মালয়েশিয়ায় অবৈধদের বৈধ হওয়ার শেষ সুযোগ

  শাহাদাত হোসেন, মালয়েশিয়া থেকে

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া অবৈধ অধিবাসীদের বৈধ হওয়ার রি-হিয়ারিং কর্মসূচি শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর। এই তারিখের পর থেকে আর কোনো সুযোগ পাবেন না অবৈধ অধিবাসীরা। একজন বাংলাদেশিও যেন অবৈধ না থাকে সেই লক্ষ্যে বৈধকরণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির ইমিগ্রেশন ও বাংলাদেশ দূতাবাস।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ইমিগ্রেশনের ১৬ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন ও স্থল কর্মকর্তারা এ প্রথম বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরি বৈঠক করেছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় দূতাবাসের কনফারেন্স রুমে শ্রম কাউন্সিলরের সভাপতিত্বে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ফরেন অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের প্রধান দাতু খাইরিল, ডাইরেক্টর ডিটেনশন সালেহা, ডাইরেক্টর ইনফোর্সমেন্ট সারভানান। দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইং প্রধান ধনঞ্জয় কুমার দাস, শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল, শ্রম শাখার ২য় সচিব মো. ফরিদ আহমদ ও ২য় সচিব (রাজনৈতিক) তাহমিনা ইয়াছমিন। এছাড়া মাই-ইজি, বক্তিমেঘা ও ইমান কোম্পানির প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ৩০ জুন থেকে শুরু হওয়া রি-হিয়ারিংয়ের আওতায় তিনটি ক্রাইটেরিয়ার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অবৈধ কর্মী যারা এখনও নিবন্ধিত হয়নি, তাদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য বার বার তাগিদ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

সায়েদুল ইসলাম বলেন, মাই-ইজি, বক্তিমেঘা ও ইমানে যারা নিজ নিজ কোম্পানির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের পর ইমিগ্রেশনে আঙুলের ছাপসহ নিবন্ধিত হবেন তারাই সে দেশে বৈধ হিসেবে গণ্য হবেন।  

যারা বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে মাই-ইজি, বিএম ও ইমানে নিবন্ধন করে দীর্ঘদিন পরও মালিক পক্ষ অভিবাসন বিভাগে নিবন্ধন করছেন না বা মালিকের আর খোঁজ-খবর নেই, তারা মাই-ইজি, বিএম ও ইমানের অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করলে অন্য কোনো কোম্পানির মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এজন্য শ্রমিককে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।

মাই-ইজি চলতি মাসের প্রথম থেকে হট লাইন চালু করেছে। ০৩৭৬৬৪৮৫৫৫ এ কল দিয়ে কর্মীরা তাদের অবস্থান জানতে পারবেন।

শ্রম কাউন্সিলর বলেন, দূতাবাস প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার লোককে সেবা দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয় বন্ধের দিনে প্রতি শনি ও রোববার প্রত্যেকটি প্রদেশে কন্সুলার সেবা দেয়া হচ্ছে। দূতাবাসে ৫ মাসে ১ লাখ ৯০ হাজার ৯২৩ জন কর্মী পাসপোর্টের আবেদন করেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩০২ জন কর্মীর হাতে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে