ফ্লোরিডায় বন্দুকধারীর গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত

  এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

১৮ জুলাই ২০১৮, ১২:০১ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৮, ১২:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডা স্টেট যুবলীগের সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী (৬১) বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর  সাড়ে ১২টায় অঙ্গরাজ্যের নর্থ লডারডেল সিটিতে ১৬৯১ সাউথ স্টেট রোডের আন্ট মলি’জ ফুড স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ বলছে, ডাকাতির সময় আইয়ুব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফ্লোরিডাস্থ ‘অ্যাসোসিয়েশন অব বাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স’র নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান জানান, ‘স্টোর থেকে কিছুই লুট হয়নি। তাই এটা ডাকাতির ঘটনা হতে পারে না। এটা হেইট ক্রাইম।’

জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো এদিনও সকাল থেকে ওই স্টোরে একাই কাজ করেছিলেন আইয়ুব আলী। গুলির সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কিনা তা এখনও প্রকাশ করেনি তদন্ত কর্মকর্তারা। 

পুলিশের ডিটেকটিভ জেমস হাইয়েস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণের সংবাদ পেয়েই লডারডেল লেইকস এবং টামারাক ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত আইয়ুব আলীকে ব্রাউয়ার্ড হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নেয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান যে, আইয়ুব আলী বেঁচে নেই।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানোপুর গ্রামের সন্তান আইয়ুব আলী ১৯৯৪ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। ১০ বছর আগে তিনি এই স্টোর কেনেন। পার্কল্যান্ড এলাকায় নিজের বাড়িতে তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং স্ত্রী ফারহানাকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন। 

এদিকে দুপুরে গুলি করে আইয়ুব আলীকে হত্যার সংবাদে ক্ষুব্ধ গোটা কমিউনিটি। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা, ঢাকা ক্লাব, নাগরিক, ফ্লোরিডা চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে যান এবং আইয়ুব আলীর পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় কমিউনিটির নেতারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

নেতারা বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ দুর্বৃত্ত আইয়ুব আলীর মাথা তাক করে গুলি করেছে। এ থেকেই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ডাকাতি নয়, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্ত এসেছিল। অর্থাৎ এটি হেইট ক্রাইম। তা হতে পারে জাতিগত বিদ্বেষ অথবা ধর্মীয় বিদ্বেষ। কারণ স্টোরের ক্যাশবাক্স অক্ষত রয়েছে।’

গত এক দশকে দুর্বৃত্তের গুলিতে ফ্লোরিডায় ২৫ জনের বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সবকটি হত্যাকাণ্ডের জন্যই দুর্বৃত্তদের শাস্তি হয়েছে। তবে কর্মরত অবস্থায় নিহত হওয়া সত্ত্বেও ভিকটিমের পরিবার/স্বজনেরা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে জানা গেছে। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে