চুলে মানুষের এক অপার সৌন্দর্য

  ডা. দিদারুল আহসান

১৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ০১:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

মানুষের বাইরের রূপের অনেকখানি থাকে মাথার চুল। এটির কোনো সমস্যায় (সত্যি বা আপেক্ষিক, যা-ই হোক) হতাশায় ডুবে যায় তরুণ-তরুণীরা। মাথার চুল বেশি ঝরে গেলে অনেকেই তাই ভেঙে পড়েন। হাঁটেন আরও বেশি অন্ধকারের দিকে; আজ এ তেল, তো কাল ও তেল। আজ কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে, কাল টিভি দেখে। এ ভাঙন, এ অন্ধকার থেকে বাঁচাতে পারে শুধু চুল সম্পর্কে সঠিক বিজ্ঞান চেতনা। একই সঙ্গে চুল সঠিভাবে পরিচর্যা করার সম্যক জ্ঞান।

চুল পরিষ্কারের নিয়ম : পরিচ্ছন্নতাই সৌন্দর্যের মূল কথা। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা উচিত। সাধারণভাবে সপ্তাহে একদিন শ্যাম্পু করা দরকার। যাদের রোজই বাইরে বেরোতে হয়, বাস, ট্রেনে ঘুরে বেড়াতে হয় কিংবা যাদের কলকারখানা বা ধুলো-বালির মধ্যে কাজ করতে হয়, তাদের প্রয়োজনে সপ্তাহে দুদিন শ্যাম্পু করতে হবে। প্রয়োজনে আরও বেশি বার করা যায়; প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে মেডিকেটেড শ্যাম্পু। এ ছাড়া নিয়মিত গোসল করতে হবে। রোজ চুল আঁচড়াতে হবে বেশ কয়েকবার। বেশি সরু দাড়ার চিরুনি ব্যবহার করা যাবে না। একটু মোটা দাড়ার চিরুনিই ভালো। অনেকে শুকনো চুল ব্রাশ বা চিরুনি দিয়ে জোরে জোরে আঁচড়ান। এতে চুলের ডগা কেটে যায়। সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহারের সময় অনেকে চুল কাপড় কাচার মতো করে কচলান। মনে রাখতে হবে, চুল শরীরেরই অংশ। তাই সাবধানে পরিচর্যা করা দরকার। সামান্য ভিজে অবস্থায় চুল আঁচড়ালে চুলে আঘাত কম লাগে। আর চিরুনি হতে হবে পরিষ্কার।

চুলের রুক্ষতা যে কারণে : চুল রুক্ষ হলে গন্ধহীন নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। এ জন্য স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। চুলে উকুন আছে কিনা, দেখতে হবে। থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে। চুলে প্রসাধন সামগ্রী কম ব্যবহার করা ভালো। প্রসাধন নির্বাচনে প্রকৃতির যত কাছে থাকা যায়, তত ভালো। প্রাকৃতিক উপাদানের প্রসাধন অনেক বেশি নিরাপদ। এ কারণে আগে মানুষের অ্যালার্জি কম হতো। অ্যালার্জি মূলত সিন্থেটিক যুগের সমস্যা। চুল যাতে রুক্ষ বা লালচে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোদ এড়িয়ে চলা ভালো। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত ক্লোরিনমিশ্রিত পানিতে গোসল ঠিক নয়। চুলের পরিচ্ছন্নতা কিংবা রক্ষা দায়িত্ব নিজের। কাজেই চুল সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, আকর্ষণীয় করে তোলার চাবিকাঠিও যে যার নিজের হাতে।

শুষ্ক বা তৈলাক্ত চুল : ত্বকের মতো, বংশগতির প্রভাবে চুল অনেক সময় শুষ্ক বা তৈলাক্ত হয়। পরিবেশগত কারণ এ জন্য অনেকটা দায়ী। অতিরিক্ত সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহারেও চুল অনেক সময় রুক্ষ করে দিতে পারে। আবার উল্টোটাও সত্যি। অনেকে একদম সাবান বা শ্যাম্প ব্যবহার করেন না। কিন্তু জবজবে করে তেল মাখেন। এতে চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়। চুলে তেল দিয়ে চুলের বিশেষ ক্ষতি হতে পারে, খুশকি বেশি হতে পারে, ময়লা জমতে পারে বেশি।

প্রবাদে আছে, তেলা মাথায় তেল দেওয়া উচিত নয়। এটা বাস্তব সত্যি। চুলের পুষ্টি আসে মূলত শরীরের ভেতর থেকে। তবে যাদের মাথা বা চুল শুষ্ক কিংবা রুক্ষ, তারা তেল দিতে পারবেন। তেল গোসলের আগের চেয়ে গোসলের পরে দেওয়া ভালো। গন্ধহীন বিশুদ্ধ নারকেল তেল মাখা ভালো।

গন্ধযুক্ত নারকেল তেল ব্যবহারে অনেক সময় অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। মাথায় কখনো ভিজে চপচপে করে তেলমাখা উচিত নয়। নিয়ম হলো, চুল সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় অল্প নারকেল তেল দিয়ে মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করা। এতে মাথায় ত্বকের রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। কখনো জোরে জোরে মাথার ত্বক বা চুলের গোড়ায় তেল ঘষা উচিত নয়। বেশি জোরে ঘষলে চুল বেশি উঠতে পারে। চুলের গোড়ায় যাতে আঘাত না লাগে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাই। শ্যাম্পু দেওয়ার পর বেশি টানা-হেঁচড়া করলে চুল আলগা হয়ে যায়। ধারালো ব্রাশ বা চিরুনি দিয়ে জোরে আঁচড়ালেও একই সমস্যা হতে পারে।

লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৭১৫৬১৬২০০, ০১৮১৯২১৮৩৭৮

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে