৩০০ বছরের পুরোনো ‘শয়তানের চিঠি’ অবশেষে অনুবাদ

  অনলাইন ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

বাজারে এই মুহূর্তে রমরমিয়ে চলছে করিন হার্ডি পরিচালিত ভয়ঙ্কর ছবি ‘দ্য নান’। এক সন্ন্যাসিনীর উপর পৈশাচিক আবেশ নিয়ে ‘কনজ্যুরিং ইউনিভার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজির এই ছবির বিষয় এক সন্ন্যাসিনীর ওপরে পৈশাচিক আবেশ বা সোজা বাংলায় বললে শয়তানের ভর। ঠিক সেই সময়েই সংবাদ শিরোনামে উঠে এলো আজ থেকে ৩০০ বছর আগে ‘শয়তানের দ্বারা আবিষ্ট’ এক সন্ন্যাসিনীর সত্য কাহিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০০ বছর আগে ইতালির সিসিলি অঞ্চলের পালমা দ্র মন্টেকিয়ারো কনভেন্টে সিস্টার মারিয়া ক্রসিফিস্সা দেল্লা কনসিজিওন নামে এক সন্ন্যাসিনীর ওপরে শয়তান ভর করে। ১৬৭৬ সালের এক সকালে মারিয়া ঘুম থেকে ওঠে সারা গায়ে কালি মাখা অবস্থায়। সারা রাত সে নাকি আবিষ্ট অবস্থায় চিঠি লিখেছিল।  

মারিয়া ১৫ বছর বয়স থেকে এই কনভেন্টের বাসিন্দা। তার আচরণে আগে কখনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু সেই দিন তাকে বারবার অস্বাভাবিক চিৎকার করতে দেখা গিয়েছিল।

কনভেন্টের রেকর্ড থেকে জানা যায়,  মারিয়া পরে বলে, এই সব চিঠি তাকে দিয়ে লিখিয়েছে শয়তান। মারিয়ার বক্তব্য থেকেই জানা যায়, শয়তান পৃথিবী থেকে ঈশ্বরের রাজত্ব ঘুচিয়ে তার নিজের শাসন কায়েম করতে তাকে ব্যবহার করছে।

মারিয়া যেসব ‘চিঠি’ লিখেছিল, সেগুলো কোনো চেনা হরফে রচিত নয়। সম্পূর্ণ অপরিচিত হরফে রচিত এই চিঠিগুলো কেউ অনুবাদ করতে পারেনি সেই সময়ে। সময়ের আবর্তে বেশ কিছু চিঠি হারিয়ে যায়। কিন্তু একটি থেকে যায় কনভেন্টের সংগ্রহে। সম্প্রতি সেই চিঠি অনুবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির লুডাম সায়েন্স সেন্টার।
লুডাম সায়েন্স সেন্টারের ডিরেক্টর ড্যানিয়েল অ্যাবেট জানান, ডার্ক ওয়েব থেকে প্রাপ্ত একটি সফটওয়্যারের সাহায্যেই এই অনুবাদ সম্ভব হয়েছে।

অ্যাবেটের মতে, গুপ্তচর সংস্থাগুলো এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে আধুনিক সময়ের গুপ্ত সংকেতের অনুবাদ করে। এই ‘শয়তানের চিঠি’টি রচিত হয়েছিল প্রাচীন গ্রিক, আরবি, লাতিন এবং প্রাচীন জার্মান হরফ রুন মিশিয়ে। অনুবাদের পরে এই চিঠির সারমর্ম উদ্ধার হয়, তা প্রকৃত অর্থেই ‘পৈশাচিক’।

অ্যাবেট জানান, এই চিঠিতে ঈশ্বর, যিশু এবং পবিত্র আত্মার নিন্দা করা হয়। বলা হয়, ঈশ্বর মনে করেন, তিনি মানবের মুক্তিদাতা। কিন্তু তার ‘সিস্টেম’ আদৌ কাজ করে না। এই চিঠিতে এমন কথাও রেয়েছে, ঈশ্বর মানুষেরই কল্পনাপ্রসূত। এই অনুবাদের পরেও অ্যাবেট বিশ্বাস করেন না, মারিয়া শয়তানের দ্বারা আবিষ্ট হয়েছিল। তার মতে, সে স্কিৎজোফ্রেনিয়ার মতো কোনো মনোরোগের শিকার হয়ে থাকতে পারে। সম্ভবত সে অনেকগুলো প্রাচীন ভাষা জানত। তারই প্রতিফলন পড়ে এই চিঠিগুলিতে।

মারিয়ার ঠিক কী হয়েছিল, আজ জানার উপায় নেই। কিন্তু ডার্ক ওয়েবর মতো এক রহস্যঘন পরিসর থেকে এই চিঠির অনুবাদ হওয়ার ঘটনাকে মোটেই সোজা নজরে দেখছেন না প্যারানর্মাল তত্ত্বে বিশ্বাসীরা। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে