ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে স্নায়ুযুদ্ধের ছায়া

ড. তারেক শামসুর রেহমান

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এশিয়ায়। তার ১২ দিনের এশিয়া সফর শেষ হয়েছে ১৪ নভেম্বর। এই সফরে তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন সফর করেন। একই সঙ্গে দুটি আঞ্চলিক সংস্থা অ্যাপেক ও আশিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। অতীতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এত দীর্ঘ সময়ে এশিয়া সফর করেননি। এর মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দীর্ঘদিনের। এখানে মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ফ্লিট। দীর্ঘদিন এ অঞ্চল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক। অর্থাৎ ভারত মহাসাগর তথা ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার স্ট্র্যাটেজি রচনা করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্ররা জানেন, ক্রমেই এই অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়ছে। একদিকে চীনের উত্থান ও ভারত মহাসাগরে চীনের কর্তৃত্ব করার প্রবণতা, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিÑ সব মিলিয়ে এই এলাকার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্ব। অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল। স্ট্র্যাটেজিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব খর্ব করতেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে টানছে। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার। এখানে অনেক আগে থেকেই প্রভাব বলয় বিস্তারের রাজনীতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভারত। একদিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য, অন্যদিকে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক, চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কর্মসূচি এ অঞ্চলে নতুন করে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপে প্রভাব বলয় বিস্তারের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। এখন স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্র পরিবর্তিত হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব করার প্রবণতায় নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘ সফরে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন এ অঞ্চলে যান, তখন বুঝতে কারো বাকি থাকে না, যুক্তরাষ্ট্র কোন দৃষ্টিতে এ অঞ্চলকে দেখছে।

এখানে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। দক্ষিণ চীন সাগরের স্ট্র্যাটেজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনীতির উত্থান-পতন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। প্রায় ৩৫ লাখ বর্গকিলোমিটারজুড়ে রয়েছে চীন সাগরের বিস্তৃতি। এই অঞ্চলটি চীনের মূল ভূখ-ের দক্ষিণে, ফিলিপাইনের পশ্চিমে, মালয়েশিয়ার উত্তরে, ব্রুনাইর উত্তর-পশ্চিমে, ইন্দোনেশিয়ার উত্তরে এবং ভিয়েতনামের পূর্বে অবস্থিত। এ অঞ্চলের গুরুত্ব বেড়েছে এ কারণে যে, দক্ষিণ চীন সাগরে প্রায় ১১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং গ্যাস রয়েছে ১৯০ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার। চীনের আগ্রহ সে কারণেই দিন দিন বেড়েছে। চীনের প্রচুর ‘জ্বালানি সুধা’ রয়েছে। চীনের অর্থনীতিকে সঠিক পথে চলতে প্রচুর জ্বালানি দরকার। এ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলে যদি চীনের কর্তৃত্ব থাকে, তা হলে চীন তার জ্বালানি চাহিদা এখান থেকে মেটাতে পারবে। এই সমুদ্রপথটি পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। এ কারণে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পৃথিবীর সমুদ্রপথে যত বাণিজ্য হয়, তার এক-তৃতীয়াংশ হয় এই পথে। চীন, জাপান, কোরিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ায় যাওয়ার বাণিজ্যিক রুট হিসেবে এ পথকে ব্যবহার করে। দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত স্প্রাটলি, প্যারাসেল ও টনকিন উপসাগরে অবস্থিত কয়েকটি ছোট দ্বীপ নিয়ে আশপাশের দেশ, বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গেই চীনের বিরোধ। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অঞ্চলের অর্থাৎ দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্ব বেড়েছে একাধিক কারণে। শুধু চীনকে ‘ঘিরে ফেলা’ কিংবা চীনের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে একটি ‘ঐক্য’ করার পাশাপাশি জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকির মোকাবিলা করা, এ সাগর দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করার ব্যাপারে মার্কিনি স্বার্থ রয়েছে। এর ওপর রয়েছে এ এলাকার তেল ও গ্যাসসম্পদের ওপর মার্কিনি বহুজাতিক কোম্পানির লোলুপ দৃষ্টি। ফলে এই অঞ্চলটি যে আগামী দিনের প্রভাব বলয় বিস্তারের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব ও প্রভাব বলয় বৃদ্ধি করতে আজ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, জাপান এমনকি ভারতও তৎপর। যুক্তরাষ্ট্র এ দেশগুলোকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। এটি বিশ্বের বড় সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটের একটি। বিশ্ব বাণিজ্যের ৩২ ভাগ এ পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়। চীনের মূল ভূখ-ের সঙ্গে এটি সংযুক্ত নয়। মূল ভূখ- থেকে ১ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরে এই দ্বীপগুলো অবস্থিত। জাপান এই রুটকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করে এবং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। জাপান এই দ্বীপগুলোর নাম দিয়েছে সেনকাকু, যা চীনের কাছে পরিচিত দিয়াওইউ নামে। ঐতিহাসিকভাবে চীনের শি ও হান রাজবংশের কর্তৃত্ব অনুযায়ী চীন এ অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে এলেও এ অঞ্চলের আশপাশের দেশগুলো তা মানতে নারাজ। জাপানের নিজস্ব কোনো তেল ও গ্যাস নেই। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর দেশটি পরিপূর্ণভাবে নির্ভরশীল। জাপান দৈনিক ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই সামুদ্রিক পথটি ব্যবহার করে আমদানি করে থাকে।

এ অঞ্চলের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব থাকায়, চীন এ অঞ্চলে নতুন করে একটি কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়েছে। সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের জন্য বড় বড় রানওয়ে তৈরি করছে। মিসাইল ব্যাটারি স্থাপন করেছে। এমনকি আগামীতে এখানে পারমাণবিক সাবমেরিন যাতে ‘ডক’ করতে পারে। সে ব্যবস্থাও পাকাপাকি করেছে চীন। ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি আতঙ্ক ছড়িয়ে গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র এই আতঙ্ককে ব্যবহার করছে তার স্বার্থে। বলা ভালো, দক্ষিণ চীন সাগরের এই বিরোধটি জাতিসংঘের সামুদ্রিক বিবাদ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত হয়েছিল। ফিলিপাইন ছিল এর উদ্যোক্তা। তবে চীন এই শুনানিতে অংশ নেয়নি। চীন আদালতের কর্তৃত্ব মানতে চাইছে না। ফলে বিবাদ নিষ্পত্তি নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকেই গেছে। তবে রায় ফিলিপাইনের পক্ষে গিয়েছিল।

দক্ষিণ চীন সাগরের এই বিরোধ যখন অনিষ্পন্ন তখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ভিয়েতনামের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এর ফলে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার অস্ত্র আমদানি শুরু করবে, যা কিনা এ অঞ্চলে এক ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে। অতীতে চীন-ভিয়েতনাম যুদ্ধের খবর আমরা জানি। ১৯৭৯ সালের মার্চ মাসে সেই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৩ সপ্তাহ। তখন চীনের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামকে সমর্থন করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। আজ যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামকে ব্যবহার করছে চীনের বিরুদ্ধে। প্রেক্ষাপট এক। চীন এ অঞ্চলের তথা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম একটি ফ্যাক্টর। অর্থনৈতিক তথা সামরিক দিক দিয়ে চীন অন্যতম একটি শক্তি। তাই ঘুরেফিরে আসছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ববর্তী ‘কনটেনমেন্ট থিওরি’। অর্থাৎ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঘিরে ফেলা ও সমাজতন্ত্রের পতন ঘটানোর তত্ত্ব। দীর্ঘ ৪৬ বছর লেগেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটানোয়। আজ একই স্ট্র্যাটেজি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে এসেছে চীনের সমাজতন্ত্রের পতন ঘটানোর। এই স্ট্র্যাটেজিতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। চীনের বিরুদ্ধে প্রস্ক্রি বাহিনী হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এটা যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো কৌশল। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ব্যবহার করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। তখন ইউরোপের কর্তৃত্ব ও প্রভাব বলয় বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। আজ একুশ শতকে এসে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন এক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে এশিয়ায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বদলে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট। আর চীনের বিরুদ্ধে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ভারতকে নিয়েই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কর্মসূচির ব্যাপারে ভারতের আপত্তি রয়েছে। ভারত তাতে যোগ দেয়নি, যদিও বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে ব্যবহার করতে চায়। অনেকের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে ভারত দক্ষিণ চীন সাগরে ৪টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। ভারত ভিয়েতনাম নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দক্ষিণ চীন সাগরে গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাব্যতা নিয়ে গভীর কূপ খননে নিয়োজিত। চীন এই কাজকে ভালো চোখে দেখছে না। দোকলামের পর লাদাখে অতিসম্প্রতি ভারত ও চীনের দ্বন্দ্ব ও সম্ভাব্য একটি সংঘর্ষের খবর সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে নয়া স্ট্র্যাটেজি, তাতে যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত সেখানে একটি বড় ভূমিকা পালন করুক। আফগানিস্তানে ভারতের ভূমিকা বাড়ছে। সেখানে ভারতের একটি বিমান ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভারতীয় মহাসাগরে প্রভাব বলয় বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ভারতের সঙ্গে চীনের এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনের পাশাপাশি ভারতও ভারত মহাসাগরভুক্ত কোনো কোনো দেশে তাদের নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করছে। ফলে চীনকে ‘ঘিরে ফেলার’ যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘ স্ট্র্যাটেজি তাতে ভারত অন্যতম অংশীদার হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই ট্রাম্প যখন এশিয়ায় দীর্ঘ সফরে এসেছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়েও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল অনেকের।

ট্রাম্পের এই সফর তাই নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চীনে লালগালিচা সংবর্ধনা পেলেও ভিয়েতনামে অ্যাপেক সম্মেলনে যোগ দিয়ে চীনবিরোধী নানা কথা বলেছেন। বলতে দ্বিধা নেই, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমান প্রেক্ষাপটে শুধু ব্যবসায়িক। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের ‘বাণিজ্যিক যুদ্ধের’ সম্ভাবনা বাড়ছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করার অর্থ হচ্ছে, চীনা জনমানসে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে তার চীনা সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু চীনবিরোধী অ্যালায়েন্স গড়ে তোলার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র তার স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করেনি। ভারত এই অঞ্চলের উঠতি শক্তি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য না করলেও এখানে চীনের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এ অঞ্চলে টহল অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা রয়েই গেল। এই উত্তেজনা এ অঞ্চলে এক ধরনের যুদ্ধের ছায়া ফেলছে। ট্রাম্পের এশিয়া সফরে তিনি যে খুব ‘সফল’ হয়েছেন, তা বলা যাবে না। কেননা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে তিনি সফল হননি। তাই সঙ্গত কারণেই এ অঞ্চলের রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থাকবে অনেকের।

য় ড. তারেক শামসুর রেহমান : প্রফেসর ও

রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে