পরিসংখ্যান বলছে জয় পাবে বেলজিয়াম

  স্পোর্টস ডেস্ক

১০ জুলাই ২০১৮, ১৭:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে আজ সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচটি খেলবে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। ফুটবল বিশ্ব আসরে দ্বিতীয়বার সেমি খেলছে লুকাকুর দল। অন্য দিকে ফরাসিরা খেলছে তাদের ছয় নম্বর সেমফাইনাল। কে জিতবে আজ মহারণে?

পরিসংখ্যান বলছে জয়ের সম্ভাবনা আছে বেলজিয়ামের দলের। কেননা ১৯০৪ সালের মে দিবস থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ৭ জুন পর্যন্ত জয়ের পাল্লাটা বেলজিয়ানদেরেই ভারী বেশি। দুদলের মধ্যে খেলা হয়েছে মোট ৭৩টি ম্যাচ। বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও টুর্নামেন্টসহ এই ম্যাচগুলোতে বেলজিয়ামের জয় ৩০টিতে। ফরাসিরা জয় পেয়েছে মাত্র ২৪ বার। দুদলের ড্র হয়েছে ১৯ বার।

১৯৫৮ সালে প্রথমবার ফুটবলের বিশ্ব আসরে সেমিফাইনাল খেলে ফরাসিরা। তবে ব্রাজিলের কাছে  ৫-২ গোলে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় ফ্রান্স দলের। তবে সেবার বড় এক রেকর্ডে সেমি নিশ্চিত করে ফরাসি দল। দলের অধিনায়ক জাস্ট ফন্টেইনের রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৩ গোলের কল্যাণে শেষ চারে ওঠে ফ্রান্স। তবে সেই ম্যাচে আরও বড় রেকর্ড করেন ব্রাজিলিয় কিংবদন্তী খেলোয়াড় পেলে। এ ম্যাচে হ্যাট্রিক ও দুটি অ্যাসিস্ট গোল আসে তার পায়ের কল্যাণেই।

১৯৮২ সালে আবারও বিশ্বকাপের সেমি খেলে ফরাসিরা। কিন্তু টাইব্রেকারে জার্মানের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় সেবারের ফুটবল বিশ্ব আসর থেকে। ১৯৮৬ সালে আবারও সেমি খেলার সুযোগ পায় ফ্রান্স। কিন্তু সেবারও জার্মান বাধা পেরোতে পারেনি তারা। ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।

১৯৯৮ সালে ফরাসিরা সেমির বাধা কাটিয়ে ওঠে ফাইনালে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম সেবার ছিলেন দলের অধিনায়ক। নিজের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করে শুধু ফাইনালই না শিরোপাটাও জয়ে করে নেন দেশমের ফ্রান্স দল।

দিদিয়ের দেশম এবারও আছেন ফরাসি দলে। সমর্থকরা মনে করছেন ১৯৯৮ এর মত ২০১৮ সালেও দেশম দেশের জন্য জয় করবেন দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের সর্বোচ্চ শিরোপাটি।

তবে শিরোপা নিজের করে নিতে হলে ফরাসিদের পেরুতে হবে বেলজিয়ান বাধা। রাশিয়া আশরে সবচেয়ে পরিনত দল এবার বেলজিয়াম। দলে আছেন বেলজিয়ান সুপারস্টার লুকাকু। মধ্যমাঠ থেকে প্রতিপক্ষের ডি বক্স, আধিপত্তটা লুকারই বেশি।

পাওয়া ফুটবলের আরেক নাম বেলজিয়াম ফুটবল। এ দলের প্রত্যেকটা খেলোয়ার মাঠের প্রতিটি জায়গায় খেলার যোগ্যতা রাখে। রেড ডেভিল খ্যাত বেলজিয়াম এর আগে মাত্র একবার সেমিফাইনাল খেলে ১৯৮৬ সালে। সেবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নেমে দিয়াগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়তে হয় তাদের।

বেলজিয়াম সেমিতে হেরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের বিপক্ষে। শুরু থেকেই পাওয়ার ফুটবল খেলতে থাকে রেড ডেভিলরা। কিন্তু ৪-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। এরপর দুটি বিশ্বকাপে শেষ আটে উঠতে পারেনি বেলজিয়াম।

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ আটের টিকিট কাটে বেলজিয়াম। লুকাকু ছিলেন দলে। কিন্তু বিশ্ব মঞ্চে নতুন লুকাকু তেমন কিছু দেখাতে পারেননি। আলবি সেলেস্তেদের বিপক্ষে এক মাত্র গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় রেড ডেভিলদের। সেবার তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড গঞ্জালো হিগুয়েইন।

বেলজিয়াম দলের প্রাণ ভোমরা লুকাকু ও অধিনায়ক এইডেন হেজার্ড পণ করেছেন বিশ্বকাপ ঘরে নিয়ে যাওয়ার। এ আসরে মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে তারা। বাকি ম্যাচগুলো তারা জিতেছে পাওয়ার ফুটবল খেলেই। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে, বলাই যায় জয় পাবেন লুকুকুরা। কিন্তু ইতিহাস বা পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, রাশিয়া বিশ্বকাপ আসরে ভেঙে গেছে সবই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে