মৃত্যুর পরের বাড়ি বানাচ্ছেন তিনি!

  অনলাইন ডেস্ক

২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

মৃত্যুর পর নিজের ও তিন স্ত্রীর জন্য সমাধি তৈরি করেছেন তানজানিয়ার অধিবাসী অ্যান্টন মান্দুলানি। গত আট বছরে প্রকল্পটি তৈরিতে খরচ করেছেন পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার। আরও চার বছর লাগবে কাজটি সম্পন্ন হতে। সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন বিচিত্র তথ্য।

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মান্দুলামি জানিয়েছেন, তিনি যে সমাজে থাকেন সেখানে মৃত্যু নিয়ে খুব একটা কথা বলা হয় না। তবে তার ইচ্ছা, মৃত্যুর পরে তার দেহ যেন মমি করা হয় এবং প্রকাশ্যে সেটি প্রদর্শন করা হয়। মান্দুলামির খানিকটা ব্যতিক্রম চিন্তা ইতিমধ্যেই সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

বিবিসির ডকুমেন্টারিতে দেখা গেছে, বাইরে দেখে নির্মাণ কাজের ধরন দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো বাড়ি বানানো হচ্ছে। তবে ভেতরের চিত্র যেকাউকে চমকে দেবে। সেখানে রয়েছে ১২ মিটার গভীর একটি সমাধি,যা হবে মান্দুলামি ও তার তিন স্ত্রীর মৃত্যুর পরের ঠিকানা।

অ্যান্টন মান্দুলামি বলছেন, ‘আমি এই সমাধি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ আমি চাই না মানুষ আমাকে ভুলে যাক। সব মিলিয়ে এখানে এক হেক্টর জায়গা আছে, যেখানে আমি ও আমার তিন স্ত্রীর সমাধি হবে। এটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকে জানতে পারবে,আমি এই পরিবারের জন্য কী ছিলাম।’

বিবিসির সংবাদদাতার কথা হয় মান্দুলামির বড় স্ত্রী ডামিয়ানা উইকেচর সঙ্গে। তিনি বলছেন,‘আমার মতে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, তিনি (মান্দুলামি) চমৎকার একটি কাজ করেছেন। মৃত্যুর পরে নিজের থাকার জায়গাটি তিনি নিজেই তৈরি করে নিচ্ছেন। তার একজন স্ত্রী হিসেবে এটা আমার জন্য ঠিক আছে। আমি খুশি,কারণ আমাদের একস্থানে সমাধি হবে।’

মান্দুলামি বলছেন, ‘এই প্রকল্পের পেছনে তিনি পাঁচ হাজার ডলার খরচ করেছেন, যা শেষ হতে আরও চারবছর সময় লাগবে। কিন্তু দরিদ্র একটি গ্রামে এভাবে হাজার ডলার খরচ করে সমাধিস্থান তৈরি করার বিষয়টি সবারই নজরে পড়েছে। এ নিয়ে গ্রামের প্রতিবেশী বাসিন্দাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

গ্রামের বাসিন্দা জোনাস মেহেমা বলছেন, ‘আমি মনে করি, এটা ঠিকই আছে। কারণ যখন থেকে তিনি প্রথাগত হারবালের ব্যবসা শুরু করেন, তখন থেকেই তিনি বলেছেন যে, তিনি ইতিহাস তৈরি করতে চান, যাতে মৃত্যুর পরেও মানুষ তাকে ভুলে না যায়।’

গ্রামটির আরেকজন বাসিন্দা ভিক্টর নায়াগাওয়ার ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, ‘এটা এমন একটা কাজ যা আমাকে খুবই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমি কখনো দেখিনি কেউ এত অর্থ খরচ করে নিজের সমাধি কেন্দ্র তৈরি করছে। আমার মতে, নেতাদের ক্ষেত্রে এটা গ্রহণীয় হতে পারে, যেমন আমাদের জাতির পিতার জন্য। কিন্তু আমি খুবই অবাক হয়েছি যে স্থানীয় একজন বাসিন্দা এরকম বিশাল কবরস্থান তৈরি করছে।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে