৩০-এর পরও ত্বক থাকবে সুন্দর-প্রাণোচ্ছ্বল

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ মে ২০১৭, ১৪:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

ত্বক অনেক সুন্দর, প্রাণোচ্ছ্বল এবং আকর্ষণীয় হবে এমন প্রত্যাশা সবারই আছে। এজন্য কম-বেশি সবাই ত্বকের যত্ন নিয়ে থাকেন। কেউ কেউ আছেন যারা বাড়িতেই ত্বকের যত্ন নেন, আবার কেউবা যান  পার্লারে। তবে যেখানেই যাননা কেন ত্বকের যত্ন নেওয়াটাই বড় কথা। কেননা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ত্বকের ভিতরে নয়, বাইরেও নানা পরিবর্তন আসে। চামড়া ঝুলে পড়তে শুরু করে। আর শরীরের এই পরিবর্তনগুলো শুরুই হয় মূলত ৩০ বছরের পর থেকে। তাই এই সময় শরীর এবং ত্বকের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি। তা না হলে অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক্ষেত্রে ৩০ বছরের পরও ত্বক সুন্দর ও প্রাণোচ্ছ্বল রাখতে যা করতে পারেন-

সি টি এম

সি টি এম শব্দটিতে 'সি'  হলো ক্লিনিং (মুখ পরিষ্কার করা), টি= টোনিং আর এম= ময়েশ্চারাইজিং। প্রতিদিন এই তিনটি জিনিস করলে ত্বকের সৌন্দর্য কমবে না, বরং বাড়বে। আসলে পরিবেশ দূষণ এবং আরও নানা কারণে দিনের শেষে ত্বকের উপরিঅংশে ক্ষতিকর উপাদানের একটা স্থর তৈরি হয়। এই স্থর যদি সরানো না যায়, তাহলে ত্বকে রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কার করাটা জরুরি। আর ত্বক পরিষ্কারের পর স্কিনের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং-এর কোন বিকল্প নেই।

উপকারী উপাদান

ত্বকের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সহ একাধিক উপাদনের প্রয়োজন পরে। এগুলি নানা প্রসাধনির মাধ্যমে ত্বক পেতে পারে। সেক্ষেত্রে যখনই ত্বকের পরিচর্যার জন্য কোন বিউটি প্রডাক্ট কিনবেন, তখনই দেখে নেবেন তাতে ত্বকের উপকারী এইসব উপাদানগুলি রয়েছে কিনা।

খাওয়া-দাওয়া

প্রতিদিনের ডায়েটে যেন প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি আর ফল থাকে। কারণ এই খাবারগুলিতে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে শরীরে ভেতরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বাইরে বের করে দেয়। ফলে একাধিক রোগে ভোগার আশঙ্কাও কমে।

সাপ্লিমেন্ট

ত্বককে টানটান রাখতে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্টের কোন বিকল্প নেই। আসলে এই ভিটামিন দুটি ত্বকের ভিতরে কোলেজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্কিন উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

দইয়ের ফেসমাস্ক

ত্বকের পরিচর্যায় দইয়ের ফেসমাস্ক দারুণ কাজে আসে। এক্ষেত্রে প্রথমে পরিমাণ মতো দই নিয়ে ভাল করে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ফেলুন। ১৫ মিনিট পর হলকা গরম পানি দিয়ে মুখ আর গলা ধুয়ে ফেলুন। প্রসঙ্গত, দইয়ের সঙ্গে ইচ্ছা হলে মধু মিশিয়েও মুখে লাগাতে পারেন। তাতে বেশি উপকার মেলে।

ব্যায়াম

শুধু সুস্থ থাকতে নয়, বরং ত্বক সুন্দর রাখতেও ব্যায়ামের গুরুত্ব রয়েছে। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, প্রতিদিন এক্সারসাইজ করলে অথবা ৩০ মিনিট হাঁটলে ত্বক পরিষ্কার হয়, সেই সঙ্গে শরীর থেকে সব টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়, স্ট্রেস কমে এবং ব্রণের প্রকোপ হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে।

স্কার্বিং

ত্বককে সুন্দর এবং উজ্জ্বল করে তুলতে সপ্তাহে কম করে ৩ বার স্কার্বিং-এর মাধ্যমে ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষেদের ধুয়ে ফেলতে হবে। এমনটা নিয়মিত করতে পারলে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা সহজ হয়। এক্ষেত্রে স্ক্রার্ব হিসেবে লেবুর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু এবং চিনি মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণ লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ভাল করে ঘষলে দেখবেন ত্বকের মৃত কোষের আবরণ সরে যাবে। আর আপনার ত্বকও ফিরে পাবে তার প্রাণ।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান

ত্বক ভিতর থেকে যত আর্দ্র থাকবে তত তার উপর বয়সের ছাপ কম পরবে। এজন্য ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দিনে কম করে হলেও ৩-৪ লিটার পানি পানের চেষ্টা করুন। এতে উপকার মিলবে।

সানস্ক্রিন

বয়স ৩০ এর বেশি হলে এস পি এই- ৩০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার শুরু করুন। এতে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক রক্ষা পাবে। ফলে স্কিন ড্যামেজের আশঙ্কা কমে আসবে। সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই ডম কম।

 
        

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে