• অারও

মূত্রপথ সংক্রমণে রোগীর করণীয়

  ডা. মো. অহিদুজ্জামান

১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর বারবার মূত্রপথের সংক্রমণ হয়, তাদের এ সংক্রমণের জন্য রক্তের বিশেষ ধরনও দায়ী। এসব নারীর যোনি ও মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়া সহজে লেগে থাকে।

গর্ভাবস্থায় মূত্রপথের সংক্রমণ : অন্য নারীর তুলনায় গর্ভবতীর মূত্রপথে সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায় না। তবে গর্ভবতীর মূত্রপথে সংক্রমণ হলে সেই সংক্রমণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিছু তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত হন ২ থেকে ৪ শতাংশ গর্ভবতী। বিজ্ঞানীদের ধারণা, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন হয় বলে মূত্রপথের অবস্থান সরে যায়। এ কারণে ব্যাকটেরিয়া সহজে বৃক্কনালি পথে কিডনিতে পৌঁছায়। তাই গর্ভাবস্থায় প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রস্রাবের পরীক্ষা করে দেখা উচিত কোনো সংক্রমণ আছে কিনা।

কিডনি রোগ ও মূত্রপথের সংক্রমণ : কিডনি রোগ ও মূত্রপথের সংক্রমণ এক নয়। এর একটির কারণে অন্যটি হতে পারে। কিডনি রোগের প্রধান দুটি কারণ হলোÑ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। পরিবারের কারো কিডনি সমস্যা হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া নেফ্রাইটিস, ডায়রিয়া, পুড়ে যাওয়া, একাধিকবার মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রনালিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা, পলিসিস্টিক কিডনি, টিউবারকুলোসিস বা যক্ষ্মা, হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি কারণে কিডনি রোগ হতে পারে।

কিডনি রোগের উপসর্গ : ঘন ঘন প্রস্রাব, রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তিবোধ, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, হাত-পা ও চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা, মাংসপেশিতে খিল ধরা, হাত ও পায়ের আঙুল ক্রমে ফুলে যাওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, রক্তে ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত, ইউরিক অ্যাসিড ও প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, অল্প পরিশ্রমে বুক ধড়ফড় ও শ্বাসকষ্ট হওয়া, কোমরের পেছন দিকে ব্যথা করা ইত্যাদি।

রোগের লক্ষণগুলো : ইউটিআই বা মূত্রপথের সংক্রমণে সবার রোগের উপসর্গ থাকে না। তবে বেশিরভাগের কিছু লক্ষণ থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব করার তাড়া এবং প্রস্রাব করার সময় মূত্রথলি বা মূত্রনালি এলাকায় ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভব করা। একপর্যায়ে দেখা যায়, প্রস্রাব করা হচ্ছে না অথচ ক্লান্ত, বিচলিত হয়ে পড়েছেন এবং ব্যথা অনুভব করছেন।

এ ক্ষেত্রে নারীরা তলপেটে অস্বস্তিকর চাপ অনুভব করেন এবং কিছু পুরুষ মলনালি পায়খানায় ভরে ওঠার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। মূত্রপথের সংক্রমণের অনেক রোগীই বলে থাকেন, তাদের ঘন ঘন প্রস্রাবের পরিবর্তে খুব সামান্য পরিমাণ প্রস্রাব হচ্ছে। প্রস্রাব দুধের মতো অথবা ঘোলা হতে পারে। এমনকি লালচে হতেও পারে। যদি প্রস্রাবে রক্ত থাকে, যদি জ্বর থাকে তা হলে বুঝতে হবে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়েছে। কিডনির অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছে পিঠ ব্যথা অথবা পাঁজরের নিচের দুপাশে ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি।

শিশুদের ক্ষেত্রে মূত্রপথের সংক্রমণ বেশির ভাগ মা-বাবাই উপেক্ষা করেন। যদি শিশু খিটখিটে হয়ে যায়, স্বাভাবিকভাবে খেতে না চায়, দীর্ঘদিন জ্বর থাকে, পাতলা পায়খানা হয় কিংবা স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে তার মূত্রপথের সংক্রমণ হয়েছে। যদি শিশুর প্রস্রাবে কোনো ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করেন, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখাবেন।

লেখক : কিডনি, মূত্রথলি ও নালি, প্রস্টেট, অ-কোষ ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ

কনসালট্যান্ট, ইউরোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা

চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৭১১০৬৩০৯৩, ০১৯১১৭৬৫১৫০

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে