পা মাটিতেই রাখছেন সালাহ

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

আপনি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবেন। কতটা রোমাঞ্চ অনুভব করছেন?

মোহামেদ সালাহ : বিশ্বকাপের অংশ হতে পেরেছি। অনেক বেশি রোমাঞ্চিত। বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটা ফুটবলারেরই স্বপ্ন। ১৯৯০ সালের পর আমরা আবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। দলের প্রত্যেকেই খুবই আনন্দিত।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অপ্রত্যাশিত চোট পেয়েছিলেন। আপনার তো বিশ্বকাপে খেলা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছিল...

মোহামেদ সালাহ : চোট পাওয়াটা ছিল অপ্রত্যাশিত। যাই হোক, আমি দলের সঙ্গে রাশিয়া এসেছি এবং বিশ্বকাপে খেলব। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং আমার স্বপ্নকে সত্যি করতে সহায়তা করেছেন।

গ্রুপ পর্বে আপনাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক রাশিয়া, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। কী মনে হয়?

মোহামেদ সালাহ : সত্যি বলতে কী আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। আমরা শুধু আমাদের সেরাটা দিতে চাই। আমাদের খুব ভালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যদি আমরা তা করতে পারি তা হলে ভালো কিছুই হবে। পাশাপাশি খেলাটা উপভোগ করতে হবে এবং মজাও করতে হবে।

আপনাদের প্রথম ম্যাচ উরুগুয়ের বিপক্ষে। এই দলটি এবারের বিশ্বকাপে অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এসেছে...

মোহামেদ সালাহ : উরুগুয়ে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। তারা ২০১০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। এই দলটিতে লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানির মতো বিখ্যাত খেলোয়াড় আছেন। তারা প্রতিপক্ষকে ছেড়ে কথা বলবে না। কোনো সুযোগও দেবে না। আমরা জানি আমাদের জন্য ম্যাচটা সহজ হবে না। তবে আমরাও প্রস্তুত। আমরা যদি গোল করতে পারি তা হলে আমাদের ডিফেন্স ভাঙাটাও ওদের (উরুগুয়ে) জন্য সহজ হবে না।

সমালোচকরা বলছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো তারকা হয়ে আপনি এই বিশ্বকাপে এসেছেন...

মোহামেদ সালাহ : আপনি যাদের নাম বলছেন, তারা সবাই কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য পেলেই কেবল আমি তাদের কাতারে নাম লেখাতে পারব। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ইউরোপিয়ান ফুটবলে আমি পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছি। এটা আমি আরও কয়েক বছর নিয়মিত করতে চাই। ওরা ইতোমধ্যে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। মেসি, রোনালদো এবং নেইমার এসেছেন কাপ জয়ের মিশন নিয়ে। ইনিয়েস্তা তার মুকুটে আরেকটি অর্জনের পালক যোগ করতে চান। ২০১০ সালের মতো আবার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য তার। আমি আমার বিশ্বকাপ অভিষেক নিয়ে ভাবছি। আপনি কখনই মেসি, রোনালদো, নেইমার, ইনিয়েস্তার মতো জীবন্ত কিংবদন্তির পাশে আমার নাম বসাতে পারেন না!

২০২৬ বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকায়

ক্রীড়া ডেস্ক ষ

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার গৌরব লাভ করেছে উত্তর আমেরিকা। এই মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে এটি আয়োজন করবে। গতকাল রাশিয়াতে ফিফার ৬৮তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০৭ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সদস্যের ভোটে (১৩৪-৬৫) আফ্রিকার দেশ মরক্কোকে পেছনে ফেলে আয়োজক হওয়ার কৃতিত্ব দেখায় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো।

২০২৬ বিশ্বকাপ হবে নতুন আঙ্গিকে। যেখানে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৩২টি দেশ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও থাকছে ৩২ দেশই। কিন্তু ২০২৬ সালে গিয়ে দলের সংখ্যা বেড়ে যাবে আরও ১৬টি। আর এই দিকটিই মূলত মরক্কোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। কারণ এতগুলো দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবেÑ তাদের থাকা, খাওয়া, যাতায়াত, নিরাপত্তার দিকগুলো মাথায় রাখতে হবে। এর বাইরে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি সামনে চলে এসেছে সেটি ভেন্যু। ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মরক্কোতে সেই পরিমাণ এবং মানের স্টেডিয়াম নেই। ২০২৬ সালের আগে এতগুলো ভেন্যু তৈরি কিংবা সংস্কার করা এবং একই সঙ্গে এর জন্য যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হবে সেসব মরক্কোর জন্য বেশ কষ্টসাধ্যই! সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোতে অনেক স্টেডিয়াম তৈরি হয়েই আছে। ওই তিন দেশে অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামই শুধু নয়, যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো। তবে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুর দূরত্ব কিছু বেশি এই যা। সেটিও কাল নিলামে আলোচিত হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতি নিয়েও কথা উঠেছে। তবে ফুটবল আর রাজনীতিকে এক করে না দেখারই পরামর্শ ছিল ফিফা কংগ্রেস থেকে। আয়োজক হওয়ার ক্ষেত্রে কোন দেশটি ভালো হবে সেটি বিবেচনায় রেখেই সদস্যদের ভোটদানের আহ্বান করা হয়।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। ফিফার সাবেক সভাপতি সুইজারল্যান্ডের সেপ ব্লাটারকে ঘুষ প্রদান করেই নাকি আয়োজক হয়েছিল কাতারÑ এমন খবর গণমাধ্যমে আসে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে ফিফা প্রেসিডেন্টের পদ হারান ব্লাটার। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন ইতালির জিওভান্নি ইনফান্তিনো। ফিফা প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতেই কাল উত্তর আমেরিকার তিন দেশকে আয়োজক হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ছিল যেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আয়োজক নির্বাচিত হয়। সদস্যরা যেন ‘মেরিট’ বিবেচনায় আয়োজক নির্বাচন করে। ২০২২ বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু সেবার কাতারের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তবে ২০২৬ সালের আয়োজক হয়ে আগেরবারের কষ্ট লাঘব হলো দেশটির! দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের ১৬তম আসরের আয়োজক ছিল দেশটি। সেবার এককভাবে আয়োজন করলেও ২০২৬ সালে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র।

এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো কপাল পুড়ল মরক্কোর। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু শিকে ছেঁড়েনি। ছিঁড়ল না এবারও।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে