দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য ১ জন ফিজিয়াট্রিস্ট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০০ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

দেশের পূর্ণবয়স্ক প্রতি চার জন মানুষের এক জন (শতকরা ২৫ ভাগ) মানুষ মাংসপেশী, হাড়জনিত ও বিভিন্ন স্নায়ুরোগে ভুগছেন। সেই হিসেবে দেশের ২ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। অথচ দেশের প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে ফিজিয়াট্রিস্ট আছেন মাত্র এক জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

আজ শনিবার সকালে বিশ্ব ফিজিয়াট্রি দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

২৬ অক্টোবর ছিল বিশ্ব ফিজিয়াট্রি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “ব্যথামুক্ত কর্মক্ষম জীবন গড়ি”। গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটিরদিন থাকায় আজ শনিবার বিশ্ব ফিজিয়াট্রি দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএসএমএমইউতে র্যা লি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব  ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে পূর্ণবয়স্ক প্রতি চার জনে এক জন মানুষ মাংসপেশী, হাড়জনিত ও বিভিন্ন স্নায়ুরোগে ভুগছেন। এটি  ২০০৫ সালে জরিপের তথ্য। পরিবেশ দুষণ, ভেজাল খাদ্য গ্রহণসহ নানা সমস্যাজনিত কারণে এই ধরনের রোগী বেড়ে চলছে। বর্তমানে প্রতি তিন জনে এক জন মানুষ মাংসপেশী, হাড়জনিত ও বিভিন্ন স্নায়ুরোগে ভুগছেন হতে পারে। দেশে পূর্ণবয়স্ক (১৮ বছরের উর্ধ্বে ভোটার) মানুষ আছেন ১০ কোটি ৪২ লাখের বেশি। সেই হিসেবে দেশের ২ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মাংসপেশী, হাড় ও স্নায়ুজনিত সমস্যা রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র একজন ফিজিয়াট্রিস্টই পারেন অক্ষম ব্যক্তিদের সার্বিক উন্নতির মাধ্যমে কর্মক্ষম করতে ও তার সামগ্রিক চিকিৎসার নির্দেশনা দিতে। ফিজিয়াট্রিস্টরা সার্বিক রোগ নির্ণয় করেন এবং ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য মডালিটি ব্যবহার করে সহযোগী দক্ষ জনবল নিয়ে গঠিত রহ্যাব টিমের মাধ্যমে পরিপূর্ণ চিকিৎসা এবং রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এমনকি রিহ্যাব টিম গঠনের মাধ্যমে ফিজিয়াট্রিস্টরা বাত-ব্যথা রোগ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং অন্যান্য ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত অক্ষম রোগীরে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক পুনর্বাসন করে থাকেন। এক্ষেত্রে ফিজিয়াট্রিস্টরা টিম লিডারের ভূমিকা পালন করে। এই টিমে কারা অন্তর্ভুক্ত হবেন তা ফিজিয়াট্রিরা নির্ধারণ করেন। বর্তমানে ফিজিয়াট্রিরা আরও আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা যেমন স্টেম সেল থেরাপি, ওজন থেরাপি, পিআরপি থেরাপি এবং রোবটিক্স থেরাপি করছেন। এর ফলে বিভিন্ন জটিল রোগ অপারেশন ছাড়াই ভালো করা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চিকিৎসা একটি বিজ্ঞানসম্মত বিষয়। এখানে করিবাজি বা অপচিকিৎসার কোনো সুযোগ নাই। ফিজিয়াট্রিস্টরা রোগীর রোগ নির্ণয়, পরিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান এবং সামগ্রিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পূর্নাঙ্গ বিভাগ রয়েছে। দেশের ১৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিজিয়াট্রিস্ট রয়েছে। এখন প্রতিটি জেলায় ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ তৈরি করা প্রয়োজন।

সভায় বিএসএমএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. তছলিম উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, অধ্যাপক শাসুন্নাহার, অধ্যাপক ডা. মো. এ কে এম সালেক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেলী রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন আব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ চিকিৎসক বক্তব্য দেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে