দশ বছরের পরিকল্পনা দিয়েছেন পাইবাস

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

আমাদের এখানে এখন যেহেতু কোচ নেই, সে জন্য আমরা কোচের সন্ধানে কাজ করছিলাম। আমরা অনেক জায়গায়ই যোগাযোগ করেছি। প্রায় সবার সাথেই যোগাযোগ করা হয়েছে। যারা যারা আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের মধ্য থেকে আমরা সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছি। এর মধ্যে যারা আছেন তাদের আমরা চূড়ান্ত একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছি। তারই ধারাবাহিকতায় রিচার্ড পাইবাস কাল এসেছে। আমার বোর্ডের যারা এভেইলেবল ছিল তাদের সামনে একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। আমরা দেখেছি। সামনেও আরও আসবে। ৯ তারিখেও একজনের আসার কথা, মাঝখানেও একজনের আসার সম্ভাবনা আছে। তারা আসছে, তারা আসবে। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

টাইগারদের জন্য নতুন কোচের খোঁজ চলাকালীন সময়ে বুধবার রিচার্ড পাইবাসের ইন্টারভিউ নেওয়ার পর মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই তাদের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
 
পাপন আর বলেন, আমাদের এখন যে কোচিং স্টাফ আছে, রিচার্ড হ্যালসল থেকে শুরু করে অন্য যারা আছে তাদের সঙ্গেও আমরা বসবো ৯ তারিখে। এরকমই একটা পরিকল্পনা আছে আমাদের। কারণ, সামনে আমাদের একটা সিরিজ আছে। আমাদের হ্যালসল আছে, অনেক সিরিজের ম্যানেজার সুজন আছে, আমাদের অধিনায়কেরা আছে ওদের সবার সঙ্গে বসে আমরা দেখবো সামনের যে সিরিজ আছে সেটা নিয়ে পরিকল্পনাটা কি। কি করা উচিত ওদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করব।
 
শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই কোচ তার দািত্ব বুঝে নেবেন কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন,  শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে কোচ নিয়োগ হবে কি না এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। আমরা চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা কোচ নিয়ে নেওয়ার। নয় তারিখে ফিল সিমন্স আসবেন। তার আগেও একজন আসার কথা। তার নাম এখন বলছি না। কারণ, যেহেতু এখনও তারিখ ঠিক হয়নি, তেমন নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি। আরও কয়েক জনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তাদের এর মাঝেই আসতে হবে। ১০ তারিখে আমাদের যে বোর্ড মিটিং আছে সেখানে আমরা মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে চাচ্ছি।
 
টাইগারদের কোচ হওয়ার দৌড়ে চার-পাঁচ জন আছে বলে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে দুই কোচ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তাও দেখবার বিষয়। এই প্রশ্নের জবাবে বিসিবি বস বলেন, এই ধরনের কথা বার্তা যে হচ্ছে না তা না। তবে আপাতত আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোচ নিয়োগ করা। সেই জিনিসটা আমাদের সামনের যে সিরিজ আছে তার মধ্যে নাও পারতে পারি। কিন্তু আমাদের একজন স্থায়ী কোচ তো লাগবে। সেটা হচ্ছে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা যদি না হয়, এই সিরিজের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত যদি করতে না পারি তাহলে কি হবে, এই সিরিজটা কিভাবে চলবে- এই সব কিছু নিয়েই আলাপ আলোচনা হবে।

পাইবাসের পরিকল্পনা কি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, পাইবাসের পরিকল্পনা অবশ্যই ভালো। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। সে অনেক দূরের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেছে। ১০ বছরের একটা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে। ও লম্বা সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। কিন্তু আমাদের দুটোই দেখতে হবে। লং টার্ম, শর্ট টার্ম দুটোই দেখতে হবে। সামনে বিশ্বকাপ আছে, সেটাও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ও যা চায়, যেমন চায় এখনই হয়তো সব পারবো না। তবে শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের জন্যই ভালো হবে।
 
ক্রিকেটারদের মতামত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ক্রিকেটারদের বলতে যা বোঝায় সেভাবে হয়তো হয়নি। মাশরাফির সঙ্গে কথা হয়েছে, তামিমের সাথে কথা হয়েছে, সাকিবের সাথে কথা হয়েছে। আরও অনেক ক্রিকেটারের সাথে কথা হয়েছে। একেক জনের একেক রকম চিন্তাধারা, সেটা আমরা শুনেছি। অনেকে হয়তো মনে করে, বিদেশি কোনো কোচেরই দরকার নাই। অনেকে মনে করে স্থানীয় কোচ হলে ভালো হয়। অনেকে মনে করে, তাদের কোচেরই দরকার নাই। অনেকের অনেকরকম চিন্তাধারা তো থাকবেই। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কোনটা করলে ভালো হয়।

তিনি আরও বলেন, যারা আগে কাজ করে গেছে তাদের মধ্যে কেবল পাইবাসই আছে। এছাড়া আমরা যাদের সাথে কথা বলেছি, সক্ষিপ্ত তালিকা করেছি তাদের মধ্যে কেউ কিন্তু আগে কাজ করে যায়নি আমাদের সাথে। সেই একমাত্র।
 
সম্মেলনে ভালো কোচ নাই বলেই পাইবাসকে নেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্ন করলে পাপন বলেন, ভালো কোচ যে একেবারে পাওয়া যাচ্ছে না তাও পুরোপুরি ঠিক নয়। হ্যাঁ, ভালো কোচ যারা তারা এরই মধ্যে কোথাও না কোথাও কাজ করছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে আছে সেখান থেকে আমাদের এখানে আসবে কি না। আমাদের এখানে আসতে পারবে কি না। কেউ আছে যারা এই মুহূর্তে আসতে পারবে না, এক বছর পরে আসবে। কেউ দুই বছর পরে আসতে পারবে। তার চুক্তি শেষ হলে আমাদের এখানে আসতে চায়। কিন্তু আমাদের এত সময় অপেক্ষা করার তো কোনো সুযোগ নাই। পাইবাস কিন্তু উঁচু মানের একজন কোচ। তার রেপুটেশন এমনই আছে। কাজেই ভালো কোচ পাওয়া যাচ্ছে ব্যাপারটা ঠিক না। সে নিজ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার কাছে মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দল এখন ভালো করছে, একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যেভাবে চলছে তাতে শুধু সে না যে কোনো কোচই এখন বাংলাদেশে কাজ করতে চায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সাফল্যের মধ্যগগণে রেখে হঠাৎই পদ্যত্যাগ করেন এ যাবৎকালের সেরা টাইগার কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিহে। যদিও এমন একটা সময় তিনি গেছেন যখন বাংলাদেশ দলের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ রয়েছে। তার এই পদত্যাগের পর অন্তবর্তীকালীন কোচ নিয়োগে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকে পদায়ন করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। স্বভাবতই দলেল হেড কোচের পদ খালি। তাই দলে হাল ধরতে একজন ক্ষুরধার কোচ নিয়োগ দিতে বিসিবি আদা-জল খেয়েই নেমেছে। সে লক্ষ্যে পাইবাস আসুক বা অন্য কেও ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় কাজ করছেন বিসিবি সংশ্লিষ্ট সকলেই। আা করা যায় নতুন হেড কোচ নিয়োগের মাধ্যমে টাইগার টিম ফিরবে নতুন এক ভুমিকায়।
 

 

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে