সম্মতিই শারীরিক সম্পর্ক, চুক্তিপত্র জাল, দাবি রোনালদোর আইনজীবীর

  স্পোর্টস ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষণ নয়, বরং সম্মতির ভিত্তিতেই মার্কিন নারী ক্যাথরিন মায়োরগার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন রোনালদো। ৯ বছর আগের ঘটনা ধামাচাপা দিতে দুজনের মধ্যে যে চুক্তিপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘জাল’ বলেও দাবি করেছেন রোনালদোর আইনজীবী পিটার ক্রিস্টিয়ানশেন।

মায়োরগার করা ধর্ষণ মামলায় বিপর্যস্ত রোনালদোর মাঠের বাইরের জীবন।  ধর্ষণের অভিযোগকে বারবার উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা। এবার রোনালদোর হয়ে কথা বললেন তার আইনজীবী। লাস ভেগাসের আইনজীবী পিটারকে গত সপ্তাহে নিজের আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেন রোনালদো।  

এক বিবৃতিতে পিটার জানিয়েছেন,‘সম্মতি ছাড়া মায়োরগার সঙ্গে রোনালদোর শারীরিক সম্পর্কের যে কাগজপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তা পুরোপুরি জাল।’ যাছাই-বাছাই না করেই এসব কাগজপত্র প্রকাশ করে গণমাধ্যম চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় আইনি সংস্থাসহ প্রায় ডজন খানেক সংস্থায় হ্যাকাররা আক্রমণ করে। তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে অনেক তথ্য চুরি হয়ে যায়। হ্যাকাররা এই তথ্যগুলো বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। বর্তমানে গণমাধ্যমগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে চুরি হয়ে যাওয়া তথ্যগুলো প্রকাশ করছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে, অথবা পুরোপুরি জাল।

কী ঘটেছিল সেদিন ?

২৪ বছর বয়সী রোনালদো ২০০৯ সালের ১৩ জুন লাস ভেগাসের পাম হোটেলে দুলাভাই ও খালাতো ভাইদের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। ক্যাথরিন মায়োরগা নামে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ বছর বয়সী এক নারী জানান, ওই দিন তিনি রোনালদোর সঙ্গে হোটেলের ভিআইপি এলাকায় সাক্ষাৎ করেছিলেন। রোনালদো তাকে এবং তার বন্ধুকে স্যুটে আমন্ত্রণ করেছিলেন। স্যুটটি ছিল পাম হোটেলের ৫৭৩০৬ নম্বর কক্ষ। জাঁকজমকপূর্ণ স্যুটটিতে জাকুজির ব্যবস্থাও ছিল।

মায়োরগা বলেন, 'হট টাবে নামতে চাননি। কারণ তিনি চাচ্ছিলেন না তার পোশাক খুলতে। রোনালদো তাকে অফার করে অন্য পোশাক পরতে। বাথরুমে গিয়ে পরিবর্তন করার জন্য বলেছিলেন তিনি।'

কিন্তু আদালতের দেওয়া কাগজপত্রে বলা আছে, যখন মায়োরগা পোশাক পরিবর্তন করছিলেন তখন রোনালদো হাঁটছিলেন তার পাশে এবং তাকে যৌন কাজ করার জন্য অফার করেছিলেন। কিন্তু মায়োরগা অস্বীকৃতি জানিয়ে রোনালদোকে চুমু খেয়েছিলেন যাতে করে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। মায়োরাগার জানান,  রোনালদো  তাকে বেডরুমে টেনে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। তখন মায়োরগাকে রোনালদো বলেন, 'আমি ৯৯ ভাগ ভাল মানুষ, মাত্র ১ ভাগ খারাপ।'

ধর্ষণের প্রথম অভিযোগ :

ক্যাথরিন মায়োরগা অভিযোগ করেন, পর্তুগিজ ফুটবল খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাকে লাস ভেগাসের একটি হোটেলে ধর্ষণ করেছিলেন। জার্মানভিত্তিক ম্যাগাজিন 'দার স্পিজেল' এ খবর প্রকাশ করে।

ধর্ষণের অভিযোগকারী ক্যাথরিন মায়োরগা জানান, এক সন্ধ্যায় লাস ভেগাসে পার্টি করে সময় কাটানোর পর রোনালদো তাকে ধর্ষণ করেন। লাস ভেগাসে তিনি দুলাভাই-খালাতো ভাই বোনদের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।

ম্যাগাজিনটিতে বলা হয়েছে, রোনালদো ওই নারীকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউএস ডলার দিয়েছিলেন এ ঘটনায় মুখ না খোলার জন্য। তবে ফিফার পাঁচবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড় সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ওই নারীর সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল।

দ্বিতীয় অভিযোগ : ক্যাথরিন মায়োরগার আইনজীবী রোনালদোর বিরুদ্ধে আরও এক নারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনলেন। তার কাছে ফোনে তারা অভিযোগ জানিয়েছেন।তবে তিনি এই তিন নারীর পরিচয় প্রকাশ করেননি।

রোনালদোর বক্তব্য :

ধর্ষণের ওই অভিযোগের বিষয়ে টুইটারে রোনালদো লিখেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে আমার প্রতি ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছি। ধর্ষণ খুবই জঘন্য একটি অপরাধ। আমি নিজেও এ ধরনের অপরাধের ঘোরতর বিরোধী। আমি নিজে চাই এই অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে। এমনকি আমার নামে মিডিয়ায় যে সব অভিযোগ উঠে এসেছে এবং মনগড়া বক্তব্য এসেছে,সেই সব কিছুর বিরোধিতা করছি আমি।'

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে