• অারও

প্রথম দুই ম্যাচের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা

ফিরলেন বিজয়-মিঠুন বাদ সৌম্য-তাসকিন

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১০ | অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে ফিরেছেন এনামুল হক বিজয় ও মোহাম্মদ মিঠুন। দলে জায়গা পেয়েছেন আবুল হাসান রাজু ও সানজামুল ইসলামও। সম্প্রতি বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া অলরাউন্ডার সাব্বির রহমানও দলে রয়েছেন। তবে দল থেকে বাদ পড়েছেন নিয়মিত মুখ সৌম্য সরকার ও তাসকিন আহমেদ। দল থেকে বাদ পড়েছেন পেসার শফিউল ইসলামও।

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য স্কোয়াড গঠন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানান, এখানে আমরা একটা টিমওয়ার্কের মতো কাজ করি। এ সিরিজের আগে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে হেড কোচও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সে হিসেবে খালেদ মাহমুদ সুজনও অন্তর্ভুক্ত; এখনো আছেন। এবার টিম গড়ার ক্ষেত্রে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ককে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি। তার পর আমরা দল গঠন করেছি।

১৬ সদস্যের দল প্রসঙ্গে নান্নু জানান, যেহেতু এখানে পাঁচটি ওডিআই আছে, হোমে অনেক দিন পর আমরা পাঁচটি ওডিআই খেলার সুযোগ পাচ্ছি এবং যেহেতু হোম কন্ডিশনে খেলা, সে হিসেবে দলে বেশি খেলোয়াড় রাখা হয়েছে। এখানে ১৬ জনের স্কোয়াড দেওয়ার আরেকটি কারণ হলো- ইমরুল কায়েসের একটা ইনজুরি আছে। টিম ম্যানেজমেন্টের একটা পরিকল্পনা আছে। কোনো কন্ডিশনে সিম বোলার বেশি নেবে নাকি স্পিনার নেবে, সে হিসেবে অতিরিক্ত একজন সিম বোলার আমরা নিয়েছি। টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় এই স্কোয়াড আমরা তৈরি করেছি।

সৌম্য ও তাসকিন দলে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে নান্নু বলেন, সৌম্য সব ফরম্যাটেই খেলে যাচ্ছে। আমরা চিন্তা করলাম, ওর ট্যালেন্ট নিয়ে কোনো রকম কোনো প্রশ্ন নেই। যেহেতু ও ধারাবাহিকতার মধ্যে নেই, এ জন্য আমরা তাকে একটা বিশ্রাম দিয়েছি। সে আমাদের একটা সিস্টেমের মধ্যেই আছে। সে আমাদের পুলভুক্ত খেলোয়াড়। আশা করি ও আবার ফর্মে ফিরে আসবে। ধারাবাহিকতায় থাকবে। পরে আবার বিবেচনা করা হবে। তাসকিনের ফর্মেরও একই অবস্থা। গত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ও ফর্মে ছিল না। সে হিসেবে আমি মনে করি, ওর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা দরকার আছে। তাকেও একটা ব্রেক দেওয়া হয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচের সময় এক কিশোর দর্শককে মারধর করার দায়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন সাব্বির রহমান। তাকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। নান্নু জানান, ও তো ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। ও দেশের জন্য খেলবে। আশা করি, ও ভালো ক্রিকেটই খেলবে। নতুন কয়েকজন দলে জায়গা পেয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্সের পুরস্কার কিনা- এ প্রশ্নে নান্নু জানান, অবশ্যই। আমরা এনামুল হক বিজয়ের কথা বলতে পারি। গত দুই বছরে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। কন্ডিশনের কথা চিন্তা করে একজন অতিরিক্ত পেস বোলার নিয়েছি আবুল হাসান রাজুকে, যার সুইং করার ক্ষমতা আছে।

লিটনকে দলে নেওয়া হয়েছিল। আবার বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নান্নু জানান, যে কোনো খেলোয়াড় যে কোনো ফরম্যাটে খেলুক, তার পারফরম্যান্স কিন্তু সবার আগে মূল্যায়ন করা হবে। সে হিসেবে আমি মনে করি, ওরা যেহেতু ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক দিন পর খেলতে যাচ্ছে, অন্য খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা পারফরম্যান্স অবশ্যই হতে হবে। লিটন দাসকে আমরা টেস্ট ম্যাচের জন্য চিন্তা করেছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট ম্যাচে ভালো খেলাতে তাকে ওয়ানডের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। কারণ সেখানে আসা-যাওয়ার ব্যাপার ছিল। সে সব সময় আমাদের লংগার ভার্সন ক্রিকেটের জন্য চিন্তা-ভাবনায় আছে। এ জন্য ওকে ব্রেক দেওয়া হয়েছে। মুমিনুলের প্রসঙ্গে নান্নু জানান, মুমিনুল বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের ওডিআই স্কোয়াডে নেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি কন্ডিশনে তাকে রেখে দিয়েছিলাম। যেহেতু তামিম ইকবাল তখন ইনজুরির একটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে ছিল। টেস্ট ম্যাচের সঙ্গে থাকায় তাকে রেখে দিয়েছিলাম।

মিঠুন ও সানজামুলকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গে নান্নু জানান, মোহাম্মদ মিঠুন ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো খেলেছে। ওর ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়ক যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সে হিসেবে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে সে সুযোগ পেলে ভালো করবে। সানজামুল বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের একটা সিস্টেমের মধ্যে আছে। এইচপি স্কোয়াডে ছিল। ‘এ’ টিমে ছিল। গত এক বছর একটা সিস্টেমে কোচের অধীনে ছিল। সে হিসেবে যথেষ্ট উন্নতি করেছে সে। অপু এখনো আমাদের কোনো ফরম্যাটের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়নি। ওর যথেষ্ট সময় আছে। সে ক্ষেত্রে সানজামুলকে আমরা এগিয়ে রেখেছি।

মুশফিক, বিজয় ও মিঠুন- তিনজনই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। নান্নু জানান, প্রথম চয়েজ মুশফিকুর রহিম। সে-ই কিপিং করবে। বিজয়কে বিপিএলে দেখেছেন, বেশি ম্যাচে কিপিং করেনি। বাইরে ফিল্ডিং করেছে। ভালো ফিল্ডারও সে। মিঠুনেরও ভালো ফিল্ডিং করার ক্ষমতা রয়েছে। ওদের ব্যাটিংটাই প্রথম চয়েজ। মোসাদ্দেক হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকায় দলের সঙ্গে ছিল না। চোখের ইনজুরি কাটিয়ে বিপিএলে ফিরেছে। নান্নু বলেন, বিপিএলে তার পারফরম্যান্স সে রকম হয়নি। বিসিএলে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। নিজেকে মেলে ধরতে পারবে। আবার ফিরতে পারবে। বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি।

বাংলাদেশ স্কোয়াড
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, আবুল হাসান রাজু, মেহেদী হাসান মিরাজ, মো. সাইফুদ্দিন ও সানজামুল ইসলাম।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে