যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বললেন আফগান ফুটবল প্রধান

  অনলাইন ডেস্ক

০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:২৯ | আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

মানহানি করার জন্যই যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান কেরামুদ্দিন করিম। বেশ কয়েকদিন আগে তার বিরুদ্ধে দেশটির তিনজন নারী ফুটবলার যৌন হয়রানির ওই অভিযোগ করেন।

অভিযোগকে অস্বীকার করে কেরামুদ্দিন করিম বলেন, ‘এটা আমার সম্মানহানি করার জন্য একটা চক্রের কারসাজি। এসব অভিযোগ আমি অস্বীকার করছি। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তিই নেই। শুধুমাত্র পরিচয় না দিতে চাওয়া, চেহারা না দেখতে পাওয়া কয়েকজনের কণ্ঠস্বর এই অভিযোগ তুলেছে আমার দিকে। এতে কোনো কিছু প্রমাণ হয় না।’

এদিকে এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত করিম কেরামুদ্দিনসহ অভিযুক্ত আরও চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল।

এমনকি যৌন হয়রানির এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেরামুদ্দিন করিমকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও।

কেরামুদ্দিন করিম বলেন, ‘যারা এসব অভিযোগ করছে, তারা আফগানিস্তান ছেড়ে ইউরোপে থাকতে চায়, বাইরের বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের, আমাদের ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়। এমন শত্রু আফগানিস্তানের ভেতরে ও বাইরে ছড়িয়ে আছে অনেক।’

যৌন হয়রানির এসব অভিযোগের প্রভাব তার ব্যক্তিগত জীবনের পড়ছে বলে জানিয়েছেন কেরামুদ্দিন করিম। তিনি বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্ত করে দেখবেন এসব অভিযোগের সত্যতা আদৌ আছে কি নেই। একজন স্বামী হিসেবে, একজন পিতা হিসেবে অনেক যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি আমি।’

এ দিকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষী হিসেবে বের হওয়া ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটি নারী ফুটবল দলের সাবেক সহকারী কোচ হেলি কার্টার।

তিনি বলেন, ‘নারী খেলোয়াড়েরা তাদের অভিযোগ আমাকে জানিয়েছে, অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণও দেখিয়েছে আমাকে। তাই করিম যদি মনে করে থাকেন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, সেটা হাস্যকর।’

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে তিনজন নারী ফুটবলার দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান কেরামুদ্দিন করিমের বিরুদ্ধে এই যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তারা এ বিষয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে জানান, তারা যৌন হয়রানির শিকার। ফেডারেশন প্রধান তাদের হুমকি দিয়েছিলেন এই বলে যে, এসব কথা ফাঁস করলে জীবনশঙ্কায় পড়তে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবার পরিবার।

একজন নারী ফুটবলার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘করিমের অফিসের মধ্যে গোপন শয়নকক্ষে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন তিনি, খেয়েছেন ঘুষিও। আরেকজনের অভিযোগ, করিম তার ঘাড় ও ঠোঁটে চুমু দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে সমকামী আখ্যা দিয়ে দল থেকেই বাদ দিয়ে দিয়েছেন! আরেকজনের অভিযোগ, করিম তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে চেয়েছেন।

অভিযুক্ত কেরামুদ্দিন করিম আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশটার একজন রাজনীতিকও বটে। আফগানিস্তানের পাঞ্জশির এলাকার গভর্নর ছিলেন তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে