মৃত্যুর আগে কী হয়?

  অনলাইন ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৭ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

সৃষ্টির আদি থেকেই মৃত্যু এক রহস্যে ঘেরা বিষয়। মৃত্যু নিয়ে মানুষের জিজ্ঞাসার শেষ নেই। মৃত্যু কেমন, কেমন অনুভূতি হয় মৃত্যুর সময়, মৃত্যু কি আসলেই খুব কষ্টের, এমন প্রশ্নেরও শেষ নেই। প্রশ্নগুলোর অনেকটা জবাব মিলেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে, মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থেকে উপলব্ধি করা কিছু মানুষের অভিজ্ঞতা। চ্যানেলটির কাছে অনেকেই মৃত্যুর নিকটবর্তী অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়—মানুষ যখন মারা যায় তখন তার শরীর অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কিন্তু তখনও সচল থাকে। নতুন এক গবেষণায় জানা যায়, মৃত্যুর পরও মস্তিষ্ক স্মৃতিতে ধারণ করা বেশ কিছু তথ্য প্রতিফলন করতে থাকে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক নিউরোলজিস্ট ড. ক্যামেরন শ মৃত্যুর ঠিক ৩০ সেকেন্ড আগ মুহূর্তে কী ঘটে তা জানার জন্য এক নারীর মস্তিষ্কের পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মৃত্যুর ঠিক ৩০ সেকেন্ড আগের একজন মানুষের জীবনকে ১০ সেকেন্ড করে ভাগ করা যেতে পারে। মস্তিষ্কের ওপরের অংশে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো স্নায়ুকোষে ধারণ করা থাকে। প্রথমে সেই স্নায়ুকোষের মৃত্যু হয়। প্রথম ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে মানুষের আত্মসম্মানবোধ, আধ্যাত্মিক ভাবনার মৃত্যু ঘটে। এরপর মস্তিষ্কে রক্ত না পৌঁছানোর কারণে সেখানের স্নায়ুকোষগুলো স্ফীত হয়, ছোট হতে থাকে স্মৃতিচারণ ও ভাষার কেন্দ্রস্থল।

ক্যামেরন আরও বলেন, মৃত্যুর সন্নিকট হওয়ার অভিজ্ঞতা ও শরীরের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা এক নয়। তার একজন স্নায়ুবিজ্ঞান প্রশিক্ষক ছিলেন। প্রায় মৃত্যুর অভিজ্ঞতা থেকে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছিল। পরে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়।  সুস্থ হওয়ার পর তিনি তার অভিজ্ঞতা জানান।

তবে দেখা যায়, ওই প্রশিক্ষকের জানানো মৃত্যুর আগের কোনো ঘটনাই বাস্তব ছিলো না। মস্তিষ্ক সে সময় একটি কল্পনার জগৎ সৃষ্টি করে। যেখানে বাস্তবের মতো অনেক কিছুই দেখা যাবে। তবে তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল না থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষ সে সময় বলতে গেলে অন্ধ থাকে।

ওই প্রশিক্ষক আরও জানান, প্রায় মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পান। সেটির শেষে একটি  আলোর উৎস ছিল।

তবে গবেষকরা জানান, মৃত্যুর আগে মস্তিষ্কে রক্তের অভাবে ওই সুড়ঙ্গ দেখতে পান মৃত্যু পথযাত্রীরা।  যেখানে দেখা যায় প্রায় অদূরে কোথা থেকে যেন আলো আসছে।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে, জেরুজালেমের হাদাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় জানা যায়, এসময় চোখের সামনে ‘জীবনের একটি ঝলক দেখতে পায় মানুষ।’
বিশ্ববিদ্যালয়টি মৃত্যুর নিকটবর্তী অভিজ্ঞতা হয়েছে এমন সাত ব্যাক্তির অভিজ্ঞতা  নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ করেন।  তাদের মধ্যে প্রত্যেকেই ফ্ল্যাশব্যক, অন্য একটি বিকল্প মহাবিশ্বে নিয়ে যাবার কথা বলেন। 

তাদের মধ্যে একজন জানান, সে সময় আপনার মনে হবে, আপনি যেন কয়েক শতাব্দী ধরে এই মুহূর্তে আটকা পড়ে আছেন। সেখানে নেই কোনো সময়ের ধরা-বাঁধা। কখনও মনে হবে এটি একটি মুহূর্ত এবং কয়েক হাজার বছরের সমাবেশ। তবে সব ঘটছে এক মুহূর্তেই। আরেকজন জানান, জীবনের চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে তিনি পরিবার ও বন্ধুর ফ্ল্যাশব্যাক দেখছিলেন।
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে