শরীরের দুর্গন্ধই বলে দেবে রোগের লক্ষণ

  অনলাইন ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:১১ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

ব্যক্তি বিশেষে প্রত্যেক মানুষের শরীরে গন্ধ রয়েছে। শরীর থেকে বেরিয়ে আসা গন্ধগুলো প্রাকৃতিক সুগন্ধির একটি অংশ। তবে মানুষের গায়ের গন্ধও সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। কঠোর পরিশ্রম যেমন ব্যায়াম করার পর শরীর থেকে এক ধরনের গন্ধ বের হয়। আবার পেঁয়াজের তৈরি কোনো খাবার খেলে আরেক ধরনের গন্ধ আসে। তবে শরীরে থেকে যে ধরনের গন্ধই বের হোক না কেন, তা কিছুতেই অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ এসব গন্ধই আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বার্তা দেয়।

সুইডিশ গবেষকরা বলেছেন, কিছু রোগ আসলে একটি অনন্য এবং বিশিষ্ট গন্ধ উৎপাদন করতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগে থেকে সতর্ক হওয়া ভালো।        

শরীরের যে গন্ধগুলো অবহেলা করা উচিত নয় তার একটি তালিকা দিয়েছে লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই ডট কম-

সুস্বাদু শ্বাস-ডায়াবেটিসের উপসর্গ

শরীরে ইনসুলিন এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে যে অবস্থা বিরাজ করে সেটাই হলো ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিস। এই অবস্থায় আপনার শরীর শক্তি সৃষ্টি করতে পারে না। এর ফলে দেহের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এটি দেহের ফ্যাটি অ্যাসিডকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এটি আপনার রক্তে কেটোনস নামে অ্যাসিডিক রাসায়নিক তৈরি করে। অ্যাসিটোন নামের এই অ্যাসিড আপনার শ্বাসের মধ্যে একটি ফলের গন্ধ ছেড়ে দেয়। ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিসের এর প্রভাব পরে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।   

দুর্গন্ধযুক্ত পা-খেলোয়াড়ের পায়ের লক্ষণ

যদি দেখেন আপনার পায়ের পাতার চারপাশে চামড়া শুকিয়ে খসখসে হয়ে গেছে। আবার কখনও চামড়া লাল হয়ে ফোস্কা পড়েছে তাহলে বুঝবেন আপনার পা ক্রীড়াবিদের পায়ের মতো। এই ধরনের পা ঘামলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। আসলে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের সংমিশ্রণে এই দুর্গন্ধ বের হয়।

দুর্গন্ধযুক্ত মল-ল্যাক্টোজ কাজ না করার লক্ষণ

দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলোতে সাধারণত ল্যাক্টোজ পাওয়া যায়। যখন আপনার ছোট অন্ত্রটি যথেষ্ট পরিমাণে ল্যাক্টোজ নামের এনজাইম উৎপন্ন করে না, তখন এটি ল্যাক্টোজ হজম করতে পারে না। এতে আপনার ছোট্ট অন্ত্র সরাসরি রক্তচাপের পরিবর্তে কোলনকে ল্যাক্টোজ নির্দেশ করে, যেখানে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াটি খিঁচুনির সৃষ্টি করে। এর ফলে দুর্গন্ধযুক্ত মল, বমিতে দুর্গন্ধ এবং গন্ধযুক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে।

প্রস্রাবে গন্ধ-মূত্রনালীর সংক্রমণ

মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবে তীব্র গন্ধ হতে পারে। এটা তখনই ঘটে থাকে যখন ব্যাকটেরিয়া ই. কোলি আপনার মূত্রনালীতে প্রবেশ করে। তারপর এই ব্যাকটেরিয়া আপনার মূত্রাশয়ে গিয়ে সংক্রমণের সৃষ্টি করে। মূত্রনালী ছোটো হওয়ায় মূত্রাশয়ের সংক্রমণে বেশি ভোগেন নারীরা। কাজেই আপনার প্রস্রাবে যদি তীব্র গন্ধ পান তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।   

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ- নিদ্রাহীনতার উপসর্গ

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা একটি সমস্যা। আসলে ঘুমিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বলেই এমনটি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত নাক ডাকার সময় শ্বাসটা যখন মুখ দিয়ে বের হয় তখন মুখের ভেতর শুকিয়ে যায়। এর ফলে দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস বের হয়। এমনটি হলে ব্যাকটেরিয়া আরও সহজে বিস্তার লাভ করে। আর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে সালফার গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।  

যোনির দুর্গন্ধ

প্রত্যেক নারীর যোনির গন্ধ ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হয়। বিভিন্ন সময়ে এই গন্ধটা পরিবর্তন হতে পারে। আসলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণেই যোনি থেকে খারাপ গন্ধ বের হয়। কাজেই আপনি যদি এর দুর্গন্ধে কোনো বিপদের আঁচ পান তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।     

স্থায়ী খারাপ শ্বাস

সুনির্দিষ্ট কিছু খাবার বিশেষ করে পেঁয়াজ খেলে প্রত্যেকের মুখ থেকে গন্ধ বের হয়। কিন্তু আপনি যদি প্রায়ই অনুভব করেন আপনার শ্বাসে খারাপ গন্ধ আছে,তাহলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তবে শুধু খাবার নয়,  দাঁত ও মাড়ির সমস্যা, সাইনাস বা নাকের অন্য কোনো সমস্যার কারণেও শ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে।       

ঘামে দুর্গন্ধ

কখনও কখনও আপনার ঘাম থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে। এই পরিবর্তনটা তখনই আসে যখন ট্রিমেথাইলামিনোরিয়া নামক একটি বিরল জিন আপনার শরীরে অবস্থান করে। আসলে ট্রিমেথাইলামিনোরিয়া নামের এই যৌগটি ঘামে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।  

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে