বই লিখে রাজা হবো

  নজরুল ইসলাম নঈম

২৮ মে ২০১৬, ১৩:৩৯ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৬, ১৭:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

ইলাস্ট্রেশন : নেট থেকে সংগৃহীত

স্কুল থেকে ফিরে ছোট মামা এসেছে দেখে খুব খুশি জিনান। মামাকে দেখেই সে মামার গলায় ঝুলে পড়ল।
মামা জিনানকে বলল- কী খবর ভাগনে, বইমেলায় যাওয়া হয়েছে?
জিনান বলল- না মামা, এখনো যাইনি।
মামা বললেন- ঠিক আছে ভাগনে, আগে স্কুলের পোশাক ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে নাও, তারপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকেলে যাবাে বইমেলায়।
ঠিক আছে মামা, জিনান তড়িগড়ি তার ঘরে চলে গেল।
বিকেলে মামা আর জিনান চলল বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলায়। মেলায় আসতে পেরে জিনান খুব খুশি। মেলাজুড়ে সারি সারি বইয়ের দোকান, নানা রঙের বই সাজানো দোকানগুলোয়, জিনান দু-চারটে বই নেড়ে-চেড়ে দেখছে নিজের মতো করে।
শিশুকর্ণারের কাছে এসে মামা বললেন- জিনান, তোমার পছন্দমতো বই নিয়ে নাও।
জিনান বলল- মামা, আপনিই দেখে দিন। জিনান জানে, তার ছোট মামা একজন বই অনুরাগী মানুষ। বই হলে তার আর কোনো দিকে খেয়াল থাকে না। জিনান জানে, মামা নিশ্চই ভালো বইটিই নির্বাচন করবেন তার জন্য।
জিনান তার মামার কাছে গল্প শুনেছে, আমাদের দেশের একজন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। তার নাম ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী। তিনি পড়ার প্রতি এত বেশি আসক্ত ছিলেন যে, যখন তিনি লাইব্রেরি কক্ষে একমনে পড়তে থাকতেন, তখন কোনােদিকে তার খেয়াল থাকতো না। তাই তো মাঝে মধ্যেই লাইব্রেরি কক্ষের কর্মচারিরা তার উপস্থিতি পর্যন্ত টের পেত না। তাই বহুবার তিনি লাইব্রেরি কক্ষে তালাবন্দি হয়েছেন।
জিনান? মামার ডাকে জিনান ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এলো। মামা জিনানের হাতে একটি বই তুলে দিয়ে বললেন- বইটি তোমার জন্য। জিনান বইটি হাতে নিয়ে মামাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বইয়ের প্রচ্ছদের দিকে তাকাল। বইটি বইয়ের নানা বিষয় নিয়ে লেখা। তারপর তারা আরও কিছুক্ষণ বইমেলা ঘুরে বাসার পথে রওনা হলো।
বাসায় ফিরে জিনান যথারীতি স্কুলের হোমওয়ার্ক করল। তারপর রাতের খাবার শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিল, সাথে মামার কিনে দেওয়া বই, যাতে করে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ বইটি পড়ে নিতে পারে।
পড়তে পড়তে এক সময় জিনান ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল। সকালে জিনানকে ডাকছে মা- জিনান, তাড়াতাড়ি উঠে পর, স্কুলে যেতে হবে। মা রান্নাঘর থেকে এসে দেখে জিনান তখনাে ঘুম থেকে ওঠেনি। তাই মা এবার জিনানের শরীর ধরে নাড়া দিল। মা বুঝতে পারছে, জিনান কী যেন বিড়বিড় করে বলছে। মা জিনানের মুখের কাছে গিয়ে শোনার চেষ্টা করছে জিনান কী বলছে?
জিনান ঘুমের ঘোরে বলে যাচ্ছে- ‘বই লিখে রাজা হবাে... বই লিখে রাজা হবাে...’। মা এবার জিনানের শরীর ধরে একটু জোরেই নাড়া দিল। অমনি জিনান হুড়মুড় করে উঠে বসল। তারপর দুহাত দিয়ে চোখ কচলাতে লাগল।
মা জিনানকে প্রশ্ন করল, তুমি কী স্বপ্ন দেখছিলে? মায়ের কথা শুনে জিনান ফিক করে হেসে দিল। মা বলল- হাসছো কেন বাবা। জিনান বলল- জি আম্মু, আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। জিনান বলতে লাগল- মামা বইমেলা থেকে যে বইটি কিনে দিয়েছিলেন, আমি ঘুমানোর সময় বইটি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যাই।
মা বললেন- তা তো বুঝলাম। কিন্তু তুমি কী স্বপ্ন দেখছিলে? জিনান বলল- বইটিতে একটি কাহিনি পড়ছিলাম, ঘটনাটি ছিল পর্তুগালের। সেটি হলো- ১৪৯৬ সালে পর্তুগালে জন্মগ্রহণ করেন এক শিশু। নাম রাখা হয় জোডি বারোস। শিশুটি বড় হয়ে হন একজন ঐতিহাসিক। তিনি পর্তুগালের প্রাচীন ইতিহাসের ওপর মস্তবড় একটি বই রচনা করেন। ওই সময় পর্তুগালের রাজা ছিলেন জোয়াও (তৃতীয়)। তিনি বারোসের বইটি পড়ে এতই মুগ্ধ হলেন যে, বারোসকে ডেকে সাথে সাথে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬০ বর্গমাইলের একটি রাজ্য লিখে দিলেন। রাজ্যটি ছিল ব্রাজিলের অন্তর্গত ম্যারাহো স্টেট, যে এলাকাটির বিস্তার ছিল বর্তমান নিউইর্য়কের প্রায় তিনগুণ বড়।
মা বললেন- তাতে কী হয়েছে?
জিনান বলল- আমিও স্বপ্নে দেখছিলাম, আমার বন্ধু বারোস আমাকে উৎসাহিত করছে বই লেখার জন্য। বারোস বলছে- দোস্ত জিনান, তুমিও আমার মতো একটা বই লিখ। দেখে নিও আমাদের রাজা তোমাকেও একটি রাজ্য দান করবেন। আর তুমিও আমার মতো রাজা হবে। বারোসের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে বলছিলাম- ‘বই লিখে রাজা হবাে’। অমনি তুমি আমাকে জাগিয়ে দিলে! আমার আর রাজা হওয়া হলো না।
জিনানের কথা শুনে মা এক দম হেসে নিলেন। তারপর বললেন- হয়েছে, এখন আর রাজা হতে হবে না। তৈরি হয়ে নাও, স্কুলে যেতে হবে। জিনান বিছানা ছেড়ে উঠে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কুলে যাওয়ার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে