রংপুরে হিন্দু বাড়িতে হামলার প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রে

  এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে ‘ইউনাইটেড বেঙ্গলি ফোরাম’-এর উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শিতাংশু গুহ ও উপস্থাপনা করেন তোফাজ্জল হোসেন লিটন।

সভায় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি রাশেদ আহমেদ বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু বলতে কিছু থাকতে পারে না। বাংলাদেশের সকলেই বাঙালি-এটি তাদের একমাত্র পরিচয়। তাই সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে একাত্তরে আমরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলাম জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল বাঙালি। সেই চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সংখ্যালঘু অপবাদ অব্যাহত রাখলে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও দূর করা সম্ভব হবে না।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সেক্রেটারি রেজাউল বারী, কম্যুনিটি কর্মী সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত, ফাহিম রেজা নূর, স্বীকৃতি বড়ুয়া, সুব্রত বিশ্বাস, গোপাল সান্যাল, নূরে আলম জিকু, মুজাহিদ আনসারী, প্রভাস দাস ও গোবিন্দ সরকার।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে শিতাংশু গুহ অভিযোগ করে বলেন, “ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বলে দাবি করলেও মাঝেমধ্যে প্রশাসনের গোচরেই এমন কিছু অঘটন ঘটছে যা মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ঠেলে দেয়। স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় জামাত-শিবির তথা সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দেয়। রংপুরের এমন পৈশাচিকতায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে হয়তো জনমনে স্বস্তি আসবে।

এদিকে রংপুরের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি যে বাংলাদেশে মিথ্যা অযুহাত দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের জ্ঞাতসারে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, হত্যা, লুণ্ঠন, বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। গত ১০ নভেম্বর রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামে মুসলিম মৌলবাদীদের এই ন্যাক্কারজনক কাজের সর্বশেষ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার আন্তরিক নয়। এজন্য ঐক্য পরিষদ গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছে।

শত শত ইসলামিক মৌলবাদী সময় নিয়ে, সাত দিন ধরে মসজিদে মসজিদে আলোচনা করে, বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ-মিছিল করে, কথিত অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এবং মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “একই ফেসবুক ‘কৌশল প্রয়োগ’ করে মুসলিম মৌলবাদীরা রামু, সাঁথিয়া, নাসিরনগর, সিলেটসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্মূল করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে। যদিও সরকার নিজেকে অসাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির কর্ণধার বলে দাবি করছে।”

“ঐক্য পরিষদ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্পদায়ের নেতা ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ক্রমে বেড়েই চলেছে। একদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নেতাদের উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জনসমক্ষে অসম্মান ও হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।” বলেন স্বপন দাস।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে