অধরা জয়ের দেখা

  ক্রীড়া ডেস্ক

১০ মার্চ ২০১৮, ২৩:৫৩ | আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৮, ২৩:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

৭২ রানের লড়াকু ইনিংসের পথে মুশফিকুর রহিম। ছবে: ক্রিক ইনফো
অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চাইছিল না। অনন্ত কাল যেন অন্ধকারের  কালো অতল গহ্বরে আটকে ছিল বাংলাদেশ। একটি জয়ের জন্য তৃষ্ণার্ত কাকের মত অপেক্ষা। অবশেষে এল সেই মহেন্দ্রক্ষন। ঠিক দুই মাস পরে আবার আনন্দের জোয়ারে ভাসল পুরো দেশ। শ্রীলঙ্কার দেয়া ২১৫ রানের টার্গেট বাংলাদেশ জিতে নিল ৫ উইকেট হাতে রেখেই।

জয়সূচক রানটি করেই মুশফিকুর রহিমের একটু দৃষ্টিকটু উদযাপন। নাগ-নৃত্য ; সেটা হতেই পারে। শেষ দুই মাসে কম সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি বাংলাদেশকে। কিছু একটা করে দেখানোর তাড়নাটা তাই ভালোই দেখাল টাইগাররা।

জয়টা এতটা সহজ ছিল না। শ্রীলঙ্কার ২১৪ রানের জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দারুন। দলীয় ১০০ রানের পর ব্যক্তিগত ৪৭ রানে আউট হন বিধ্বংসী ওপেনার তামিম ইকবাল। বড় লক্ষ্য তাড়ায় যে শুরু দরকার ছিল বাংলাদেশকে তা এনে দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তাদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের জায়গায় ওপেনিংয়ে নেমে ঝড় তুলে ফিরেছেন লিটন দাস। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজ ঘরে ফেরেন লিটন। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে এই তরুণ পড়েন এলবিডব্লিউর ফাঁদে। স্টাম্পে থাকা নুয়ান প্রদিপের স্লোয়ার বুঝতে পারেননি লিটন। লেগে ঘুরানোর চেষ্টায় হন এলবিডব্লিউ। এর আগে প্রাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে ৭৪ রান।

এরপর হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। তার হার না মানা ৭২ রানের ইনিংসে জয়ের বন্দরের পৌছে যায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২০, সাবিবর রহমান ০ এবং মেহেদি হাসান মিরাজ অপরাজিত ছিলেন।

এদিন শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আক্রমণাত্নক শুরু করেন শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনার গুনাথিলাকার এবং কুশাল পেরেরা। বাহাতি কাটারমাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান  উড়িয়ে দেন দানুশকা গুনাথিলাকার স্ট্যাম্প। স্লোয়ার কাটার বুঝতেই পারেননি গুনাথিলাকা। আগে ভাগে শট খেলে ফেলেন। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে উড়িয় দেন স্টাম্প। ১৯ বলে ২৬ রান করে ফিরেন গুনাথিলাকা।

ওয়ান ডাউনে নেমে দুই কুশল এক সঙ্গে গড়েন ৮৫ রানের পার্টনারশিপ।

পরে ১৪তম ওভারে জোড়া আঘাত করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৫৭ রান করা কুশাল মেন্ডিস ও শূন্য রানে শানাকাকে তুলে নেন তিনি।

১৫তম ওভারের শেষ বলে তাসকিন আহমেদ বিদায় করেন দিনেশ চান্দিমালকে। প্রথম দুই ওভারে ৩৩ রান দেওয়া এই পেসার তৃতীয় ওভারে ৭ রান খরচায় উইকেটটি তুলে নেন।

ইনিংসের শেষ ওভারে দলীয় সর্বোচ্চ ৭৪ রান করা কুশাল পেরেরাকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান মুস্তাফিজ। ৪৮ বলে ৮ চার ও দুই ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান পেরেরা। পরে ওভারের চতুর্থ বলে নতুন ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরাও মোস্তাফিজের শিকার হন। উপল থারাঙ্গা ৩২ ও জীবন মেন্ডিস ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট পান মুস্তাফিজ। দুটি উইকেট দখল করেন রিয়াদ। আর একটি উইকেট পান তাসকিন।

 

 

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে