টেস্ট সিরিজও শ্রীলংকার ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশার হার

  সুসান্ত উৎসব

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

মিরপুরে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়েই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষেও একই কৌশল অবলম্বন করে টাইগাররা। তবে হিতে বিপরীতই হলো। নিজেদের পাতা ফাঁদে মাহমুদউল্লাহ, তামিমরা যেন নিজেরাই ধরা পড়লেন!

শ্রীলংকা উপমহাদেশের দল। স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলে তারাও অভ্যস্ত। তা ছাড়া লংকান দলে আছেন হেরাথের মতো অভিজ্ঞ স্পিনার। তার পরও কেন এমন ‘কাঁচা’ সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট? মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘ক্রিকেটে কখনোসখনো এমন ঝুঁকি নিতেই হয়। আমাদের বোলাররা তাদের কাজটা ঠিকভাবেই পালন করেছে। সত্যি বলতে কী, ব্যাটসম্যানরা পারেননি।’

বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচের সমাপ্তি ঘটেছে আড়াই দিনেই। গতকাল ২১৫ রানে পাওয়া জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০তে জিতে নিয়েছে হাথুরুর লংকা। ম্যাচ ও সিরিজসেরা নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীলংকার রোশেন সিলভা।

ব্যাটসম্যানরা যে পারেননি, তা তো স্কোরকার্ড দেখলেই পরিষ্কার। দ্বিতীয় দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন, আমাদের সামনে যে লক্ষ্যই দেওয়া হোক না কেন আমরা তা টপকাতে পারব। ওই দিন পর্যন্ত লংকানরা এগিয়ে ছিলেন ৩১২ রানে। গতকাল তৃতীয় দিনে ৮ উইকেটে ২০০ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলংকা স্কোরকার্ডে যোগ করতে পেরেছে আর ২৬ রান। তাতে লিড ৩৩৮।

তৃতীয় দিনে মিরপুরের এমন উইকেটে এ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে আনাটা ছিল দিবাস্বপ্ন। কেননা চতুর্থ ইনিংসে কখনো তিনশ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। সর্বোচ্চ ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট জর্জেসে। দেশের মাটিতে লক্ষ্য তাড়ায় পাওয়া জয়টা এসেছিল ২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ১০১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় স্বাগতিকরা জিতেছিল ৩ উইকেটে।

৩৩৮ রান তাড়ায় দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা গণআত্মাহুতি দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও তামিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বিরদের কঙ্কালসার দেহটারই দেখা মিলেছে। হেরাথ, ধনঞ্জয়াদের ঘূর্ণি-জাদুতে দিকভ্রান্ত বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৯.৩ ওভারে ১২৩ রানে। মিরপুর শেরেবাংলায় এত কম ওভারে এর আগে অলআউট হয়নি কোনো দলই। প্রসঙ্গত প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪৫.৪ ওভারে ১১০ রানে অলআউট হয়। শ্রীলংকা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল ৬৫.৩ ওভারে ২২২ রানে।

প্রশ্ন উঠেছে চট্টগ্রামের মতো কি ঢাকা টেস্টও বাঁচাতে পারতো না বাংলাদেশ? তা হলে তো সিরিজ ড্র হতো। তবে কাজটা সহজ ছিল না। এজন্য ধৈর্য-পরীক্ষায় পাস করতে হতো। উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হতো। আরও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হতো। কিন্তু তামিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বিরদের সে সময় কোথায়? তারা যেন হারের আগেই হার স্বীকার করে নিয়েছিলেন!

গতকাল ছিল ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন। টেস্টের বাকি ছিল আরও দুই দিন। কিন্তু অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিং করে রান তোলার চেষ্টাটাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এত তাড়াহুড়ো কেন? যদিও সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই এ বিষয়ে সাফাই গেয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এ ইনিংসেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তামিম। ইমরুল (১৭), মুমিনুল (৩৩), মুশফিক (২৫), লিটন (১২) ছাড়া বাকি কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে রান পাননি। প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে না পারা সাব্বির দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরেছেন ব্যক্তিগত ১ রানে।

দলীয় ৩ রানে তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন ইমরুল-মুমিনুল জুটি (৪৬)। এর পর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। স্কোরকার্ডে ২৩ রান জমা করতেই শেষ ছয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লংকানদের হয়ে বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন রঙ্গনা হেরাথ (৪/৪৯) ও আকিলা ধনঞ্জয়া (৫/২৪)।

বাংলাদেশের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাইজুলকে শিকার করেন হেরাথ। এ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে তিনি ওয়াসিম আকরামকে (৪১৪) ছাড়িয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বাঁহাতি বোলার। অভিষেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেওয়া ধনঞ্জয়া সব মিলিয়ে ৪৪ রানে নেন ৮টি। অভিষেকে শ্রীলংকার কোনো বোলারের এটাই সেরা বোলিং। আগেরটি ছিল ২০০৮ সালে ভারতের বিপক্ষে অজন্তা মেন্ডিসের ১৩২ রানে ৮ উইকেট।

এর আগে একই উইকেটে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন রোশেন সিলভা। ব্যক্তিগত ৫৮ রান নিয়ে এদিন ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন সুরঙ্গা লাকমল (৭)। নবম উইকেটে এ জুটি দলীয় স্কোরকার্ডে জমা করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান। লাকমলকে (২১) আউট করে এ জুটি ভাঙেন তাইজুল। তবে ব্যক্তিগত ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন রোশেন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল। মোস্তাফিজের শিকার ৩ উইকেট।

নতুন বছরে টাইগারদের প্রথম সিরিজ ছিল তিন জাতির টুর্নামেন্ট। ওই সিরিজের ফাইনালে শ্রীলংকার কাছে হেরে যায় স্বাগতিকরা। ওয়ানডের পর এবার হাথুরুসিংহের শ্রীলংকার কাছে টেস্টের শিরোপাও খোয়ালো বাংলাদেশ। গতকাল শেষ হওয়া ঢাকা টেস্ট ড্র করতে পারলেও প্রথমবারের মতো র‌্যাংকিংয়ের আটে উঠে যেত টাইগাররা। কিন্তু ম্যাচ হারের কারণে উল্টো এখন রেটিং পয়েন্ট হারাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ২০১৫ সালে পাকিস্তান সিরিজের পর দেশের মাটিতে হারের তিতকুটে স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো মাহমুদউল্লাহ, তামিমদের।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে