গর্ভাবস্থায় আম খাওয়ার ঝুঁকি আছে

  অনলাইন ডেস্ক

১৫ মে ২০১৭, ১২:২৬ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৭, ১২:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

গরম কাল মানেই টাটকা, রসালো, সুস্বাদু আমে মজে থাকার সময়। কাচা কিংবা পাকা যে কোন আমই খেতে অনেক ভাল লাগে। এটি শরীরের জন্যও অনেক উপকারী। আমে আয়রন রয়েছে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এতে বিদ্যমান ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে ও ভিটামিন সি রক্তে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের মোকাবিলা করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে ও ফাইবার হজমে সাহায্য করে। এগুলো ছাড়াও আমের আরও নানা গুণ রয়েছে। তারপরও আপনি যদি প্রেগন্যান্ট হন তাহলে আম খাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা মেনে চলুন। আম খুবই পুষ্টিকর ফল হলেও এই সময় গর্ভবতী নারীদের জন্য কিন্তু একটা ঝুঁকি থেকেই যায়।

গর্ভাবস্থায় আম খেতে সতর্ক থাকবেন যে কারণে-

ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় আম খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। অন্যান্য ফলের তুলনায় এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। ক্যালোরি বেশি থাকার জন্য গর্ভাবস্থার তৃতীয় পর্যায়ে আম খাওয়া খুব জরুরি। কেননা এই সময় বেশি এনার্জির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক সময়ই আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড দেওয়া হয়। যা গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় যদি আপনার ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাহলে তো কোন কথায় নেই। আবার আম পরিমিত পরিমাণ না খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। যা থেকে ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন। তাই এ সময় আম খেতে সতর্ক থাকাই ভালো।

তারপরও আম খেতে চাইলে.....

আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তারপরও খেতে চাইলে আম খাওয়ার আগে খুব ভাল করে ধুয়ে নিন। খোসা ছাড়িয়ে নিন ও খোসার গা থেকে সরাসরি আমের শাঁস খাবেন না। সবচেয়ে ভাল হয় যদি কাঁচা অবস্থায় আম কিনে বাড়িতে পাকিয়ে নিতে পারেন। তাহলে রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা কম। পাকা আম কাটার পর ছুরি, হাত ভাল করে ধুয়ে নিন। স্মুদি, জুস বা আমের কোন ডেজার্ট বানাতে হলে বেশি চিনি মেশাবেন না।

কেনার আগে ভাল আম চিনবেন কীভাবে?

গন্ধ যাচাই করুন

ফল টাটকা কি না বুঝতে নিজের ঘ্রাণশক্তির উপর ভরসা রাখুন। আমের প্রকার অনুযায়ী বদলে যায় সুগন্ধ। আমের বোঁটার কাছ থেকে যদি ফলের মিষ্টি গন্ধ বেরোয় তাহলে সেই আম কিনুন। খুব জোরালো, টক বা অ্যালকোহলিক গন্ধ বেরোলে সেই আম কিনবেন না।

সুন্দর নরম আম কিনুন

আমের গায়ে আঙুলের মাথা দিয়ে টিপে টিপে দেখুন। পাকা আম সুন্দর নরম হবে। কিন্তু যদি আঙুলের চাপে গর্ত হয়ে যায় তা হলে সেই আম কিনবেন না। তবে যদি বাড়িতে এক সপ্তাহ রেখে খেতে চান তা হলে একটু শক্ত দেখে আম কিনুন।

কুঁচকানো আম কিনবেন না

কেনার আগে আম ভালোভাবে দেখে কিনুন। খোসা কুঁচকে গেছে এমন আম কিনবেন না। রঙ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারপরও লাল, সোনালি হলুদ, সবুজ, গেরুয়া, কমলা যে কোন রঙের আম যদি দেখতে সুন্দর লাগে তাহলে কিনতে পারেন।

খুঁতখুঁতে হোন

অনেক আমবিক্রেতাই কাঁচা আম কিনে কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে বিক্রি করেন। আম কেনার ব্যাপারে তাই একটু খুঁতখুঁতে হওয়া ভাল। এক্ষেত্রে টাটকা, অরগ্যানিক আম যেখানে পাবেন সেখান থেকে কিনে নিন। এছাড়া অনেক বিক্রেতা আছেন যারা একদম গাছ পাকা আম বিক্রি করেন। যদি সম্ভব হয় তাদের কাছ থেকে আম কেনার চেষ্টা করুন। এতে ঝুঁকিও কমবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে