ফ্রান্স দলে আফ্রিকান কেন, বিতর্কে ম্যারাডোনা

  স্পোর্টস ডেস্ক

১০ জুলাই ২০১৮, ১০:৫৭ | আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৮, ১৪:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জেতার সময় ধরেই একর পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছেন দেশটির কিংবদন্তি খেলোয়াড় দিয়েগো ম্যারাডোনা। কখনও দেশটির জাতীয় দল নিয়ে আবার কখনও বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে নিয়ে। সমালোচনা করতে ছাড়েননি সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলেকে নিয়েও।

রাশিয়া বিশ্বকাপ আসরে আসার আগে থেকেও নানা বিতর্কের কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। শেষবার তার বিতর্কের খাতায় ছিল ইংল্যান্ড। নকআউট পর্বের দেশটির বিপক্ষে খেলেছে কলম্বিয়া। মস্কোয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড।

সেখানেও সমালোচনা করে বিতর্ক বাঁধিয়েছিলেন দিয়েগো। ম্যাচটিতে নানা ধরণের অসংগতি তুলে ধরেছিলেন তিনি। এমনকি ম্যাচে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারিকে নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন আলবি সেলেস্তেদের ফুটবল ঈশ্বর। বিনিময়ে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার তিরস্কার।

তবে এত কিছুর পরও শোধরাননি কালের মহাতারকা। আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেনে নিজ মহিমায়। এবার তার সমালোচনার তীরে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমি ফাইনালিস্ট ফ্রান্স। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে নামবে দলটি। কিন্তু তার আগেই ম্যারাডোনার তীরে বিদ্ধ হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।

ফ্রান্সে আফ্রিকার মোট ১১টি দেশের বংশোদ্ভূত ফুটবলার রয়েছেন। আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, কঙ্গো, সেনেগাল, নাইজেরিয়ার ফুটবলারদের নিয়েই ফ্রান্সের জাতীয় দল। দলের সেরা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সে তাকে নিয়ে দারুণ মাতামাতি। এখানেই সমস্যা ম্যারাডোনার।

তার প্রশ্ন, ফ্রান্স দলে আফ্রিকান কেন? নিজের দেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে জাতীয় দল তৈরি না করে আফ্রিকানদের নিয়ে তারা কেন দল গঠন করল? ওই দেশে কি স্থানীয় খেলোয়াড়দের কমতি আছে নাকি যে ধার করতে হবে?

আফ্রিকার ফুটবলারদের ইউরোপের দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে খেলায় রেগে গিয়ে তিনি আরও বলেছেন, ‘আফ্রিকান ফুটবলারদের ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়। তাতে ফুটবলারদেরও সম্মতি থাকে। এতে ফুটবলাররা উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পায়। নিজেদের প্রমাণের সুযোগ ও দিনে চার বেলা খাবারের নিশ্চয়তা তো আছেই।’

তবে তার এই কথার পিঠে কেউ কথা বলেননি এখন পর্যন্ত। আজ যদি ফ্রান্স জিতে যায় তবে হয়তো ম্যারাডোনার এই কথার জবাব দেবেন এমবাপ্পে।

পল পগবা, কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ ফ্রান্সের ২৩ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জনই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। এমবাপ্পের জন্ম ফ্রান্সে হলেও তার বাবা ক্যামেরুনিয়ান ও মা আলজেরীয়। পল পগবার বাবা-মা আফ্রিকার গিনির বাসিন্দা। ফুটবল মাঠে আফ্রিকার নাইজেরিয়ার শক্তির কথা জানেন ম্যারাডোনা। তাই হয়তো তাদের বিশ্বকাপ জেতার লক্ষণ আঁচ করতে পেরেই কথাগুলো বলেছেন ম্যরাডোনা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে