বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য

গত এক বছরে মালয়েশিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৮৪ বাংলাদেশি

  প্রবাস ডেস্ক

০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। কাজের সন্ধানে এই বাজারে বাংলাদেশিদের ছুটে চলা অন্য যেকোনো শ্রমবাজারের চেয়ে অনেক বেশি।  বৈধ  কিংবা অবৈধ পথে আকাশ অথবা জলপথ ধরে জীবন যুদ্ধের এই সংগ্রামে অনেকে লিপ্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এছাড়া অনেকে দেশটটিতে যাওয়ার পর কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে নানাবিধ কারণে মৃত্যুমুখে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিচ্ছেন অকপটে।

আর এসব কারণে মালয়েশিয়ার গত একবছরে (২০১৮) প্রাণ হারিয়েছেন ৭৮৪ জন বাংলাদেশি। দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে।  তবে, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হার্ট অ্যাটাক, সড়ক দুর্ঘটনা ও কনস্ট্রাকশন সেক্টরে মৃত্যুবরণের হার সবচেয়ে বেশি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রমবাজারে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং ঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ায় টাকা উপার্জনে মানসিক চাপই অন্যতম কারণ। যে কারণে বেশিরভাগ প্রবাসী মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। যদিও প্রবাসীদের অকালমৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট গবেষণা নেই।  তবে, প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনগুলো এমন মৃত্যুর জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 

গত চার বছরে বিদেশ থেকে যত প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসেছে, তাদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্তত ৮০ শতাংশ প্রবাসীই হৃদরোগ এবং মানষিকচাপে প্রাণ হারিয়েছেন।

মৃতদের স্বজন ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। যে টাকা খরচ করে তারা বিদেশে যান, সেই টাকা তুলতে দিনে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করে তারা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকা এবং শ্রমিকদের মানসিক বিকাশে বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ২ হাজার ৩১৫ জন, ২০১০ সালে ২ হাজার ২৯৯ জন, ২০১১ সালে ২ হাজার ২৩৫ জন, ২০১২ সালে ২ হাজার ৩৮৩ জন, ২০১৩ সালে ২ হাজার ৫৪২ জন, ২০১৪ সালে ২ হাজার ৮৭২ জন, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮৩১ জন, ২০১৬ সালে ২ হাজার ৯৮৫ জন, ২০১৭ সালে ২ হাজার ৯১৯ জন এবং ২০১৮ সালে ৩ হাজার ৫৭ জনের মরদেহ দেশে ফিরেছে।  অর্থাৎ গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসেছে ২০১৮ সালে।

আর এই তালিকায় নাম উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর। ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে এসেছে এক হাজার আটটি, কুয়েত থেকে ২০১টি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৮টি, বাহরাইন থেকে ৮৭টি, ওমান থেকে ২৭৬টি, জর্ডান থেকে ২৬টি, কাতার থেকে ১১০টি, লেবানন থেকে ৪০টিসহ মোট দিন হাজার ৫৭ টি মরদেহ দেশে ফিরেছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে এক বছরে এসেছে ৭৮৪ জনের মরদেহ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে