গভীর রাতে মেয়ে পথশিশুদের গাড়িতে তুলে নিচ্ছে উচ্চবিত্তের সন্তানরা!

প্রকাশ | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯:২৮ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯:৩৩

অনলাইন ডেস্ক

শুকনো ও বিবর্ণ একটা শরীর। খালি পা, অযত্নে বেড়ে ওঠা এক মাথা চুল, ময়লা ভর্তি নখ, সারা শরীরে বোঁটকা গন্ধ, পিঠে ময়লা কুড়োনোর বস্তা আর ময়লায় উপচে পড়া ডাস্টবিনে প্রতিদিন খাবারের খোঁজ।

ভারতের কলকাতা শহরের পথের ধারে বেড়ে ওঠা এই শিশুদের রাতের আস্তানায় এসে দাঁড়ায় দেশি-বিদেশি গাড়ি। মুখ বের করে ওদের গাড়িতে উঠে আসার কথা বলে যারা, তাদের ধোপদুরস্ত পোশাক, কথায় কথায় ইংরেজি বুলি আর গাড়ির ভিতরে মদের ফোয়ারা! গাড়িতে যারা থাকে তাদের কারও বয়স ২০-২২ এর উপরে নয়। এরা কেউ স্কুলের উচুঁ ক্লাসের ছাত্র, কেউ কলেজে ঢুকেছে সদ্য। প্রতিরাতে এরাই পথের ধারে পড়ে থাকা শীর্ণ মেয়েদের তুলে নিয়ে যায়। গাড়ি অনেকদূর গিয়ে দাঁড়ায়, কোনও অন্ধকার কানাগলির ভিতর। তার পর শুরু হয় ‘সেক্স অ্যান্ড ড্রাগ’। এরপর একে একে অনেক শরীরের চাপে অভুক্ত মেয়েরা নেতিয়ে যায়। ছাত্রদের ‘ফুর্তি’ শেষ হলে হাতে আসে নোটের তোড়া।

তার পর সেই গাড়ি আবার চলতে শুরু করে শহরের আলো ভরা রাস্তা ধরে। যে পথ থেকে মেয়েটি উঠে এসেছিল, সেখানেই আবার ফেলে দেওয়া হয় তাকে।

মাস কয়েক আগেই কলকাতার ব্রেবোর্ন রোড থেকে এ ভাবেই এক পথবালিকাকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একটি গাড়িতে। সারারাত যৌন নির্যাতনের পর পর খুন করে সেই মেয়েকে পূর্ব কলকাতার এক খালে ফেলে দিয়েছিল আততায়ীরা। শহরের পথ শিশুদের যেন এটাই দিনলিপি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের করা একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গেছে, কলকাতা শহরের অনেক পথ বালিকাকেই প্রতিরাতে এই ভাবেই যৌন লালসার শিকার হতে হচ্ছে। আর শিকারিদের অনেকেই স্কুল-কলেজের শিক্ষর্থী।

সমীক্ষকদের চাঞ্চল্যকর এই দাবির নেপথ্যে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা শহরের নানা প্রান্তে মোট ১৫০ জন পথ শিশুর উপর সমীক্ষা করে এই তথ্য বের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের প্রধান বিষ্ণুপদ নন্দ এবং গবেষক সুনীতা মণ্ডল।

বিষ্ণুপদ বলেন, পথ শিশুরা যে যৌন লালসার শিকার এ তথ্য নতুন নয়। কিন্তু কাদের দ্বারা এরা আক্রান্ত হচ্ছে খোঁজ চালাতে গিয়ে আমরাও হকচকিয়ে যাই। এই শিশুদের অনেকেই জানিয়েছে, যে দুপুরে বা বিকেলে স্কুল বা কলেজ শেষে বাড়ি ফিরতে দেখে বইয়ের ব্যাগ হাতে, সেই ছেলেটিই রাত বাড়লে খামচে ধরে তাদের শরীর। এ ছাড়াও ভাষার ব্যবহার, বয়স, পোশাক-আশাক, বৈভব দেখেও বোঝা যাচ্ছে এই খদ্দেরদের অনেকেই স্কুল-কলেজের শিক্ষর্থী। এই তথ্যে স্বভাবতই স্তম্ভিত সমাজ। সূত্র: এই সময়