জার্মানির সাফল্যের রহস্য সেরাদের বিশ্রাম নেই

  মস্কো থেকে প্রতিনিধি

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

বেস্ট নেভার রেস্টÑ সেরাদের বিশ্রাম নেই। এই কথাটি জার্মানির ফুটবলদর্শন। জাতিগতভাবেও জার্মানরা থেমে থাকেনি। ইউরোপের দৈত্যখ্যাত দেশটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ফুটবলে তো বটেই। জার্মানরা আসলে বোঝাতে চেয়েছে ভালোর কোনো শেষ নেই। চিন্তা আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এগিয়ে যেতে হয়। পরিশ্রম করে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন।

২০১৪ সালে মারাকানার ফাইনালে আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত মারিও গোটশের সেই গোলে হেরে যায়। জার্মানি চতুর্থবারের মতো শিরোপা জয় করে। আজ শুরু হলো আরও একটি বিশ্বকাপ। এবার শিরোপা ধরে রাখার লড়াই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ‘ধরে’ রাখার লড়াই বেশ কঠিন। এ কাজটা একবারই করেছে ব্রাজিল। ১৯৫৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ১৯৬২ সালে শিরোপা ধরে রাখে। এরপর ইতিহাসে কোনো দল টানা দুইবার শিরোপা জয় করতে পারেনি। ৫৬ বছর আগে ব্রাজিল যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে, জার্মানির সামনে এখন সেই সম্ভাবনা।

সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি মস্কোয়। সেই সঙ্গে দমকা বাতাসের উল্লাস। এই রুদ্র প্রকৃতির মাঝেই জার্মানি বিশ্বকাপের দেশে চলে এসেছে। ম্যানুয়েল নয়্যারও আছেন এই দলে। তাদের বৃষ্টি¯œাত এমন আগমন কিসের ইঙ্গিত। তা অবশ্য সময়ের কোঠায় তুলে রাখা যাক। আপাতত জার্মানির কথায় ফিরে আসা যাক। প্রধান কোচ জোয়াকিম লো অনেকটা ভাবলেশহীন; জার্মানরা এমনই। আর লো তো জার্মানির প্রতিভূ। তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। জার্মানি যখন ব্রাজিলের মাটিতে শিরোপা জেতে, তখনও উচ্ছ্বাসে ভেসে যাননি। এবারও তিনি বলেছেন, আমরা শিরোপার কথা মাথায় আনছি না। চাপ নিতে চাইছি না। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ হোক। তারপর ভাবা যাবে। ম্যাচের পর চিন্তা-ভাবনা করে চলা উচিত। তবে পুরোপুরি প্রস্তুত। পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাস্তবায়ন করতে পারলে ম্যাচে ৭০ শতাংশ জায়গায় আমাদের ফল আসবে।

২০১৭ সালে জার্মানি এই রাশিয়ায় কনফেডারেশনস কাপ খেলতে আসে। যে দেশে বিশ্বকাপ থাকে, তার আগের বছর প্রস্তুতি হিসেবে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। জার্মানি একেবারে বলা চলে নতুন ও তরুণ একটি দল নিয়ে ওই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ওই দলের বেশিরভাগেরই নাম অনেকে জানত না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে তারা চিলিকে হারিয়েছিল। জার্মানি এ বিশ্বকাপে যে দল নিয়ে এসেছে সেটাকে মিশ্র শক্তির দল বলা যেতে পারে। জার্মানি দুটি দল করেছে। এর মানে প্ল্যান ‘এ’ ও প্ল্যান ‘বি’ কাজ করবে এখানে। ফলে এই জার্মানি প্রতিটি দলের কাছেই ধাঁধাঁর মতো।

ম্যানুয়েল নয়্যার ইনজুরিতে পড়েছেন। বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি সুস্থ। এ ছাড়া জার্মান দলে আরও দুজন ভালো গোলরক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে উলরিখ তো বিশ্বমানের গোলকিপার। জার্মানির সবচেয়ে শক্তির জায়গা মিডফিল্ড। আর সেখানে রয়েছেন টনি ক্রুস। গতবার ক্লোসা জাদু দেখিয়েছিলেন। এবার মুলার ও মার্কো রয়েসের ওপর এ দায়িত্ব।

বিশ্বকে অবাক করাই হচ্ছে জার্মানির কাজ। এই যেমনÑ মারিও গোটশেকে তারা দলেই রাখেনি। গোটশে গত ফাইনালে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। ফলে এই জার্মানি যে দল নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। বিশ্বকাপে জার্মানি গ্রুপ ‘এফ’-এ রয়েছে। এই গ্রুপের অন্য দলগুলো হচ্ছেÑ মেক্সিকো, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া। ১৭ জুন জার্মানির প্রথম ম্যাচ মস্কোর লুজনিকিতে। সেখানে তারা লড়বে মেক্সিকোর সঙ্গে।

জার্মানি ইতিহাসে ব্রাজিলের পাশে দাঁড়াতে পারে কিনা সময়ই বলবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে