ইন্টারস্টিসিয়াল লাং ডিজিজ

  প্রফেসর ডা. মো. রাশিদুল হাসান, ডা রওশন আরা খানম

১৯ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৮, ০২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই (আইএলডি বা ইন্টারস্টিসিয়াল লাং ডিজিজ) ডিফিউজ প্যারেনকাইমাল লাং ডিজিজ (উচখউ) নামে পরিচিত। আইএলডি/ইন্টারস্টিসিয়াল লাং ডিজিজ আসলে কোনো একটি রোগ নয়, বরং কমপক্ষে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী ২০০ রোগের সমাহার, যাকে আমরা এক নামে আইএলডি বলি। আইএলডিতে ফুসফুসের ইন্টারস্টিসিয়াম আক্রান্ত হয়। ইন্টারস্টিসিয়ামের অর্থ বায়ুথলির চারিপাশের পর্দা। এ পর্দায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা প্রদাহের কারণে মোটা পর্দা তৈরি হয় এবং ফুসফুস দুটি কার্যত ছোট হয়ে আসে। এতে বায়ুথলির অক্সিজেন রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে না। ফলে রোগী সব সময় অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগে থাকেন। আইএলডিয়ের একটা বড় অংশের কারণ আজও অজানা থেকে গেছে, যাকে আমরা আইপিএফ (ওহঃবৎংঃরঃরধষ চঁষসড়হধৎু ঋরনৎড়ংরং) বলি। আইপিএফ সাধারণত বয়স্ক পুরুষের হয়। আইপিএফ ব্যতীত অন্যান্য যেসব কারণ রয়েছে কিছু অটোইমিউন ডিজিজ, যেমনÑ এসএলই, গেটেবাত, সারকয়ডোসিস ইত্যাদি। তবে বংশগত কারণও থাকতে পারে এ রোগের ক্ষেত্রে। কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও ওখউ হতে পারে। যেমনÑ এমিওডারন, নাইট্রোফুরানটোয়েন, বিওমাইসিন, মেথট্রেকজেট ইত্যাদি। কখনো কখনো কর্ম-পরিবেশের ধুলো-ময়লা থেকেও ওখউ হতে পারে। যেমনÑ এসবেস্টস, সিলিকা বা কয়লাখনিতে অনেক দিন কাজ করলে খনিজ মিশ্রিত ধুলোবালি ফুসফুসে ফাইব্রোসিস করে। অনেকের শখ করে পোষা বিড়াল, পাখি, মুরগি বা কবুতর লালন পালন করে থাকেন। এসবের সংস্পর্শেও অনেক সময় আইএলডি হয়ে থাকে, যাকে আমরা পশুপাখির সংস্পর্শে আইএলডি বলি। তবে এটা অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। কখনো কখনো ফুসফুসে ছড়িয়ে যাওয়া ক্যানসার, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য দেওয়া রেডিও থেরাপি ও আইএলডির কারণ হতে পারে। সব ধরনের আইএলডি-এর প্রধান উপসর্গ হচ্ছে শুকনো কাশি ও হাঁটলে শ্বাসকষ্ট। ফলে রোগী স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হাঁপিয়ে ওঠেন। তবে এটা ক্রমবর্ধমান এবং মাঝে মধ্যে জীবনঘাতী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, অবসাদ ইত্যাদিও থাকতে পারে। আইএলডি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে শরীরে অক্সিজেনের অভাবে কিছু পরিবর্তন আসে। যেমনÑ আঙুলের মাথা মোটা হয়ে যাওয়া, হার্ট বড় হয়ে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা কমে আসা। অপঁঃব ওহঃবৎংঃরঃরধষ চহবঁসড়হরধ হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া এক ধরনের আইএলডি, যাতে ফুসফুস হঠাৎ করে অকেজো হয়ে যায় এবং রোগী বাঁচেন না বললেই চলে। শুধু রোগের ইতিহাস বা উপসর্গ থেকে আইএলডি পুরোপুরি নির্ণয় করা যায় না। এ জন্য নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার দরকার হয়। যেমন- ফুসফুসের ঐজঈঞ স্ক্যান, উখঈঙ, স্পাইরোমেট্রি ইত্যাদি। কখনো কখনো ব্রংক্সস্কপির ও প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা আসলে আইএলডি-এর ধরনের ওপর নির্ভর করে। আইএলডি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য অসুখ হলেও পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। রোগের উপসর্গ কমানো ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেষ্টা করা হয় মাত্র। ওষুধের মাধ্যমে ফুসফুসের নষ্ট হওয়ার গতি কমানো যায় কিন্তু পুরো নিরাময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। সম্প্রতি কিছু ওষুধ বাজারে এসেছে, যা ব্যবহারে আগের চেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। কিছু রোগীকে শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য বাসায় বসেই অক্সিজেন দেওয়া হয়। ফুসফুসের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে উপসর্গ কিছুটা কমতে পারে। বিদেশে প্রয়োজনে ফুসফুস প্রতিস্থাপনও করা হয়। যে কেউ যে কোনো সময় আইএলডিতে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই ক্ষতিকারক বস্তু থেকে দূরে থাকা, ধূমপান পরিহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

লেখকদ্বয় : চেয়ারম্যান, ইনজিনিয়াস হেলথ কেয়ার লি. (পালমোফিট), রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট (চেস্ট ডিজিজেস)। ০১৭৮৫৭৭৭৭৯৯

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে