শল্যচিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ইউরোলজিস্ট। তবে কিডনি রোগের বিষয়টি দেখেন নেফ্রোলজিস্ট বা কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞরা। প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যানসার অত্যন্ত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে এ ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে নিরূপণ করা গেলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু রোগটি ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা করানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তখন খরচ বেড়ে যায় এবং রোগটিও খুব জটিল আকার ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে আরোগ্য লাভ করার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যার ক্ষেত্রে দুধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। একটি হলো ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এবং অন্যটি হলো অপারেশন করে। এ রোগের লেজার চিকিৎসা হচ্ছে প্রস্টেট সমস্যা নিরাময়ে অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সার্জারি করলে রক্তপাত হয় না। আধুনিক এ পদ্ধতিতে পেট না কেটে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে অপারেশন করা যায়। এ পদ্ধতিটি বাংলাদেশের ইউরোলজিস্টরা সফলতার সঙ্গে বিগত কয়েক দশক ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি প্রস্টেট এবং ইউরিনারি ব্লাডারের ভেতরের অংশ দেখা যায়। এর পর হাইফ্রিকোয়েন্সি কারেন্টের সাহায্যে প্রস্টেট চিপস আকারে কেটে বের করে আনা হয়। দীর্ঘদিন প্রস্টেট রোগে ভুগলে মূত্রথলির ভেতরে পরিবর্তন আসে। মূত্রত্যাগের পর বেশি পরিমাণ প্রস্রাব থলিতে জমা থাকলে মূত্রথলির সংকোচন ক্ষমতা কমে যায়। এতে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

দুলাল হোসেন : আপনাকে ধন্যবাদ।

অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান : আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে