ব্যাটসম্যানরা পারফর্ম করতে পারেনি

  সুসান্ত উৎসব

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

তাই বলে এত বাজে ব্যাটিং?

প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেল ১২৩-এ। তাতে শ্রীলংকার কাছে ঢাকা টেস্টে হার ২১৫ রানে, তা-ও আবার আড়াই দিনেই।

স্বাগতিক দলের হয়ে কথা বলবে না এমন উইকেট বানানোর তা হলে দরকারটা কী? প্রশ্নটা তো সেখানেই। যে উইকেট স্বাগতিকদের পক্ষে কথা বলে না, অমন উইকেট না বানানোটাই তো শ্রেয়। তা ছাড়া শ্রীলংকা উপমহাদেশের দল। এমন উইকেটে খেলে তারাও অভ্যস্ত। তাদের বিপক্ষে স্পিন-সহায়ক উইকেট বানানোর চেয়ে স্পোটিং উইকেট বানানো বেশি কার্যকরী হতো কিনা, সে প্রশ্নও উঠেছে। অবশ্য ঢাকা টেস্টের স্পিন-সহায়ক উইকেটের পক্ষেই সাফাই গাইলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। উইকেট নয়, হারের জন্য তিনি ব্যাটসম্যানদেরই দায়ী করেছেন।

গতকাল ঢাকা টেস্ট হারের পর বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি বললেন, ‘ক্রিকেট খেলা তো একটা বাজির মতো। আমরা জানতাম যে ওদের (শ্রীলংকা) স্পিন বিভাগ খুব ভালো। আর আমাদের স্পিন বিভাগও ব্যাক করেছিল। জানতাম, আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং হবে। কিন্তু আমরা আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম। দূর্ভাগ্যবশত, ব্যাটসম্যানরা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি।’

প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৩৮* রান মিরাজের। স্কোরকার্ডে ৩ রান জমা করতেই ওই ইনিংসে বাংলাদেশ হারায় শেষ ৫ ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯.৩ ওভারে ১২৩ রানে অলআউট স্বাগতিকরা। সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস খেলেছেন মুমিনুল হক। এবার দলীয় স্কোরকার্ডে ২৩ রান জমা করতেই শেষ ৬ ব্যাটসম্যান ফেরেন প্যাভিলিয়নে। বালির বাঁধের মতো এভাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভেঙে পড়ার কোনো ব্যাখ্যা নেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেও কাছ। তিনি বলেন, ‘জবাব দেওয়া আসলে কঠিন। কারণ অবশ্যই খুব হতাশাজনক। এ ধরনের উইকেটে চেজ করতে হবে, এটা আমরা জানতাম। আমাদের সবারই ধারণা ছিল এই টেস্টে রেজাল্ট দেখব। প্রথম ইনিংসে আমাদের ভালো করা উচিত ছিল। আমরা এখানে পিছিয়ে গেছি। প্রথম ইনিংসে আমরা ২০০ বা তার বেশি করতে পারলে হয়তো আমাদের আরেকটু ভালো সুযোগ থাকত।’

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই ওমন অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিং করার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘এ ধরনের উইকেটে যদি আপনি ইনটেন্ড শো না করেন, আপনি যদি পজিটিভ না থাকেন, আপনি যদি বোলারকে সুযোগ দেন সেটেল করার, তা হলে আপনি বিপদে পড়বেন। আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে, আমাদের ইনটেন্ডটা পজিটিভ থাকবে।’

চট্টগ্রাম টেস্টে খেলেন মোসাদ্দেক। কিন্তু হঠাৎ করেই তার বদলে ঢাকা টেস্টের একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় সাব্বিরকে। দুই ইনিংসেই হতাশ করেছেন তিনি। সাব্বিরের ব্যাট থেকে এসেছে ০ ও ১ রান। এ ছাড়া বেশ কয়েকটা ক্যাচও মিস করেছেন হার্ডহিটার এই ব্যাটসম্যান। মোসাদ্দেকের বদলে সাব্বিরকে খেলানোর কারণ জানাতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘সাব্বিরকে নেওয়ার কারণ ছিল ও স্পিনে খুব ভালো খেলে। সুইপ, রিভার্স সুইপ এগুলো খুব ভালো খেলে। আমার মনে হয় এই উইকেটে অ্যাটাকিং অ্যাপ্রোচ না থাকলে সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।’

আঙুলের চোটের কারণে দুই টেস্টেই খেলা হয়নি সাকিবের। মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় ওর ব্যাটিং, বোলিং মিস করেছি। আমরা সবাই জানি ওর সামর্থ্য। বিশেষ করে ওর বোলিং এই উইকেটে আরও ভয়ঙ্কর হতো। কারণ ওর কন্ট্রোল আরও ভালো। ও ব্যাটসম্যানদের আরও রিড করতে পার। খুব তাড়াতাড়ি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে পারে। আর সবাই জানে, ও একজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। সেদিক দিয়ে ওকে অনেক মিস করেছি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে